দৈনিক আদ্যোপান্ত

আর্কাইভ দেখুন

ঝিনাইদহে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে টায়ারে আগুন, আটক ১

ঝিনাইদহে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে টায়ারে আগুন, আটক ১

ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের নগরবাথান বাজারের কুঠিপাড়া এলাকায় ৪ নভেম্বর সকাল ৫টায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান সহ টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পটকা‑জাতীয় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেল চালকসহ প্রায় ১৪‑১৫ জন ব্যক্তি স্লোগান চিৎকারের সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুতস্থান ত্যাগ করে, তবে পুলিশ দ্রুতই শোভু (২৫), ইজাহার মিয়ার পুত্র এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীকে গ্রেফতার করে।স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান জানান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা‑কর্মীরা মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করে কুঠিপাড়া এলাকায় পটকা‑জাতীয় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।শোভুকে ঘটনাস্থল থেকে তৎক্ষণাত্‌ই পুলিশ গ্রেপ্তার করে, এবং অন্যান্য জড়িতদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার দাবি জানানো হয়েছে।ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, বিস্ফোরণ থেকে সংগ্রহ করা আলামত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এটি ককটেল বিস্ফোরণ নয়, বরং পটকা বা আতশবাজি‑জাতীয় বিস্ফোরণ। শোভু বাদে অন্যদের গ্রেপ্তারেও পুলিশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।


স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ

স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ

মাদ্রিদের দক্ষিণে উর্দা শহরের কাছে গত বুধবার সংঘটিত দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কা পর, ৬৯ জনের প্রাণহানি এবং অর্ধ শতাধিক আহতের শোকময় পরিপ্রেক্ষিতে স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে ছয় দিন পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।দুর্ঘটনাটি ইউরোপের আধুনিক রেল ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে; ২০১৩ সালের পর স্পেনে এটাই সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনা। রেনফের পরিচালিত একটি ট্রেনে ৩৯৭ যাত্রী ও ইরিও পরিচালিত থেমে থাকা ট্রেনে ১৪৭ যাত্রী ছিল; একটি থেমে থাকা ট্রেনের পেছনে দ্রুতগতির ট্রেনের তীব্র ধাক্কা ঘটায় বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ।পুয়েন্তে, যিনি এক বছরেরও কম সময়ে দেশের রেল নিরাপত্তা নিয়ে দুইটি মারাত্মক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন, পার্লামেন্টে দীর্ঘ অধিবেশনের শেষে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি উল্লেখ করেন, "স্পেনের মতো দেশের পরিবহনমন্ত্রী এক বছরেরও কম সময়ে এ ধরনের দু'টি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর দায়িত্বে থাকতে পারেন না," এবং জানুয়ারিতে একই রেলপথে ৪৬ জনের মৃত্যু ঘটার কথা স্মরণ করে বলেন, তার দায়িত্বের সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে।অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তীব্র হয়েছিল; রক্ষণশীল পিপি ও ডানপন্থী ভক্সসহ প্রধান বিরোধী দলগুলোই পুয়েন্তের পদত্যাগ দাবি করছিল, এমনকি সরকারী জোটের কয়েকটি মিত্র দলও একই দাবি জানায়। রেল নিরাপত্তা নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে সন্দেহ বাড়ায়, এবং সমাজতন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ স্বীকার করেন রেল ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা "ভেঙে পড়েছে"।পুয়েন্তে পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে আগাম সাধারণ নির্বাচন (২৯ নভেম্বর) এর জন্য প্রার্থী তালিকা থেকেও নিজের নাম প্রত্যাহার করেন। তিনি বলেন, "আমি শুধু পরিবহনমন্ত্রীর পদই ছেড়ে দিচ্ছি না, প্রার্থী তালিকা থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছি," এবং এই সিদ্ধান্তকে "রাজনৈতিক মর্যাদাবোধ" হিসেবে তুলে ধরেন।প্রধানমন্ত্রী সানচেজ পুয়েন্তের কাজের প্রশংসা করে বলেন, "পুয়েন্তে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, জবাব ও সমাধান দিয়েছেন এবং এরপর মর্যাদার খাতিরে সরে দাঁড়িয়েছেন," এবং শিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার পদত্যাগকে স্বীকৃতি দেন।


