দৈনিক আদ্যোপান্ত

অপরাধ

সন্ত্রাসী গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার দখলে খুলনা শহর

সন্ত্রাসী গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার দখলে খুলনা শহর

খুলনা মহানগরী এবং পুরো জেলায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের শৃঙ্খলাবদ্ধ হিংসা নাগরিকদের জীবনকে আতঙ্কে ডুব দিয়েছে। বাবা, মা, স্বামী, ভাই‑বোন—প্রতিটি পরিবারের শোকের কারণ এখন শহরের গলিতে গুলি, গণপিটুনি এবং ভয়াবহ অপরাধ।তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে খুলনা মহানগরীসহ জেলায় মোট ৭৫টি গুলি ও গণপিটুনি সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে ৩৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে। কেএমপি (খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ) জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে একজন, ফেব্রুয়ারি মাসে চারজন, মার্চে চারজন, এপ্রিলের দুইজন, মে‑জুনে প্রত্যেকে তিনজন, জুলাই‑আগস্টে মোট আটজন, সেপ্টেম্বর‑অক্টোবর‑নভেম্বর মাসে মোট বারোজনের মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে চারটি হত্যাকাণ্ড ঘটছে। একই সময়ে ১৫৯ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পুলিশের তালিকায় বর্তমানে ২২টি সন্ত্রাসী সংগঠন ও কিশোর গ্যাং রয়েছে। প্রধান গ্যাংগুলো হল ‘বি’ কোম্পানি (রনি চৌধুরী/বাবু চৌধুরী/গ্রেনেড বাবু নেতৃত্বে), আশিক বাহিনী, নূর আজিম গ্রুপ, গোল্ডেন বয়েজ, টিপসি বয়েজ, কিং অব রূপসা, পলাশ গ্রুপ, হুমা বাহিনী, ডেঞ্জার বয়েজ, টেঙ্কি শাওন গ্রুপ, আরমিন গ্রুপ, শাকিল গ্রুপ, নাসিম গ্রুপ, সেভেন স্টার, নাইন্টিন বয়েজ, ব্লাড বয়েজ, ব্ল্যাক ঈগল, ডার্ক নাইটস, সিন্ডিকেট, চিংড়ি পলাশ গ্রুপ এবং রকি গ্রুপ। এই গ্যাংগুলো মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের জন্য একে অপরকে হত্যা করে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে দমবন্ধ হয়ে পড়েছে।কেএমপি সূত্রে বর্তমানে ১৫ জন শীর্ষ সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত, যাদের মধ্যে কিছু কারাগার থেকে বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে। ‘বি’ কোম্পানির শীর্ষ নেতা রনি চৌধুরী (বাবু চৌধুরী, গ্রেনেড বাবু) ভারতের বোম্বে বা মালয়েশিয়া থেকে নির্দেশনা পাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়। গ্রেনেড বাবুর মাদক বিক্রির আয় দিনে অর্ধ কোটি টাকারও বেশি, যা তাকে অপরাধের শীর্ষে রাখে। কয়েক মাস আগে শামসুর রহমান রোডে গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার বাবা মিন্টু চৌধুরীসহ দুই‑তিনজন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রায় ৪০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়।হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি চাঁদাবাজি শহরে ছড়িয়ে রয়েছে। ‘বি’ কোম্পানি স্বনামধন্য চিকিৎসক, ক্লিনিক ও সরকারি কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর কোটি টাকার চাঁদা দাবি করে। উদাহরণস্বরূপ, সরকারি আয়ম খান কমার্স কলেজের পাশে একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা চাঁদা নেওয়া হয়, আর সাব‑রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে ৩৫ লাখ টাকা দিয়ে চাঁদা মুক্তি পেতে হয়। একই গ্যাং একটি ক্লিনিকের ওপর ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে, না দিলে ভাঙচুর করে।