দৈনিক আদ্যোপান্ত

জাতীয়

ঋণের চাপে কলেজশিক্ষকের আত্মহত্যা

ঋণের চাপে কলেজশিক্ষকের আত্মহত্যা

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কলেজশিক্ষক শৈলেন্দ্র কুমার চৌধুরী মানিক (৫৬), আর্থিক দারিদ্র্য ও ঋণের চাপে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।মানিক ২০০৩ সালের ২৩ মার্চ কালিকাপুর‑বনপাড়া কৃষি ও কারিগরি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক সাধারণ শাখার পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। কলেজের কারিগরি শাখা এমপিওভুক্ত হলেও সাধারণ শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তিনি সরকারি বেতন‑ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ফলে তিনি দীর্ঘদিন বিনা বেতনে পাঠদান চালিয়ে গেছেন।বছরের পর বছর বেতন‑বিহীন অবস্থায় সংসারের খরচ মেটাতে তিনি ধার‑দেনা বাড়িয়ে চলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ঋণ পরিশোধের জন্য নিজের শেষ সম্পদ—বাড়ি‑ভিটাও বিক্রি করে দেন এবং স্ত্রী ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতে বাধ্য হন। ধারদাতাদের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং আর্থিক সংকট তাকে চরম হতাশায় ঠেলে দেয়।সোমবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যের অনুপস্থিতিতে তিনি ভাড়া বাসায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তার মৃত্যু ঘটে।সহকর্মী নন‑এমপিওভুক্ত প্রভাষক সোহেল রানা মন্তব্য করেন, "দুই দশক ধরে বিনা বেতনে সেবা দেওয়ার পরও রাষ্ট্র শিক্ষকের ন্যূনতম জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।"বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান জানান, এই ঘটনার জন্য থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে এবং মৃতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।এই দুঃখজনক ঘটনা শিক্ষাক্ষেত্রে বেতন‑ভাতা ও আর্থিক সুরক্ষার অভাবের গুরুতর পরিণতি তুলে ধরেছে, যা নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি।

শ্রমিক আন্দোলনে আজও উত্তপ্ত গাজীপুর, টিয়ার শেল ছুড়লো পুলিশ

গাজীপুরের গাছা থানার সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা‑ময়মনসিংহ মহাসড়কে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে।বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নিলেন, ফলে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শ্রমিকদের ইট‑পাটকেল নিক্ষেপের মুখে গুলি চালালেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।গাজীপুর শিল্প পুলিশের এসপি মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানিয়েছেন, সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল, তবে সাড়ে ৯টার দিকে গাছা থানার সাইনবোর্ড এলাকায় ২ থেকে ৪ হাজার শ্রমিক সড়কে সমাবেশ করেন। এ মুহূর্তে শ্রমিক‑পুলিশের ধাওয়া‑পাল্টাধাওয়া ঘটেছিল এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপের মাধ্যমে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ।তিনি আরও জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় জয়দেবপুর এলাকায়ও শ্রমিকের সমাবেশ ছিল, যা থেকে তাদেরও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সালনা, রাজেন্দ্রপুর, শফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক, তবে কাশিমপুরে কিছুটা উত্তেজনা রয়ে গেছে, ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

শ্রমিক আন্দোলনে আজও উত্তপ্ত গাজীপুর, টিয়ার শেল ছুড়লো পুলিশ

সন্ত্রাসী গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার দখলে খুলনা শহর

