দৈনিক আদ্যোপান্ত

শিক্ষাঙ্গন

ঋণের চাপে কলেজশিক্ষকের আত্মহত্যা

ঋণের চাপে কলেজশিক্ষকের আত্মহত্যা

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কলেজশিক্ষক শৈলেন্দ্র কুমার চৌধুরী মানিক (৫৬), আর্থিক দারিদ্র্য ও ঋণের চাপে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।মানিক ২০০৩ সালের ২৩ মার্চ কালিকাপুর‑বনপাড়া কৃষি ও কারিগরি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক সাধারণ শাখার পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। কলেজের কারিগরি শাখা এমপিওভুক্ত হলেও সাধারণ শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তিনি সরকারি বেতন‑ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ফলে তিনি দীর্ঘদিন বিনা বেতনে পাঠদান চালিয়ে গেছেন।বছরের পর বছর বেতন‑বিহীন অবস্থায় সংসারের খরচ মেটাতে তিনি ধার‑দেনা বাড়িয়ে চলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ঋণ পরিশোধের জন্য নিজের শেষ সম্পদ—বাড়ি‑ভিটাও বিক্রি করে দেন এবং স্ত্রী ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতে বাধ্য হন। ধারদাতাদের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং আর্থিক সংকট তাকে চরম হতাশায় ঠেলে দেয়।সোমবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যের অনুপস্থিতিতে তিনি ভাড়া বাসায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তার মৃত্যু ঘটে।সহকর্মী নন‑এমপিওভুক্ত প্রভাষক সোহেল রানা মন্তব্য করেন, "দুই দশক ধরে বিনা বেতনে সেবা দেওয়ার পরও রাষ্ট্র শিক্ষকের ন্যূনতম জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।"বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান জানান, এই ঘটনার জন্য থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে এবং মৃতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।এই দুঃখজনক ঘটনা শিক্ষাক্ষেত্রে বেতন‑ভাতা ও আর্থিক সুরক্ষার অভাবের গুরুতর পরিণতি তুলে ধরেছে, যা নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি।

জাবি উপাচার্যকে উদ্ধার করল ছাত্রদল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট (আইসিএলসি) নতুন পরিচালক নিয়োগকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান দিক, উপাচার্য মো. নূরুল ইসলাম, এবং কয়েকজন কর্মকর্তাকে আটকিয়ে দেন কিছু শিক্ষার্থী।বুধবার সন্ধ্যা ছয়টায় ঘটনার সূচনা হয়। বিকেল সাড়ে চারটায় ২০-২৫ জন আইসিএলসি শিক্ষার্থী নতুন পরিচালক হিসেবে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে নিয়োগের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। একই সময়ে নতুন প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে সিন্ডিকেট সভা চলছিল; সভা শেষের পর উপাচার্য বেরিয়ে দেখেন দরজা তালা দিয়ে বন্ধ।শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা দ্রুতই মিছিল গঠন করে ভবনের সামনে অবস্থান নেন, স্লোগান শোনিয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলেন। পরবর্তীতে তারা তালা ভেঙে উপাচার্য ও অন্যান্য কর্মকর্তাকে মুক্ত করেন। ছাত্রদল দাবি করে যে, ইনস্টিটিউটে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অন্য বিভাগ থেকে পরিচালক নিযুক্ত করা হয়েছে, ফলে তারা নিজেদের শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবি জানিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়।ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল হাক হামীম নতুন নিয়োগকে বিধিমালার পরিপন্থী বলে আপত্তি জানান। তবে শাখা ছাত্রদলের কিছু সদস্য হামীমকে স্বৈরাচারী বলে সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট করেন, যা বিষয়টি আরও তীব্র করে।ঘটনার পর উপাচার্য নূরুল ইসলাম মিডিয়ার সঙ্গে বলেন, "মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হলে তারা আমার সঙ্গে কথা বলতে পারে, তবে রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।" তিনি আরও জানিয়ে দেন, "তালা দেয়া ও তার পেছনে থাকা শিক্ষক-স্টাফকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।"শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর দাবি করেন, "আমরা তালা ভাঙিনি; সাধারণ শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙেছে। আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম, কিন্তু তালা ভাঙা কাজের দায়িত্ব অন্যদের।"এই ঘটনার পেছনে মূল বিষয় হল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের প্রশ্ন। আইসিএলসি শিক্ষার্থীরা এখনো তাদের দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে, আর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জাবি উপাচার্যকে উদ্ধার করল ছাত্রদল