অ্যাক্সটর্সনও সীমাবদ্ধ নয়। ২৬ অক্টোবর পাইকগাছা উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আহসানারা বিনতে আহমেদকে ফোনে চাঁদা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। একদিন আগে একই উপজেলায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও হুমকি জানানো হয়।অবস্থা নিয়ে নাগরিক নেতা ও মানবাধিকার কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলদার বলেন, খুলনার আইনশৃঙ্খলা নাজুক হয়ে দাঁড়িয়েছে; সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য শহরের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে আছে। মানবাধিকার সংস্থার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, প্রকৃত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত না করলে শান্তি ফিরিয়ে আনা কঠিন।পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া জানান, মাদককেন্দ্রিক অপরাধই মূল সমস্যা; কিশোর‑তরুণদের মাধ্যমে সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে। জেলা পুলিশ সুপারভাইজর ওমর ফারুক জানান, সন্ত্রাস দমন করতে ব্লক রেইড, স্পট রেড ও তালিকা অনুসারে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে; মাদক স্পটগুলোতে হানা দেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এবার পল্লবীর কুরিয়ার অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় মঙ্গলবার রাত ৮:৩০ টার কাছাকাছি এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসের শাখার সামনে দু’টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের ফলে ২১ বছর বয়সী মো. রমজান নামের এক কর্মী গুরুতরভাবে আহত হন এবং তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) আফসার উদ্দিন সুজন প্রথম আলোকে জানান, মুখোশ পরা এক অপরাধী ৮:৩৫‑৪০ মিনিটের মধ্যে দুইটি ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, আহত কর্মীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।পল্লবী থানার ওয়ান সি (ওসি) জালাল উদ্দিন প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলে জানান, এজেআর কুরিয়ার শাখার ওপর পূর্বে একই ধরণের ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমান ঘটনার সঙ্গে তা সংযুক্ত হতে পারে। পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সূত্র যাচাই করছে।এটি এজেআর কুরিয়ার সেবা কেন্দ্রের ওপর ধারাবাহিক সন্ত্রাসী আক্রমণের ধারাবাহিকতা। ২০ অক্টোবর রাজধানীর হাজারীবাগে সিকদার মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন শাখায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে, যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ও সংরক্ষণ যন্ত্র চুরি হয় এবং ৩১ লাখ টাকার পণ্য লুটের অভিযোগ করা হয়। ২৫ অক্টোবর গুদামে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা এবং কর্মীকে মারধর করে মুঠোফোন ও মানিব্যাগ চুরি করার ঘটনা ঘটেছে। ৩১ অক্টোবর রাজধানীর তিনটি এলাকায় এজেআর কুরিয়ার গাড়িতে একই রকম হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যার ফলে এক চালক মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন।পুলিশ এখন পর্যন্ত ১১ জন সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার করেছে এবং মামলাটি কঠোরভাবে অনুসন্ধান করছে। এজেআর কুরিয়ার কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত সিকিউরিটি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে, যখন কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে সতর্ক করে অজানা ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো সন্দেহজনক বস্তু গ্রহণ না করতে আহ্বান জানিয়েছে।