খুলনা মহানগরী এবং পুরো জেলায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের শৃঙ্খলাবদ্ধ হিংসা নাগরিকদের জীবনকে আতঙ্কে ডুব দিয়েছে। বাবা, মা, স্বামী, ভাই‑বোন—প্রতিটি পরিবারের শোকের কারণ এখন শহরের গলিতে গুলি, গণপিটুনি এবং ভয়াবহ অপরাধ।তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে খুলনা মহানগরীসহ জেলায় মোট ৭৫টি গুলি ও গণপিটুনি সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে ৩৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে। কেএমপি (খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ) জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে একজন, ফেব্রুয়ারি মাসে চারজন, মার্চে চারজন, এপ্রিলের দুইজন, মে‑জুনে প্রত্যেকে তিনজন, জুলাই‑আগস্টে মোট আটজন, সেপ্টেম্বর‑অক্টোবর‑নভেম্বর মাসে মোট বারোজনের মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে চারটি হত্যাকাণ্ড ঘটছে। একই সময়ে ১৫৯ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পুলিশের তালিকায় বর্তমানে ২২টি সন্ত্রাসী সংগঠন ও কিশোর গ্যাং রয়েছে। প্রধান গ্যাংগুলো হল ‘বি’ কোম্পানি (রনি চৌধুরী/বাবু চৌধুরী/গ্রেনেড বাবু নেতৃত্বে), আশিক বাহিনী, নূর আজিম গ্রুপ, গোল্ডেন বয়েজ, টিপসি বয়েজ, কিং অব রূপসা, পলাশ গ্রুপ, হুমা বাহিনী, ডেঞ্জার বয়েজ, টেঙ্কি শাওন গ্রুপ, আরমিন গ্রুপ, শাকিল গ্রুপ, নাসিম গ্রুপ, সেভেন স্টার, নাইন্টিন বয়েজ, ব্লাড বয়েজ, ব্ল্যাক ঈগল, ডার্ক নাইটস, সিন্ডিকেট, চিংড়ি পলাশ গ্রুপ এবং রকি গ্রুপ। এই গ্যাংগুলো মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের জন্য একে অপরকে হত্যা করে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে দমবন্ধ হয়ে পড়েছে।কেএমপি সূত্রে বর্তমানে ১৫ জন শীর্ষ সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত, যাদের মধ্যে কিছু কারাগার থেকে বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে। ‘বি’ কোম্পানির শীর্ষ নেতা রনি চৌধুরী (বাবু চৌধুরী, গ্রেনেড বাবু) ভারতের বোম্বে বা মালয়েশিয়া থেকে নির্দেশনা পাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়। গ্রেনেড বাবুর মাদক বিক্রির আয় দিনে অর্ধ কোটি টাকারও বেশি, যা তাকে অপরাধের শীর্ষে রাখে। কয়েক মাস আগে শামসুর রহমান রোডে গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার বাবা মিন্টু চৌধুরীসহ দুই‑তিনজন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রায় ৪০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়।হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি চাঁদাবাজি শহরে ছড়িয়ে রয়েছে। ‘বি’ কোম্পানি স্বনামধন্য চিকিৎসক, ক্লিনিক ও সরকারি কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর কোটি টাকার চাঁদা দাবি করে। উদাহরণস্বরূপ, সরকারি আয়ম খান কমার্স কলেজের পাশে একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা চাঁদা নেওয়া হয়, আর সাব‑রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে ৩৫ লাখ টাকা দিয়ে চাঁদা মুক্তি পেতে হয়। একই গ্যাং একটি ক্লিনিকের ওপর ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে, না দিলে ভাঙচুর করে।অ্যাক্সটর্সনও সীমাবদ্ধ নয়। ২৬ অক্টোবর পাইকগাছা উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আহসানারা বিনতে আহমেদকে ফোনে চাঁদা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। একদিন আগে একই উপজেলায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও হুমকি জানানো হয়।অবস্থা নিয়ে নাগরিক নেতা ও মানবাধিকার কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলদার বলেন, খুলনার আইনশৃঙ্খলা নাজুক হয়ে দাঁড়িয়েছে; সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য শহরের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে আছে। মানবাধিকার সংস্থার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, প্রকৃত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত না করলে শান্তি ফিরিয়ে আনা কঠিন।পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া জানান, মাদককেন্দ্রিক অপরাধই মূল সমস্যা; কিশোর‑তরুণদের মাধ্যমে সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে। জেলা পুলিশ সুপারভাইজর ওমর ফারুক জানান, সন্ত্রাস দমন করতে ব্লক রেইড, স্পট রেড ও তালিকা অনুসারে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে; মাদক স্পটগুলোতে হানা দেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সন্ত্রাসী গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার দখলে খুলনা শহর