ঋণের চাপে কলেজশিক্ষকের আত্মহত্যা

ঋণের চাপে কলেজশিক্ষকের আত্মহত্যা

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কলেজশিক্ষক শৈলেন্দ্র কুমার চৌধুরী মানিক (৫৬), আর্থিক দারিদ্র্য ও ঋণের চাপে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।মানিক ২০০৩ সালের ২৩ মার্চ কালিকাপুর‑বনপাড়া কৃষি ও কারিগরি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক সাধারণ শাখার পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। কলেজের কারিগরি শাখা এমপিওভুক্ত হলেও সাধারণ শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তিনি সরকারি বেতন‑ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ফলে তিনি দীর্ঘদিন বিনা বেতনে পাঠদান চালিয়ে গেছেন।বছরের পর বছর বেতন‑বিহীন অবস্থায় সংসারের খরচ মেটাতে তিনি ধার‑দেনা বাড়িয়ে চলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ঋণ পরিশোধের জন্য নিজের শেষ সম্পদ—বাড়ি‑ভিটাও বিক্রি করে দেন এবং স্ত্রী ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতে বাধ্য হন। ধারদাতাদের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং আর্থিক সংকট তাকে চরম হতাশায় ঠেলে দেয়।সোমবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যের অনুপস্থিতিতে তিনি ভাড়া বাসায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তার মৃত্যু ঘটে।সহকর্মী নন‑এমপিওভুক্ত প্রভাষক সোহেল রানা মন্তব্য করেন, "দুই দশক ধরে বিনা বেতনে সেবা দেওয়ার পরও রাষ্ট্র শিক্ষকের ন্যূনতম জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।"বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান জানান, এই ঘটনার জন্য থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে এবং মৃতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।এই দুঃখজনক ঘটনা শিক্ষাক্ষেত্রে বেতন‑ভাতা ও আর্থিক সুরক্ষার অভাবের গুরুতর পরিণতি তুলে ধরেছে, যা নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি।


শ্রমিক আন্দোলনে আজও উত্তপ্ত গাজীপুর, টিয়ার শেল ছুড়লো পুলিশ

শ্রমিক আন্দোলনে আজও উত্তপ্ত গাজীপুর, টিয়ার শেল ছুড়লো পুলিশ

গাজীপুরের গাছা থানার সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা‑ময়মনসিংহ মহাসড়কে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে।বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নিলেন, ফলে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শ্রমিকদের ইট‑পাটকেল নিক্ষেপের মুখে গুলি চালালেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।গাজীপুর শিল্প পুলিশের এসপি মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানিয়েছেন, সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল, তবে সাড়ে ৯টার দিকে গাছা থানার সাইনবোর্ড এলাকায় ২ থেকে ৪ হাজার শ্রমিক সড়কে সমাবেশ করেন। এ মুহূর্তে শ্রমিক‑পুলিশের ধাওয়া‑পাল্টাধাওয়া ঘটেছিল এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপের মাধ্যমে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ।তিনি আরও জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় জয়দেবপুর এলাকায়ও শ্রমিকের সমাবেশ ছিল, যা থেকে তাদেরও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সালনা, রাজেন্দ্রপুর, শফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক, তবে কাশিমপুরে কিছুটা উত্তেজনা রয়ে গেছে, ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


সন্ত্রাসী গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার দখলে খুলনা শহর

সন্ত্রাসী গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার দখলে খুলনা শহর