এবার পল্লবীর কুরিয়ার অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ

স্ত্রীর পাশেই দাফন ছেলের, কেঁদে কেঁদে বললেন ‌‘মাফ করে দিলাম’

যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধে মাকে হত্যা করা ৪৫ বছর বয়সী মামুনুর রশিদের মৃত্যু এবং তার পিতার আলতাফ হোসেনের ক্ষমা অনুরোধ শোকের পরিবেশে গুঞ্জর তুলেছে।মামুনুর রশিদ, ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক। ২৭ আগস্ট তার ৫৮ বছর বয়সী মা আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তীব্র তর্কে উত্তেজিত হয়ে ধারালো বঁটি দিয়ে তাকে কোপ দেন। চিৎকার শোনার পর প্রতিবেশীরা ত্বরাত্বর ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, মা মারা গেলেও মামুন পালিয়ে যায়। পরদিনই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়।কারাগারে বন্দি অবস্থায় ২৮ অক্টোবর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মামুন যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টায় তার মৃত্যু হয়।মৃত্যুর পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে, সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশের পাহারায় মামুনের মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়। জানাজার আগে পিতার আলতাফ হোসেন এবং বড় ভাই প্রভাষক মঞ্জুর হাসান গ্রামবাসীদের কাছে ছেলেটিকে ক্ষমা চেয়ে অনুরোধ করেন। জানাজা আঞ্জুমানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শত শত লোক উপস্থিত ছিলেন।মামুনের বাবা আলতাফ হোসেন জানান, তার দুইটি বিয়ে ছিল এবং দু'টি দাম্পত্য কলহের ফলে তিনি মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়েছিলেন। তিনি তার সন্তানকে মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন, তবে চিকিৎসা শেষ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসার পরই মায়ের সঙ্গে তর্কে গিয়ে হত্যার কাজটি করে ফেলেন।কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলতাফ হোসেন বলেন, “তুচ্ছ ঘটনার ফলে আমি স্ত্রী ও সন্তান দুজনই হারিয়েছি। যদিও প্রথমে ক্ষোভ ছিল, তবে সে আমার ছেলে, তাই আমি তাকে মাফ করেছি। সৃষ্টিকর্তার কাছে সবাইকে ক্ষমা করার অনুরোধ করছি।”স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানি মন্তব্য করেন, “মামুনের হাতে মা খুনের ঘটনা গ্রামকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তবে তার মৃত্যুর পর মানুষ তার মরদেহকে ঘিরে একত্রিত হয়ে ক্ষমার পরিবেশ তৈরি করেছে। মায়ের কবরের পাশে ছেলেকে দাফন করা পরিবারিক ইচ্ছা অনুযায়ী হয়েছে।”যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলা অধিকারী আবিদ আহমেদ জানান, “মামুনের মরদেহ সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কারাগারে তার সময়কাল জুড়ে তিনি শান্ত স্বভাবের ছিলেন।”

স্ত্রীর পাশেই দাফন ছেলের, কেঁদে কেঁদে বললেন ‌‘মাফ করে দিলাম’

স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী আটক

ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামী মো. পারভেজ ইসলামকে বন্ধুর সহায়তায় স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তাকে ঠাকুরগাঁওয়ের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে জেলখানায় পাঠায়।মামলাটি সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী তার স্বামীকে বাদী হিসেবে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় দায়ের করেন। অভিযোগে পারভেজের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২ এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর প্রাসঙ্গিক ধারা অনুসারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপর আসামি হাফিজউদ্দীন বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন; এজাহারে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর পারভেজ ইসলামের সঙ্গে বিবাহিত হওয়ার পর দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। প্রায় নয় মাস আগে স্ত্রীর অজান্তে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করে সংরক্ষণ করা হয়। পরে পারভেজ তার স্ত্রীর ওপর তালাকের চাপ বাড়াতে এসব মিডিয়া ব্যবহার করে হুমকি দেন।হুমকি পূরণ না হলে, পারভেজ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হাফিজউদ্দীনের কাছে ওই ছবি ও ভিডিও পাঠায়। দুজনের যৌথ পরিকল্পনায় একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি তৈরি করে সেগুলি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। এজাহারে উল্লেখ আছে, হাফিজউদ্দীনকে পারভেজের সঙ্গে বিবাহের জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল।ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি শাহজাহান আলী জানান, প্রধান আসামি পারভেজ ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। 