পোশাক খাতের আন্দোলনের ৩ শ্রমিক নেতা আটক

ঢাকার সাভার থানা আশুলিয়া থেকে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান কর্মসূচিতে উসকানি দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে তিনজন শ্রমিক নেতা গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আশুলিয়া থানার বিভিন্ন স্থানে থেকে এই নেতাদের আটক করেছে। ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সাইদুল ইসলাম জানান, আটক করার ভিত্তি ছিল চলমান শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দিয়ে অস্থিরতা তৈরির যথাযথ তথ্যপ্রমাণ।আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আশুলিয়া থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আ. হালিম (৩৭), বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম (৪৮) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনসুর আলী (৪৬)। শামীমকে জিরাবো এলাকা থেকে, হালিম ও মনসুরকে বসুন্ধরা সোনিয়া মার্কেট থেকে আটক করা হয়।অধিকর্তা জানান, আটক করা তিন নেতাকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপ শ্রমিক সংগঠনগুলোকে সতর্ক করার পাশাপাশি ন্যূনতম মজুরি দাবির আলোকে আন্দোলনের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।

পোশাক খাতের আন্দোলনের ৩ শ্রমিক নেতা আটক

মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে আহত শ্রমিক তৌফিকের মৃত্যু

গাজীপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে আঘাতপ্রাপ্ত ২২‑বছরের গার্মেন্টস কর্মী তৌফিক শেখ শিন শিন জাপান হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যু শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকার সংক্রান্ত প্রশ্ন তীব্রতর করেছে।তৌফিক শেখ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা । তিনি তবিবর রহমান তবির পুত্র এবং গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় বসবাস করতেন। তৌফিক লায়লা গার্মেন্টসে চাকরি করতেন এবং একই সঙ্গে ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ২০২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি এক বন্ধুর মাধ্যমে গার্মেন্টস শিল্পে কর্মসংস্থান পেয়েছিলেন।সোমবার থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানায় মজুরি বৃদ্ধি দাবিতে কর্মীরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছিল। তৌফিকের বড় ভাই হারুন মিয়া জানান, তৌফিক আন্দোলনের দৃশ্য মোবাইল ফোনে রেকর্ড করার চেষ্টা করছিলেন; তখনই কিছু অপরিচিত ব্যক্তি তার ওপর আক্রমণ করে চড়া ও বেধড়ক মারপিট করে। আঘাতের পর শ্রমিক সহকর্মীরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে শিন শিন জাপান হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে তার মৃত্যু ঘটে।গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মো. মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, তৌফিকের দেহ রাত ১০টার দিকে গ্রাম বাড়িতে পৌঁছেছে এবং বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ছয়ঘরিয়া গ্রামে জানাজা হবে, পরে কবরস্থানে দাফন করা হবে। কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন উল্লেখ করেন, এক কারখানা বন্ধ করার জন্য বহিরাগত লোকজনের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে তৌফিকের মতো কর্মী গুরুতর আঘাত পেয়েছেন; ঘটনার সময় সেখানে কোনো পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।

মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে আহত শ্রমিক তৌফিকের মৃত্যু