খুলনা মহানগরী এবং পুরো জেলায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের শৃঙ্খলাবদ্ধ হিংসা নাগরিকদের জীবনকে আতঙ্কে ডুব দিয়েছে। বাবা, মা, স্বামী, ভাই‑বোন—প্রতিটি পরিবারের শোকের কারণ এখন শহরের গলিতে গুলি, গণপিটুনি এবং ভয়াবহ অপরাধ।তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে খুলনা মহানগরীসহ জেলায় মোট ৭৫টি গুলি ও গণপিটুনি সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে ৩৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে। কেএমপি (খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ) জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে একজন, ফেব্রুয়ারি মাসে চারজন, মার্চে চারজন, এপ্রিলের দুইজন, মে‑জুনে প্রত্যেকে তিনজন, জুলাই‑আগস্টে মোট আটজন, সেপ্টেম্বর‑অক্টোবর‑নভেম্বর মাসে মোট বারোজনের মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে চারটি হত্যাকাণ্ড ঘটছে। একই সময়ে ১৫৯ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পুলিশের তালিকায় বর্তমানে ২২টি সন্ত্রাসী সংগঠন ও কিশোর গ্যাং রয়েছে। প্রধান গ্যাংগুলো হল ‘বি’ কোম্পানি (রনি চৌধুরী/বাবু চৌধুরী/গ্রেনেড বাবু নেতৃত্বে), আশিক বাহিনী, নূর আজিম গ্রুপ, গোল্ডেন বয়েজ, টিপসি বয়েজ, কিং অব রূপসা, পলাশ গ্রুপ, হুমা বাহিনী, ডেঞ্জার বয়েজ, টেঙ্কি শাওন গ্রুপ, আরমিন গ্রুপ, শাকিল গ্রুপ, নাসিম গ্রুপ, সেভেন স্টার, নাইন্টিন বয়েজ, ব্লাড বয়েজ, ব্ল্যাক ঈগল, ডার্ক নাইটস, সিন্ডিকেট, চিংড়ি পলাশ গ্রুপ এবং রকি গ্রুপ। এই গ্যাংগুলো মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের জন্য একে অপরকে হত্যা করে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে দমবন্ধ হয়ে পড়েছে।কেএমপি সূত্রে বর্তমানে ১৫ জন শীর্ষ সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত, যাদের মধ্যে কিছু কারাগার থেকে বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে। ‘বি’ কোম্পানির শীর্ষ নেতা রনি চৌধুরী (বাবু চৌধুরী, গ্রেনেড বাবু) ভারতের বোম্বে বা মালয়েশিয়া থেকে নির্দেশনা পাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়। গ্রেনেড বাবুর মাদক বিক্রির আয় দিনে অর্ধ কোটি টাকারও বেশি, যা তাকে অপরাধের শীর্ষে রাখে। কয়েক মাস আগে শামসুর রহমান রোডে গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার বাবা মিন্টু চৌধুরীসহ দুই‑তিনজন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রায় ৪০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়।হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি চাঁদাবাজি শহরে ছড়িয়ে রয়েছে। ‘বি’ কোম্পানি স্বনামধন্য চিকিৎসক, ক্লিনিক ও সরকারি কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর কোটি টাকার চাঁদা দাবি করে। উদাহরণস্বরূপ, সরকারি আয়ম খান কমার্স কলেজের পাশে একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা চাঁদা নেওয়া হয়, আর সাব‑রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে ৩৫ লাখ টাকা দিয়ে চাঁদা মুক্তি পেতে হয়। একই গ্যাং একটি ক্লিনিকের ওপর ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে, না দিলে ভাঙচুর করে।অ্যাক্সটর্সনও সীমাবদ্ধ নয়। ২৬ অক্টোবর পাইকগাছা উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আহসানারা বিনতে আহমেদকে ফোনে চাঁদা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। একদিন আগে একই উপজেলায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও হুমকি জানানো হয়।অবস্থা নিয়ে নাগরিক নেতা ও মানবাধিকার কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলদার বলেন, খুলনার আইনশৃঙ্খলা নাজুক হয়ে দাঁড়িয়েছে; সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য শহরের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে আছে। মানবাধিকার সংস্থার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, প্রকৃত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত না করলে শান্তি ফিরিয়ে আনা কঠিন।পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া জানান, মাদককেন্দ্রিক অপরাধই মূল সমস্যা; কিশোর‑তরুণদের মাধ্যমে সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে। জেলা পুলিশ সুপারভাইজর ওমর ফারুক জানান, সন্ত্রাস দমন করতে ব্লক রেইড, স্পট রেড ও তালিকা অনুসারে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে; মাদক স্পটগুলোতে হানা দেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে।


পোশাক খাতের আন্দোলনের ৩ শ্রমিক নেতা আটক

পোশাক খাতের আন্দোলনের ৩ শ্রমিক নেতা আটক

ঢাকার সাভার থানা আশুলিয়া থেকে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান কর্মসূচিতে উসকানি দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে তিনজন শ্রমিক নেতা গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আশুলিয়া থানার বিভিন্ন স্থানে থেকে এই নেতাদের আটক করেছে। ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সাইদুল ইসলাম জানান, আটক করার ভিত্তি ছিল চলমান শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দিয়ে অস্থিরতা তৈরির যথাযথ তথ্যপ্রমাণ।আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আশুলিয়া থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আ. হালিম (৩৭), বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম (৪৮) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনসুর আলী (৪৬)। শামীমকে জিরাবো এলাকা থেকে, হালিম ও মনসুরকে বসুন্ধরা সোনিয়া মার্কেট থেকে আটক করা হয়।অধিকর্তা জানান, আটক করা তিন নেতাকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপ শ্রমিক সংগঠনগুলোকে সতর্ক করার পাশাপাশি ন্যূনতম মজুরি দাবির আলোকে আন্দোলনের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।


মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে আহত শ্রমিক তৌফিকের মৃত্যু

মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে আহত শ্রমিক তৌফিকের মৃত্যু

গাজীপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে আঘাতপ্রাপ্ত ২২‑বছরের গার্মেন্টস কর্মী তৌফিক শেখ শিন শিন জাপান হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যু শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকার সংক্রান্ত প্রশ্ন তীব্রতর করেছে।তৌফিক শেখ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা । তিনি তবিবর রহমান তবির পুত্র এবং গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় বসবাস করতেন। তৌফিক লায়লা গার্মেন্টসে চাকরি করতেন এবং একই সঙ্গে ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ২০২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি এক বন্ধুর মাধ্যমে গার্মেন্টস শিল্পে কর্মসংস্থান পেয়েছিলেন।সোমবার থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানায় মজুরি বৃদ্ধি দাবিতে কর্মীরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছিল। তৌফিকের বড় ভাই হারুন মিয়া জানান, তৌফিক আন্দোলনের দৃশ্য মোবাইল ফোনে রেকর্ড করার চেষ্টা করছিলেন; তখনই কিছু অপরিচিত ব্যক্তি তার ওপর আক্রমণ করে চড়া ও বেধড়ক মারপিট করে। আঘাতের পর শ্রমিক সহকর্মীরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে শিন শিন জাপান হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে তার মৃত্যু ঘটে।গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মো. মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, তৌফিকের দেহ রাত ১০টার দিকে গ্রাম বাড়িতে পৌঁছেছে এবং বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ছয়ঘরিয়া গ্রামে জানাজা হবে, পরে কবরস্থানে দাফন করা হবে। কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন উল্লেখ করেন, এক কারখানা বন্ধ করার জন্য বহিরাগত লোকজনের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে তৌফিকের মতো কর্মী গুরুতর আঘাত পেয়েছেন; ঘটনার সময় সেখানে কোনো পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।


এবার পল্লবীর কুরিয়ার অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ

এবার পল্লবীর কুরিয়ার অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় মঙ্গলবার রাত ৮:৩০ টার কাছাকাছি এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসের শাখার সামনে দু’টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের ফলে ২১ বছর বয়সী মো. রমজান নামের এক কর্মী গুরুতরভাবে আহত হন এবং তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) আফসার উদ্দিন সুজন প্রথম আলোকে জানান, মুখোশ পরা এক অপরাধী ৮:৩৫‑৪০ মিনিটের মধ্যে দুইটি ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, আহত কর্মীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।পল্লবী থানার ওয়ান সি (ওসি) জালাল উদ্দিন প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলে জানান, এজেআর কুরিয়ার শাখার ওপর পূর্বে একই ধরণের ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমান ঘটনার সঙ্গে তা সংযুক্ত হতে পারে। পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সূত্র যাচাই করছে।এটি এজেআর কুরিয়ার সেবা কেন্দ্রের ওপর ধারাবাহিক সন্ত্রাসী আক্রমণের ধারাবাহিকতা। ২০ অক্টোবর রাজধানীর হাজারীবাগে সিকদার মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন শাখায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে, যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ও সংরক্ষণ যন্ত্র চুরি হয় এবং ৩১ লাখ টাকার পণ্য লুটের অভিযোগ করা হয়। ২৫ অক্টোবর গুদামে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা এবং কর্মীকে মারধর করে মুঠোফোন ও মানিব্যাগ চুরি করার ঘটনা ঘটেছে। ৩১ অক্টোবর রাজধানীর তিনটি এলাকায় এজেআর কুরিয়ার গাড়িতে একই রকম হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যার ফলে এক চালক মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন।পুলিশ এখন পর্যন্ত ১১ জন সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার করেছে এবং মামলাটি কঠোরভাবে অনুসন্ধান করছে। এজেআর কুরিয়ার কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত সিকিউরিটি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে, যখন কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে সতর্ক করে অজানা ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো সন্দেহজনক বস্তু গ্রহণ না করতে আহ্বান জানিয়েছে।