স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী আটক

যশোরে পুলিশের এএসআই এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায় এবং থানার সামনে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগে ঝিকরগাছা থানার এএসআই আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৪-৫জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার মামলাটি করেছেন উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকার মৃত মোজাফ্ফরের ছেলে আসাদুজ্জামান।অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদীর ভাইকে গ্রেপ্তারের পর ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা দাবি করা হয়। পরে টাকা নেওয়ার পরও আরও অর্থ দাবি এবং মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারক মামলাটি তদন্ত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম এন্স অপস) কে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, গত ২৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৩টার দিকে এএসআই আশরাফুল আলম অন্যদের সঙ্গে নিয়ে বাদীর বাড়িতে যান। এ সময় বাদীর সেজো ভাই মো. রেজাউল করিমকে খুঁজতে থাকেন। তাঁকে বাড়িতে না পেয়ে বাদীর কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। আসামিরা তাকে বলেন, সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ১০ হাজার টাকা ব্যবস্থা করে দিতে হবে। টাকা না দেয়ায় পরদিন ২৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টায় ভাই রেজাউল করিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে আসাদুজ্জামানের কাছে কল আসে। তিনি জানতে পারেন, তার ভাইকে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পরে ভাইয়ের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিতে তিনি থানায় যান। সেখানে ডিউটি অফিসারের কক্ষের সামনে থেকে তাকে হাজতখানার সামনে নিয়ে যান এএসআই আশরাফুল আলম। এ সময় তার বাম পকেট থেকে নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয় এবং আরও ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য বলা হয় তাকে। ভাইয়ের মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন আটকে রাখা হয়। মানিব্যাগ দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। পরে থানা থেকে বের হওয়ার সময় মানিব্যাগটি নিচে পড়ে গেলে সেটি তুলতে যাওয়ার মুহূর্তে তাকে সজোরে থাপ্পড় মারেন এএসআই আশরাফুল আলম এবং ভয়ভীতি দেখান। পুরো ঘটনা থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করেছেন।

যশোরে পুলিশের এএসআই এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

মহেশপুর সীমান্তে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার চাপাতলা সীমান্ত এলাকার ধান খেত থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তবে তার নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।তার বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। ধানখেতের আইলে পড়ে থাকা ওই নারীর পরনে বোরকা ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, মহেশপুরের সীমান্তবর্তী চাপাতলা এলাকার বিলের মাঠে ধানখেতে দুপুর দেড়টার দিকে এক নারীর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।তিনি আরও জানান, মরদেহের গায়ে এখন পর্যন্ত আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলেই জানা যাবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।ঝিনাইদহ বিজিবি ৫৮ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।

মহেশপুর সীমান্তে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

যশোর জেনারেল হাসপাতালে ছিনতাইয়ের অভিযোগে নারী আটক

যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে হাতেনাতে আটক করেছে সাধারণ জনগণ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের করোনারি ভবনের ১৪ নম্বর বহির্বিভাগের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।আটক নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানার গড় মণ্ডল গ্রামের তবারকের স্ত্রী খাইরুন্নেসা। অন্যদিকে ভুক্তভোগী হাসিনা বেগম (৪০) যশোর সদর উপজেলার রাজনগর সাড়াতলা গ্রামের মজিবরের স্ত্রী।হাসপাতাল সূত্রে জানাযায়, মঙ্গলবার সকালে হাসিনা বেগম চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনারি ভবনের ১৪ নম্বর বহির্বিভাগের কক্ষে যান। সেখানে অবস্থানকালে তাঁর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন টান দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে খাইরুন্নেসার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।এ সময় অভিযুক্ত নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাঁর কাছ থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ও নগদ এক হাজার ৮৫০ টাকা পাওয়া যায়।

যশোর জেনারেল হাসপাতালে ছিনতাইয়ের অভিযোগে নারী আটক

খুলনায় নদীর পাড় থেকে দুই যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