এবার পল্লবীর কুরিয়ার অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় মঙ্গলবার রাত ৮:৩০ টার কাছাকাছি এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসের শাখার সামনে দু’টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের ফলে ২১ বছর বয়সী মো. রমজান নামের এক কর্মী গুরুতরভাবে আহত হন এবং তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) আফসার উদ্দিন সুজন প্রথম আলোকে জানান, মুখোশ পরা এক অপরাধী ৮:৩৫‑৪০ মিনিটের মধ্যে দুইটি ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, আহত কর্মীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।পল্লবী থানার ওয়ান সি (ওসি) জালাল উদ্দিন প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলে জানান, এজেআর কুরিয়ার শাখার ওপর পূর্বে একই ধরণের ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমান ঘটনার সঙ্গে তা সংযুক্ত হতে পারে। পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সূত্র যাচাই করছে।এটি এজেআর কুরিয়ার সেবা কেন্দ্রের ওপর ধারাবাহিক সন্ত্রাসী আক্রমণের ধারাবাহিকতা। ২০ অক্টোবর রাজধানীর হাজারীবাগে সিকদার মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন শাখায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে, যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ও সংরক্ষণ যন্ত্র চুরি হয় এবং ৩১ লাখ টাকার পণ্য লুটের অভিযোগ করা হয়। ২৫ অক্টোবর গুদামে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা এবং কর্মীকে মারধর করে মুঠোফোন ও মানিব্যাগ চুরি করার ঘটনা ঘটেছে। ৩১ অক্টোবর রাজধানীর তিনটি এলাকায় এজেআর কুরিয়ার গাড়িতে একই রকম হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যার ফলে এক চালক মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন।পুলিশ এখন পর্যন্ত ১১ জন সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার করেছে এবং মামলাটি কঠোরভাবে অনুসন্ধান করছে। এজেআর কুরিয়ার কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত সিকিউরিটি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে, যখন কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে সতর্ক করে অজানা ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো সন্দেহজনক বস্তু গ্রহণ না করতে আহ্বান জানিয়েছে।

এবার পল্লবীর কুরিয়ার অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ

‘পরকীয়া সম্পর্ক’ প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে কেশবপুরে জোড়া খুন!

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ‘পরকীয়া সম্পর্ক’ প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে খুন করা হয় স্বামী ও স্ত্রীকে। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) ও মোস্তফা কামাল (৪৫) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঁচিও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার জেসমিন বেগম কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের সরদারপাড়ার নুর ইসলাম সরদারের স্ত্রী ও মোস্তফা কামাল একই এলাকার মৃত কেসমত সরদারের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের শিকার দুজন হলেন, কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের মাগুরখালী কমলাপুর গ্রামের আলেক সরদার (৪৬) ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৮)।মঙ্গলবার (৩নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের প্রেস ব্রিফিং এতথ্য জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম ও কেশবপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান।প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক জানান, গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানখেতে সেচ মেশিনের পানি পড়ার স্থানে অজ্ঞাতপরিচয় দুজনের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্ত করে। পরে নিহতদের মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।মামলার তদন্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গত সোমবার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য ও তদন্তে মোস্তফা কামালের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসে।পুলিশের কাছে দেওয়া জেসমিনের জবানবন্দির বরাত দিয়ে তিনি জানান, জেসমিন বেগম ও নিহত মাজেদা অভয়নগরের আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন। মোস্তফা কামালের সঙ্গে জেসমিনের প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে সম্পর্ক ছিল। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে ঘাস কাটতে মাঠে যান জেসমিন ও মাজেদা।মাঠে যাওয়ার পথে মোস্তফার সঙ্গে জেসমিনের দেখা হয়। এ সময় তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় মোস্তফা ও জেসমিন কলমিশাক তোলার কথা বলে মাজেদা ও তার স্বামী আলেককে নুর ইসলামকে ঘেরের পাশে নিয়ে যান। তালতলার ভেড়ির কাছে পৌঁছালে মোস্তফা হাতে থাকা পাসনি (নিড়ানি) দিয়ে আলেককে আঘাত করেন। পরে মাজেদার ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। আলেককে মারধর করে পুরোনো সেলো মেশিনের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। মাজেদা তখনো শ্বাস নিচ্ছিলেন। এ সময় কাঁচি দিয়ে তার তলপেট ও পা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তাকেও ওই গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ আরও জানায়, মামলার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে কেশবপুর থানা পুলিশের একটি দল। গত ২ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোস্তফা কামালকেও আটক করা হয়।পুলিশ দাবি করেছে, জেসমিন ও মোস্তফার ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি অন্যদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এ জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়

‘পরকীয়া সম্পর্ক’ প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে কেশবপুরে জোড়া খুন!

ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার সার্ভেয়ার আসাদুল কারাগারে

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মঙ্গলবার লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. আসাদুল ইসলামকে এক লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর দুদক আদালতে আবেদন করে, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদের আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসাদুল ইসলাম নির্ধারিত কক্ষে এক ব্যক্তি থেকে ঘুষের টাকা গ্রহণের পর তা ডান পাশের সাইড টেবিলের দ্বিতীয় তাকের খাকি রঙের খামে লুকিয়ে রাখেন। টাকার নম্বর ও অভিযোগকারীর দেওয়া টাকার নম্বরের সম্পূর্ণ মিল পাওয়া যায়, ফলে ঘুষের স্বীকারোক্তি ও টাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। দুদক দণ্ডবিধি ধারা ১৬১ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭‑এর ধারা ৫(২) অনুসারে মামলাটি দায়ের করে।ঘুষের পেছনে মূল অভিযোগটি ছিল অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মো. মনিরুল ইসলামকে জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য নকশা তৈরির কাজে সহায়তা করা। মনিরুল ২৮২ শতাংশ জমির জন্য নিবন্ধিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়েছিলেন এবং সীমানা নির্ধারণের কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় লালবাগ রাজস্ব সার্কেলে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। এক পর্যায়ে তাকে সার্ভেয়ার আসাদুলের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়, যার ফলে আসাদুল ৮০ লাখ টাকার ঘুষ দাবি করেন। মনিরুলের জানার পর দুদক বিষয়টি যাচাই করে ফাঁদ অভিযান চালায়।অভিযানের শেষ পর্যায়ে, ঘুষ গ্রহণের মুহূর্তে দুদকের দল হাতেনাতে আসাদুলকে আটক করে এবং এক লাখ টাকা উদ্ধার করে। এরপর আদালতে হাজির হয়ে কারাবাসের আবেদন দাখিলের পর, বিচারিক আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এই ঘটনা সরকারের দুর্নীতি বিরোধী প্রচেষ্টার নতুন উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার সার্ভেয়ার আসাদুল কারাগারে

স্ত্রীর পাশেই দাফন ছেলের, কেঁদে কেঁদে বললেন ‌‘মাফ করে দিলাম’

যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধে মাকে হত্যা করা ৪৫ বছর বয়সী মামুনুর রশিদের মৃত্যু এবং তার পিতার আলতাফ হোসেনের ক্ষমা অনুরোধ শোকের পরিবেশে গুঞ্জর তুলেছে।মামুনুর রশিদ, ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক। ২৭ আগস্ট তার ৫৮ বছর বয়সী মা আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তীব্র তর্কে উত্তেজিত হয়ে ধারালো বঁটি দিয়ে তাকে কোপ দেন। চিৎকার শোনার পর প্রতিবেশীরা ত্বরাত্বর ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, মা মারা গেলেও মামুন পালিয়ে যায়। পরদিনই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়।কারাগারে বন্দি অবস্থায় ২৮ অক্টোবর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মামুন যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টায় তার মৃত্যু হয়।মৃত্যুর পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে, সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশের পাহারায় মামুনের মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়। জানাজার আগে পিতার আলতাফ হোসেন এবং বড় ভাই প্রভাষক মঞ্জুর হাসান গ্রামবাসীদের কাছে ছেলেটিকে ক্ষমা চেয়ে অনুরোধ করেন। জানাজা আঞ্জুমানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শত শত লোক উপস্থিত ছিলেন।মামুনের বাবা আলতাফ হোসেন জানান, তার দুইটি বিয়ে ছিল এবং দু'টি দাম্পত্য কলহের ফলে তিনি মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়েছিলেন। তিনি তার সন্তানকে মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন, তবে চিকিৎসা শেষ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসার পরই মায়ের সঙ্গে তর্কে গিয়ে হত্যার কাজটি করে ফেলেন।কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলতাফ হোসেন বলেন, “তুচ্ছ ঘটনার ফলে আমি স্ত্রী ও সন্তান দুজনই হারিয়েছি। যদিও প্রথমে ক্ষোভ ছিল, তবে সে আমার ছেলে, তাই আমি তাকে মাফ করেছি। সৃষ্টিকর্তার কাছে সবাইকে ক্ষমা করার অনুরোধ করছি।”স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানি মন্তব্য করেন, “মামুনের হাতে মা খুনের ঘটনা গ্রামকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তবে তার মৃত্যুর পর মানুষ তার মরদেহকে ঘিরে একত্রিত হয়ে ক্ষমার পরিবেশ তৈরি করেছে। মায়ের কবরের পাশে ছেলেকে দাফন করা পরিবারিক ইচ্ছা অনুযায়ী হয়েছে।”যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলা অধিকারী আবিদ আহমেদ জানান, “মামুনের মরদেহ সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কারাগারে তার সময়কাল জুড়ে তিনি শান্ত স্বভাবের ছিলেন।”