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে টানা ৩ দিন

চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে দেশের স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা টানা তিন দিনের ছুটি পেতে চলেছে। ন্যাশনাল রেভলিউশন ও সংহতি দিবস (শনিবার, ৭ নভেম্বর) এবং হিন্দু ধর্মের শ্যামাপূজা (রোববার, ৮ নভেম্বর) সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার, ৬ নভেম্বর) যুক্ত হওয়ায় এই বিরতি সম্ভব হয়েছে।ছুটির সূচি অনুযায়ী, শনিবার ও রোববার উভয় দিনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এর আগে শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মোট তিন দিন বিশ্রাম নিতে পারবেন। ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রকাশিত ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজা উপলক্ষে সরকারি ও এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাশাপাশি বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও কারিগরি পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে।তবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই ছুটির আওতায় নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব ছুটির তালিকা ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুসারে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজা সংক্রান্ত কোনো ছুটি উল্লেখ নেই। তদুপরি, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের তালিকায় শ্যামাপূজা ছুটির উল্লেখ না থাকায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এই ছুটি পাবে না।সারসংক্ষেপে, দেশের অধিকাংশ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৬-৮ নভেম্বর বন্ধ থাকবে, তবে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা এই ছুটিতে কাজ চালিয়ে যাবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য এই বিরতি পরিকল্পনা করে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে টানা ৩ দিন

শিক্ষা ক্যাডারে সাফল্য, সরকারি এমএম কলেজে যোগ দিচ্ছেন সোহাগ

যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের কৃতী সন্তান ওবায়দুর রহমান সোহাগ ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক (ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তিনি যশোরের সরকারি এমএম কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর এ সাফল্যে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক, বন্ধু ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। সোহাগের এ অর্জনকে স্বাগত জানাতে বাগডাঙ্গা গ্রামের বাবু বাজারে ফুলেল শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিক মহব্বত আলীর তত্ত্বাবধানে স্থানীয় যুবসমাজের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। এ সময় তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও কর্মজীবনের সফলতা কামনা করা হয়। ওবায়দুর রহমান সোহাগ বাগডাঙ্গা গ্রামের খামারপাড়ার প্রয়াত নুর ইসলামের সন্তান। গ্রামের সাধারণ পরিবেশে বেড়ে উঠে মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। সোহাগের শিক্ষাজীবন শুরু হয় মধ্য বাগডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর মধ্য বাগডাঙ্গা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন তিনি। ২০১০ সালে ঝাউদিয়ার মুনশী মেহেরুল্লাহ একাডেমি থেকে এসএসসি এবং ২০১২ সালে যশোরের নিউ মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ থেকে ২০১৭ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বিসিএস ক্যাডারে যোগদানের আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনের পাশাপাশি বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি। ফুলেল শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করে ওবায়দুর রহমান সোহাগ বলেন, তাঁর এ অর্জনের পেছনে পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অবদান রয়েছে। শিক্ষকতা একটি মহান দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। পাশাপাশি দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান। সাংবাদিক মহব্বত আলী বলেন, বাগডাঙ্গার মাটি থেকে উঠে এসে সোহাগের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে সাফল্য পুরো এলাকার জন্য গর্বের। তাঁর এ অর্জন এলাকার তরুণ প্রজন্মকে উচ্চশিক্ষা ও বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে। এলাকাবাসী কৃতী সন্তান ওবায়দুর রহমান সোহাগের নতুন কর্মজীবনের সাফল্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ

শিক্ষা ক্যাডারে সাফল্য, সরকারি এমএম কলেজে যোগ দিচ্ছেন সোহাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল, উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচার, উপাচার্য-প্রক্টরের পদত্যাগ ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও ছাত্রদলের নেতাদের একটি প্ল্যাটফর্ম ‘সন্ত্রাস বিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’।শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর থেকে বের হয়ে মশাল মিছিলটি কলাভবন, হলপাড়া, রেজিস্ট্রার ভবন ঘুরে ভিসি চত্বরে এসে শেষ হয়।এ সময় ‘সাম্য হত্যার বিচার চাই’, ‘ভিসি প্রক্টরের অনেক গুণ, নয় মাসে দুই খুন’, ‘আমার ভাই কবরে, প্রক্টর কেন চেয়ারে’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া দেন মিছিলকারীরা।১৩ মে রাত ১১টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছুরিকাঘাতে আহত হন সাম্য। রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পরদিন সকালে সাম্যের বড় ভাই শরীফুল আলম শাহবাগ থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।সাম্য হত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে।এতে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করছেন তারা। একই সঙ্গে কিছু কিছু বিষয়ে আরও স্বচ্ছতার জন্য আসামিদের পুনরায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই হত্যার কারণ উদঘাটন ও আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মশাল মিছিল, উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি

নিয়ম ভেঙে জাবির ছাত্র হলে ছাত্রীর প্রবেশ

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছড়িয়ে পড়া ছবিতে ছাত্রীর সঙ্গে থাকা ছাত্ররা হলেন- এফএম প্রত্যয়, আমিনুল ইসলাম, সামিদুল ইসলাম এবং মো. রাশেদ। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ ব্যাচের (২০২২-২৩ সেশন) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী।ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, ছাত্রীসহ তার দুই ছেলে বন্ধু একটি চৌকির উপর বসে আছেন। তাদের পেছনে একজন চৌকিতে শুয়ে আছেন। আরেকজন একটু সামনে এগিয়ে সেলফি তুলেছেন।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮-এর হল সংক্রান্ত বিধিমালার (ভ) এর (২) এ উল্লেখ করা আছে- ‘ছাত্রদের হলে প্রভোস্টের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো ছাত্রী/নারী প্রবেশ করতে পারবে না।’এছাড়া অধ্যাদেশের চতুর্থ ধারায় শাস্তি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের (ঘ)-তে বলা হয়েছে- ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গ কিংবা অসদাচরণের জন্য একজন হল প্রভোস্ট তার হলের ছাত্র/ছাত্রীকে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার অথবা সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা জরিমানা করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় অথবা বহিষ্কারাদেশকে পর্যাপ্ত মনে না করলে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি উপাচার্যের নিকট প্রেরণ করবেন।’খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ছাত্রী প্রাধ্যক্ষের অনুমতি ছাড়াই ছাত্র হলে প্রবেশ করেছেন। এছাড়া ছবিতে থাকা অন্য ছাত্ররাও এ বিষয়ে কোনো অনুমতি নেননি। তবে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি গত বছরের অক্টোবর মাসের বলে দাবি করেছেন ছবিতে থাকা ব্যক্তিরা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছবিতে থাকা শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের। তখন নজরুল হল সদ্য চালু হয়েছে। আমরা নতুন রুমে উঠেছিলাম, তাই আমাদের এক বান্ধবীকে রুম দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম। ছবিটি তোলা হয়েছিল হলের ৫২৭ নম্বর কক্ষের পঞ্চম তলায়।ছবিতে থাকা ছাত্রী বলেন, ছবিটি অনেক আগের। সম্ভবত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসের। তখন কাজী নজরুল ইসলাম হলটি অফিসিয়ালি চালু হয়নি। এমনকি হলে কোনো নিরাপত্তা প্রহরীও ছিল না। অনেকেই তখন হলে গিয়ে ছবি তুলেছিল। আমি সেদিন বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিলাম, কিছুক্ষণ থেকে চলে এসেছি। আমার সঙ্গে আরও ৭-৮ জন বন্ধু ছিল; কিন্তু এখন হঠাৎ করে পুরোনো একটি ছবি ভাইরাল করে আমাকে টার্গেট করা হয়েছে। এটা এক ধরনের ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে করা হয়েছে বলেই আমি মনে করি। কেন হঠাৎ করে এখন এই ছবি ছড়ানো হলো, সেটা আমার জানা নেই।