খুলনার রূপসা উপজেলায় আঠারো বাকী নদীর তীরে আজ দুপুরে দুই যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইচগাতী ইউনিয়নের চর মোছাব্বরপুর গ্রামার কলাবাগানের উত্তর দিক থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের যোগাযোগে রূপসা থানার দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মৃতদেহ উদ্ধার করে।মৃতদেহের পরিচয় স্থানীয়দের সহায়তায় নিশ্চিত করা হয়। নিহতরা হলেন, রূপসা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আব্দুল্লাহর পুত্র সোহাগ এবং সিংহের চর এলাকার রেজাউল করিম। দুজনের গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া যায়, ফলে হিংসাত্মক হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ জাগে।রূপসা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আলম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে। "হত্যার পেছনে কী কারণ বা কোনো শত্রুতা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে," তিনি বলেন। শিকারের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো মামলা ছিল কিনা, অথবা তারা কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিনা, তা জানার জন্য তথ্য সংগ্রহ চলছে।আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। 

খুলনায় নদীর পাড় থেকে দুই যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

মেহেরপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মেহেরপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে  এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকার জরিমানা সহ অতিরিক্ত এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।রবিবার দুপুরে মেহেরপুর শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. তাজুল ইসলাম রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মোশারফ হোসেন (৩৫), যিনি শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পাড়ার বাসিন্দা নুরন্নেছার ছেলে, অপরাধের জন্য শাস্তি পেলেন।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল দুপুরে মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী নিজ বাড়িতে কাজ করছিল। একই সময়ে মোশারফ ওই বাড়িতে প্রবেশ করে ছাত্রীকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।ছাত্রীর মা আনোয়ারা খাতুন সন্ধ্যায় ঘরের মোবাইল ফোনের রিংটোন শোনেন, ফোনটি উদ্ধার করেন এবং কিছুক্ষণ পর মোশারফ ফোনটি দাবি করে নিয়ে যান। পরে ছাত্রী অস্বাভাবিক আচরণ দেখায়; মা তাকে জিজ্ঞাসা করলে ছাত্রী ঘটনার বিস্তারিত জানায়। এরপর তাকে মেহেরপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।আনোয়ারা খাতুন বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৯(১) অনুসারে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হয় এবং বিচার চলাকালে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে আদালত মোশারফকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকার জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের অতিরিক্ত কারাদণ্ড প্রদান করেন।

মেহেরপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় আটক ৫৯৮

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযানে ৫৯৮ জন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে এবং ৪১টি মামলা দায়ের করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রমনা এলাকায় ৩৬ জন, লালবাগে ৪২ জন, ওয়ারীতে ৭১ জন, মতিঝিলে ৭১ জন, তেজগাঁয়ে ১০০ জন, মিরপুরে ১৭৮ জন, গুলশানে ৫৪ জন, উত্তরায় ৪৩ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ৩ জন অভিযুক্ত রয়েছে।অভিযানের সময় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, ব্যবহার করা গুলির অংশ, তিনটি চাকু, আটটি রড, ১ কেজি ৪৫০ গ্রাম গাঁজা, ২১ প্যাকেট পুরিয়া গাঁজা, ৯০৫৮টি ইয়াবা প্যাকেট, দুই গ্রাম হেরোইন, একটি প্রাইভেট কার, একটি মোটরসাইকেল, বারোটি মোবাইল ফোন, ৩২০টি ২০০ টাকার জালনোট, একটি সিপিইউ, একটি স্ক্যানার, একটি মাউস, একটি কীবোর্ড, মোট ১০,১০০ টাকা এবং একজন ভিকটিম উদ্ধার করা হয়েছে।ডিএমপি আরও জানায়, শনিবারের অভিযানেও বিভিন্ন থানা এলাকায় একই ধরণের পদক্ষেপ নিয়ে অপরাধী ধরা এবং মাদক, অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে।