স্ত্রীর পাশেই দাফন ছেলের, কেঁদে কেঁদে বললেন ‌‘মাফ করে দিলাম’

প্রেমের বিয়ে পারিবারিক চাপে ডিভোর্স, দুজনের আত্মহত্যা

নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলায় প্রেমের বিয়ের পর পারিবারিক চাপে ডিভোর্সের ফলে দুজনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, দুজনের মরদেহ মাত্র আট থেকে নয় ঘণ্টার ব্যবধানে উদ্ধার করা হয়েছে।মোহনগঞ্জের গাগলাজুর ইউনিয়নের আটবাড়ি গ্রামে ২৩ বছর বয়সী মো. সাকিব মিয়া এবং গাজীপুরের শ্রীপুরে ১৯ বছর বয়সী তার সাবেক স্ত্রী মুক্তা আক্তার, দুজনই এক সপ্তাহের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন। সাকিবের ঝুলন্ত মরদেহ মঙ্গলবার সকালে তার ঘরের বারান্দা থেকে উদ্ধার করা হয়, আর মুক্তা গলায় ফাঁস দিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় শ্রীপুরে মারা যান।সাকিব আটবাড়ি গ্রামের সুনো মিয়ার ছেলে, দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার এক সন্তান ও গর্ভবতী স্ত্রী আছে, যার গর্ভধারণের বয়স সাত মাস। প্রায় তিন মাস আগে তিনি মুক্তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে বিয়ে করেন, যা পরিবারে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি করে। পারিবারিক চাপে প্রায় ২০‑২৫ দিন আগে সাকিব মুক্তাকে তালাক দেন, এবং মুক্তা গাজীপুরের শ্রীপুরে তার বাবার বাড়িতে চলে যান।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তা শ্রীপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যান; তার বাবা বাবুল মিয়া পুলিশকে না জানিয়ে মৃতদেহ তেতুলিয়া ইউনিয়নের ফাগুয়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। দাফনের প্রস্তুতি চলাকালেই বিষয়টি উন্মোচিত হয়ে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে। একই সময়ে সাকিবের দেহও বারান্দা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়; পুলিশ অনুমান করে তিনি গত রাতেই আত্মহত্যা করেছেন।মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক রবিউল আওয়াল উল্লেখ করেন, দুজনের দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায় প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা ধরা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না এলে সঠিক কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। থানা কর্মকর্তারা দুজনের দেহকে দুটো অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছেন এবং আপাতত অপমৃত্যু মামলার রেজিস্ট্রেশন হয়েছে।