নিয়ম ভেঙে জাবির ছাত্র হলে ছাত্রীর প্রবেশ

২ দফা দাবিতে আন্দোলনের ডাক এসএসসির ফল প্রত্যাশীদের

তাদের দুই দফার প্রথমটি হলো- লিখিত (তত্ত্বীয়) ও বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষার নম্বর একসঙ্গে যোগ করে পাস-ফেল ও জিপিএ হিসাব করা এবং দ্বিতীয় দাবি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা (ফল প্রকাশের কিছুদিন পরই ফেল করা বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া) চালু করা।চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের লিখিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত ১৩ মে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পার না হতেই আন্দোলনে নামছে যাচ্ছে তারা।দুই দফা দাবিতে আগামী রোববার (২৫ মে) শিক্ষা ভবনের (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) সামনে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।দাবি-দাওয়ার সঙ্গে একমত পোষণকারী রাজধানীর একটি স্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, ২০১৮ সালের আগে এসএসসিতে আলাদা আলাদা পাশ মার্কস ছিল না। এখন লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলেও এমসিকিউতে ফেল করলে তাকে ফেল দেওয়া হয়। এটা আমরা চাইছি না। আমরা চাই, দুইটা (লিখিত ও এমসিকিউ) মিলিয়ে পাশ-ফেল হিসাব করা হোক।সে আরও বলেছে, আমরা ২৫ মে সমাবেশ করব। শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি-দাওয়া জানাব। আশা করছি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে এবার এসএসসির ফল প্রকাশ করবে।গত ১০ এপ্রিল এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। এতে অংশ নিতে ফরম পূরণ করেন ১৯ লাখ ২৮ হাজার ২৮১ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত ১৩ মে।

২ দফা দাবিতে আন্দোলনের ডাক এসএসসির ফল প্রত্যাশীদের

ক্যাম্পাস ছাড়ছেন জাবি শিক্ষার্থীরা

বাড়ির উদ্দেশ্যে হল ছাড়ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী বিপুল রায়হান। দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সারা বছর ক্লাশ-পরীক্ষা আর অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে দম ফেলার সময় পাই না। ঈদ আর গরমের ছুটি মিলিয়ে এবার বাড়ি গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারব, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে।৫৩ ব্যাচের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া রহমান বলেন, এই প্রথম ঈদে এত লম্বা ছুটি পাচ্ছি। বন্ধুদের সঙ্গে বিদায় নিতে খারাপ লাগলেও পরিবারের কাছে যাওয়ার আনন্দটাই বেশি।গত ১৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবিএম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রীষ্মকালীন ও পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসসমূহ আগামী ২২ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।ছুটিতে হল বন্ধ থাকবে কিনা? জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, এবার হল ভ্যাকেন্ট দেওয়া হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সন্ধ্যা ৬টার পর কাউকে হলের বাইরে অবস্থান করতে নিষেধ করা হতে পারে।হল খোলা থাকলে ডাইনিং ও ক্যান্টিন খোলা থাকবে কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডাইনিং বন্ধ থাকবে তবে ক্যান্টিনের পরিচালক চাইলে ক্যান্টিন খোলা রাখতে পারবেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহম্মদ কামরুল আহসান জানান, যারা বিশেষ কারণে হলে অবস্থান করবেন, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সেবার ব্যবস্থা রাখা হবে।

ক্যাম্পাস ছাড়ছেন জাবি শিক্ষার্থীরা