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় আটক ৫৯৮

মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় নারীসহ আটক ৫

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারত প্রবেশের সময় নারীসহ ৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে ৫৮ বিজিবি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কুসুমপুর বিওপির সদস্যরা তাদের আটক করেন। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কুসুমপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের মেইন পিলার ৬১/১৮-আর থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পিপুলবাড়ীয়া গ্রামের কালুর বাড়ির পাশ থেকে তাদের আটক করা হয়। কুসুমপুর বিওপির নায়েব সুবেদার মো. ভূঁইয়া ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ একটি টহল দল অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে তাদের আটক করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি দালাল চক্র তাদের ভারতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের বনানী বিশ্বাস (৪২) ও তার ছেলে কৌশিক বিশ্বাস (২০), ফরিদপুরের দক্ষিণ আলীপুর এলাকার কৃষ্ণ হীরা (৫৫), গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাঘাদিয়া গ্রামের সুখদেব বাইন (৩১) এবং বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বড়দুলালী গ্রামের তাহনা আক্তার স্বর্ণা (১৫)। এ ঘটনায় আটক পাঁচজনকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় নারীসহ আটক ৫

মাগুরায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা মামলায় আটক ২

মাগুরায় বুধবার ভোর ৫টার দিকে মাগুরা বাসটার্মিনাল এলাকার রয়্যাল পরিবহনের কাউন্টারে পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাকের হোসেনকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে ময়নাতদন্তের সময় তার মাথার ভেতর থেকে রিভলবারের গুলি উদ্ধার করা হয়।এঘটনায় পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ করেছে বিএনপি। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে মাগুরা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে নিহত শাকেরের স্ত্রী শারমিন নাহার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই বুধবার দিবাগত রাতে শামীমা তাবাসসুম নামে এক নারী এবং রনি সিকদার নামের এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পুলিশ সুপার আরও জানান, জেলা পুলিশের একাধিক টিম এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে। রাজনৈতিক টার্গেট কিলিং, পরকীয়া, সোনার চোরাচালান এবং জমি দখলসহ বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য দিক সামনে রেখে নিবিড়ভাবে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। আশা করা যাচ্ছে, অচিরেই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

মাগুরায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা মামলায় আটক ২

চুরির অপবাদে হত্যার ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে মামলা

যশোরে চুরির অপবাদ দিয়ে মারপিট করে ১৪ বছরের কিশোর স্বাধীনকে হত্যার অভিযোগে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে যশোর শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নিহতের মা সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। আসামিরা হলেন—শহরের বারান্দী মালোপাড়ার রেজা, তার শাশুড়ি ওলি, রনি ও তার বাবা আলী, পার্থ এবং নারায়ণ। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্বাধীন তার বন্ধু জাহার ফুয়াদ ওরফে জীবনের সঙ্গে পূজা দেখতে বারান্দী মোল্লাপাড়া এলাকায় যায়। সেখানে একটি মন্দিরের গলির সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় কয়েকজন ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে 'চোর' অপবাদ দিয়ে মারপিট শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামিরা রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করলে সে গুরুতর জখম হয়। এ সময় স্বাধীনকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে বন্ধু জীবনও মারধরের শিকার হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। স্বজনেরা উদ্ধার করে স্বাধীনকে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতাল এবং অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। পরে ঢাকা হোম কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে স্বাধীনের মৃত্যু হয়। কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন জানান, এ ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