প্রেমের বিয়ে পারিবারিক চাপে ডিভোর্স, দুজনের আত্মহত্যা

আন্দোলনে কি আসলেই ষড়যন্ত্র? কী বলছেন শ্রমিকরা

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০ টাকা করার দাবি নিয়ে মিরপুর ও গাজিপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পুলিশের সঙ্গে দফা‑দফা সংঘর্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। শ্রমিকেরা বলছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কারণে বর্তমান বেতনে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে; মজুরি বৃদ্ধির স্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তারা রাস্তায় নেমে থাকবে।পুলিশ ও কিছু শ্রমিকনেতা দাবি করছেন, আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক উসকানি ও তৃতীয় পক্ষের স্বার্থ রয়েছে। মিরপুরে এক শ্রমিকের মতে, "কে উসকানি দিল, সেটা আমাদের কাজ নয়; পেটের দায়েই আমরা প্রতিবাদ করছি।" অন্যদিকে, কিছু কর্মকর্তা বলছেন, আন্দোলনকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে কোনো বাহ্যিক গোষ্ঠী ব্যবহার করা হচ্ছে, এমনকি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠে।মিরপুরে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে অবস্থান নিতে চাইলেন; পুলিশ লাঠি, গ্যাস শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের সরাতে চাইল। এতে শ্রমিকরা ইট-পাটকেল ছুঁড়ে পাল্টা আক্রমণ করে, ফলে বহু দফায় সংঘর্ষে রক্তপাত হয়। গাজিপুরে একই সময়ে ঢাকা‑টাঙ্গাইল ও ঢাকা‑ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের অবরোধের ফলে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।অভিযুক্তদের মধ্যে ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে; তবে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতদের কেউই পোশাক শ্রমিক নয়, বরং কিছু বাহ্যিক দুষ্কৃতকারী যারা আন্দোলনকে নষ্ট করার চেষ্টা করছিল। ঢাকার জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনও উল্লেখ করেছেন, বোরকা পরিহিত ও হেলমেটধারী একটি গোষ্ঠী শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছিল, তাদের অর্থের উৎস সম্পর্কে তথ্য রয়েছে।শ্রমিকনেতা নাজমা আক্তার ও তাসলিমা আক্তার উভয়েই বলছেন, সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং বেতন বৃদ্ধির আলোচনা চলবে, তবে আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কিছু তৃতীয় পক্ষ ফায়দা লুটতে চায়। তারা শ্রমিকদের শান্ত থেকে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।পোশাক শ্রমিকদের প্রতিবাদে সৃষ্ট অবরোধের ফলে ঢাকা‑টাঙ্গাইল ও ঢাকা‑ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাক ও বাস দীর্ঘ সময় আটকে থাকে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরণের দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে।শ্রমিকরা জোর দিয়ে বলছে, কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা বহিরাগত উসকানি ছাড়াই, ন্যূনতম বেতন ৩০,০০০ টাকা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাস্তায় থাকবে এবং তাদের দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

আন্দোলনে কি আসলেই ষড়যন্ত্র? কী বলছেন শ্রমিকরা

চাওয়া হয়েছিল ২ কোটি টাকা, প্রধানমন্ত্রী দিলেন ৩ কোটি

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিনের উদযাপনের জন্য খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ২ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। তবে আবেদন পর্যালোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১ কোটি টাকা বেশি, মোট ৩ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।সোমবার, ২ নভেম্বর, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এ-সংক্রান্ত সারসংক্ষেপে প্রধানমন্ত্রী এই অনুদান অনুমোদন করেন। পরের দিন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে একই তথ্য জনসাধারণের কাছে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৫ ডিসেম্বর খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব 'শুভ বড়দিন ২০২৬' উদযাপন উপলক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে এই অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, বড়দিনের উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বিশেষ অনুদান প্রস্তাব করা হয়। পূর্বে ২০২৬ সালে বড়দিনের জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব ছিল, তবে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত পরিমাণের পরিবর্তে ৩ কোটি টাকা অনুমোদন করে তহবিল বাড়িয়ে দেন।

চাওয়া হয়েছিল ২ কোটি টাকা, প্রধানমন্ত্রী দিলেন ৩ কোটি

নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: ১২ পুলিশ আহত

নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০ টাকার দাবি নিয়ে  আন্দোলনে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। পরে কয়েকজন শ্রমিক আটক হয়েছে জানা গেছে।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে যানবাহনের চলাচল বন্ধ করে দেয়। অবরোধের সময় শ্রমিকরা আটকে থাকা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।পরে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করে। টিয়ারশেল ব্যবহারের পর শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং সড়কে যানবাহনের চলাচল পুনরায় শুরু হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়, তবে আহতদের নাম ও পরিচয় তৎক্ষণাৎ প্রকাশ করা যায়নি।শিল্প পুলিশ-৪ এর সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানিয়েছেন, সকাল থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবে দুপুরের পর শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অবরোধ ভাঙা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি যোগ করেন, টিয়ারশেল নিক্ষেপের ফলে ১০ থেকে ১২ পুলিশ সদস্য ইটপাকেলে আহত হয়েছে এবং চার থেকে পাঁচজন শ্রমিক আটক করা হয়েছে।এই ঘটনা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দাবির সঙ্গে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জকে আবারও তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতে সমন্বিত সমাধানের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: ১২ পুলিশ আহত