চুরির অপবাদে হত্যার ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে মামলা

দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় একটি আবাসিক মাদরাসায় তৃতীয় শ্রেণির দুই কন্যা শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা পরিচালক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে। পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে নিজ বাড়িতে এই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি আব্দুর রহমান। বর্তমানে এখানে মোট ৬৫ জন ছাত্রী রয়েছে, যার মধ্যে ৫৫ জন আবাসিক। শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন। জানা যায়, বিকেলের দিকে বিভিন্ন সময় তাদের আলাদাভাবে পরিচালকের কক্ষে ডেকে নেওয়া হতো। সেখানে শরীর ও হাত-পা টিপে দেওয়ার কথা বলে জামা ও পায়জামার ভেতরে হাত দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ করা হতো। এসব কথা কাউকে না বলার জন্য মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। এক ছাত্রীকে জোর করে বিছানায় শুয়ানোর চেষ্টা করা হলে সে কৌশলে পালিয়ে আসে বলেও পরিবার জানিয়েছে। শিশুদের মা জানান, মাদরাসা থেকে বাড়ি ফিরলে মেয়েরা আর সেখানে যেতে চাইতো না। এর আগে কোচিং না করার অভিযোগে তাদের মারধর করা হলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তখন তিনি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি। পরে ১৯ অক্টোবর এক শিশুর পায়ে পেরেক ফুটলে মেয়েরা বাড়িতে এসে সব ঘটনা জানায়। শিশুদের পিতা সানোয়ার জানান, গত বছর মাদরাসায় ভর্তি করানোর তিন-চার মাস পর থেকেই এই নিপীড়ন চলে আসছে বলে মেয়েরা তাকে জানিয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাত্রীরা দুষ্টু প্রকৃতির হওয়ায় তাদের মাদরাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরিবারকে দ্রুত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে

ধরা-ছোঁয়ার বাইরে জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা বিপ্লব

ড্রাইভিং লাইসেন্স, স্মার্টকার্ড ও অনলাইনে জাল নথি তৈরি চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন যশোরের শার্শার মূলহোতা মো. খালিদ হাসান বিপ্লব।গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে শহরের রেলবাজার এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৬ যশোর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল। এ সময় তাদের আস্তানা থেকে বিভিন্ন দেশের নামে তৈরি নকল ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভুয়া ভোটার আইডি কার্ড এবং অনলাইনে জাল নথি তৈরিতে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক কম্পিউটারসহ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ঝিনাইদহ সদরের বোংকিরা গ্রামের আল মুছাব্বির রিয়াদ (২৪), যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কলাগাছি গ্রামের রাসেল হোসেন (২২), ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাথানগাছি গ্রামের ফাহিম সাদিক (২৩) এবং একই উপজেলার জলিলপুর গ্রামের সিয়াম আলী (২১)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মো. খালিদ হাসান বিপ্লবের মূল বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার লক্ষ্মণপুর গ্রামে। ২০১৪ সালে যশোরে এসে শুরুতে শহরের কারবালা মোড়ে একটি স্টেশনারি দোকান দেন। তবে ছয় মাসের মাথায় ব্যবসা গুটিয়ে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যান।শহরের অম্বিকা বসু লেন এলাকার ‘ট্রাস্ট অটোমোবাইল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের আড়ালে তিনি এই বিশাল অনলাইন প্রতারণা ও আন্তর্জাতিক জালিয়াতির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছিলেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুনরায় যশোরে ফিরে ই-কমার্স ব্যবসার আড়ালে সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। এরপরই তার ভাগ্যের চাকা অলৌকিকভাবে ঘুরে যায়। ২০২৬ সালের শুরুতে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে কারবালা সড়কে একটি বিলাসবহুল বাড়ি কেনেন এবং দামি গাড়ি হাঁকিয়ে বিলাসী জীবনযাপন শুরু করেন। একপর্যায়ে শহরের আরএন রোড এলাকায় ‘ট্রাস্ট অটোমোবাইল’ নামের লুব্রিকেন্ট ব্যবসার একটি ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করেন। বাস্তবে পার্টস ও লুব্রিকেন্ট ব্যবসার আড়ালেই চলতো আন্তর্জাতিক চক্রের সাথে তথ্য কেনাবেচা ও জাল নথি তৈরির কারবার।অভিযানের পর এসআরবি জানায়, চক্রটির মূল লক্ষ্য ছিল প্রবাসগামী সহজ-সরল মানুষ। তারা বিভিন্ন দেশের মূল নাগরিকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পরিচয়পত্রের ডেটা হ্যাক বা অবৈধভাবে সংগ্রহ করতো। এরপর বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সেসব নথিতে বাংলাদেশি প্রবাসগামীদের ছবি ও তথ্য বসিয়ে হুবহু আসল নথির মতো তৈরি করতো। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে চক্রের এক সদস্য জানান, মূলত বিদেশি সাইট থেকে অনলাইনে ভুয়া নথির অর্ডার নেওয়া হতো। পরে ফটোশপের মাধ্যমে প্রবাসগামীদের তথ্য বসিয়ে চড়া দামে বিক্রি করা হতো। অভিযানে চারজন ধরা পড়ার পর কাজ স্থগিত হলেও বর্তমানে বিপ্লব ও তার বাবা মো. জাহাঙ্গীর আলমের তত্ত্বাবধানে আবারো সিন্ডিকেটটি সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। ওই সদস্য আরও বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের অভিযানের দিন বিপ্লব ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সুযোগ বুঝে কৌশলে সটকে পড়েন। পালিয়ে যাওয়ার সময় তার চারটি ডিজিটাল ব্যাংক কার্ডে প্রায় ৫৭ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা) গচ্ছিত ছিল। এদিকে, চক্রের ফাঁদে পড়ে বিপাকে পড়েছেন বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দীপ্ত ও তার পরিবার। শহরের বিমান অফিস মোড়ের বাসিন্দা মিরাজ হোসেন বলেন, ‘আমার ছোট ভাই দীপ্তকে অটো পার্টসের দোকানে কাজ দেওয়ার কথা বলে সাথে রেখেছিল বিপ্লব। আমরা জানতাম, সে দোকানে চাকরি করে। প্রশাসনের অভিযানের পরই তার আসল কুকর্ম জানতে পারি।’ দীপ্ত এই অপরাধে জড়িত না থাকলেও গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে দাবি তার। অভিযানের দিন উদ্ধারকৃত কম্পিউটার, হার্ডডিস্ক ও মোবাইলফোন থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড উদ্ধার করা হয়েছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআরবি যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক জানান, পলাতক বিপ্লবসহ চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের অবস্থান চিহ্নিত করার কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক এই ডিজিটাল অপরাধ চক্রের মূলহোতা বিপ্লবকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

ধরা-ছোঁয়ার বাইরে জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা বিপ্লব

গাজীপুরে আট বছরের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকায় অবস্থিত একটি আবাসিক কওমি মাদ্রাসার আট বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে একাধিকবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষকসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় মোট তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে দুইজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।অভিযুক্তরা হলেন,  মো. অলিউল্লাহ ই্লেন(২৮), মোহাম্মদ মিজান(৩৮) এবং মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ(৪৫)। এদের মধ্যে অলিউল্লাহ ইসলাম মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিকড়শিক্ষার্থী মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত। ৭ অক্টোবর বিকেল চারটায় তিনি সন্তানকে মাদ্রাসার আবাসিক ঘরে রেখে গিয়েছিলেন। ১৩ অক্টোবর দুপুরে শিশুটি বাড়ি ফিরে গিয়ে গোসলের সময় শরীরের একটি অংশে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় তিনি তা জানালেন। শিশুটি ব্যথার কারণ জানতে চাওয়া হলে সরাসরি শিক্ষকের যৌন নিপীড়নের কথা বলে। এজাহার আরও উল্লেখ করে, শিশুকে ঘটনা জানালে তাকে মারধর করা হবে বলে ভয় দেখানো হয়েছিল।মা ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই মাদ্রাসায় গিয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তবে মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তি অভিযুক্ত শিক্ষককে সঠিকভাবে শাস্তি না দিয়ে ঘটনাটি ঢাকতে চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে শিক্ষককে কৌশলে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।শিক্ষার্থীর মা জানান, তার পরিচিত এক নারী ১০ বছর বয়সী শিশুও একই মাদ্রাসায় পড়ত এবং সে একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বহুবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছে। এরপর আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী জানান, এই ঘটনার জন্য তিনজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে, তদন্ত চলমান।

গাজীপুরে আট বছরের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