কান্নার শব্দে আমবাগান থেকে নবজাতক উদ্ধার

শিবগঞ্জ উপজেলায় মঙ্গলবার সকালে একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে; বালুর মধ্যে লুঙ্গিতে মোড়ানো এক নবজাতককে কান্নার শব্দে উদ্ধার করা হয়েছে।দেলোর শিবগঞ্জ উপজেলার জালমাছমারী‑মিয়াপাড়া এলাকার একটি আমবাগানের পাশে দুই শিশু খেলাধুলা করছিল। হঠাৎ বালুর মধ্যে লুঙ্গিতে মোড়ানো একটি শিশুর কান্না শোনার পর তারা তা দেখতে পায় এবং তৎক্ষণাৎ স্থানীয় বাসিন্দা গোলাপ হোসেনকে জানায়। গোলাপ হোসেন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বালুর ভেতর থেকে অক্ষত অবস্থায় শিশুটিকে বের করে আনে।শিশুটিকে তৎক্ষণাৎ শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সম্পূর্ণ পরীক্ষা‑নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও শঙ্কামুক্ত। বর্তমানে শিশুটি উদ্ধারকারী গোলাপ হোসেনের হেফাজতে রয়েছে।শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আইনি ও সামাজিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নবজাতকের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি যে, কে বা কারা শিশুটিকে ফেলে রেখে গেছেন।

কান্নার শব্দে আমবাগান থেকে নবজাতক উদ্ধার

সাতক্ষীরা সীমান্তে পায়ুপথে স্বর্ণের পেস্ট পাচারের চেষ্টা

সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে স্বর্ণ পাচার বন্ধে সফল অভিযান চালায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) । গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভারতীয় পাসপোর্টধারী নাগরিকের গায়ে লুকানো স্বর্ণের পেস্ট শনাক্ত করে ৮১৩.৫০ গ্রাম স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।সোমবার, ২ নভেম্বর, সকাল ৯টায় বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়ন (সাতক্ষীরা) অধীন ভোমরা বর্ডার পোস্টের বিশেষ অভিযানিক দল এই তল্লাশি পরিচালনা করে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে স্বর্ণ পাচারের উদ্দেশ্যে আসা এক ভারতীয় নাগরিকের ওপর নজরদারি শুরু হয়। তদনুসারে তাকে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, এরপর শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে করা রেডিওগ্রাফি ও আল্ট্রাসাউন্ডে গায়ে দুটি প্যাকেট শনাক্ত করা যায়, যেগুলো থেকে স্বর্ণের পেস্ট বের করা হয়।ধরা পড়া ব্যক্তির নাম শাহ গোলাম হোসেন, ৪৩ বছর বয়সী, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে আটক এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমানের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।এই ঘটনা সীমান্তে স্বর্ণ পাচারসহ অবৈধ পণ্য প্রবাহ রোধে নিরাপত্তা সংস্থার তীক্ষ্ণ নজরদারির প্রমাণস্বরূপ। ভবিষ্যতে এ ধরনের চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে।

সাতক্ষীরা সীমান্তে পায়ুপথে স্বর্ণের পেস্ট পাচারের চেষ্টা

ছোট ভাইয়ের মারধরে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

চাঁদপুরের সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের গাছতলা পাটওয়ারী বাড়িতে সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সম্পত্তি বিরোধে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ৬০ বছর বয়সী শাহজাহান পাটওয়ারী মারধরে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।শাহজাহান পাটওয়ারী এবং তার ছোট ভাই শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে তীব্র বিরোধে লিপ্ত ছিলেন। উভয়ের মধ্যে জমি, বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ বহু বছর ধরে বাড়তে থাকায় সম্পর্কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিল।সোমবার বিকেলে, ছোট ভাই শাহ আলম তার স্ত্রীসহ গৃহে প্রবেশ করে শাহজাহানকে বেদম মারধর করেন। মারধরের পর শিকারের শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু ঘটে।চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মৃতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছোট ভাইয়ের মারধরে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের