মাদ্রিদের দক্ষিণে উর্দা শহরের কাছে গত বুধবার সংঘটিত দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কা পর, ৬৯ জনের প্রাণহানি এবং অর্ধ শতাধিক আহতের শোকময় পরিপ্রেক্ষিতে স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে ছয় দিন পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
দুর্ঘটনাটি ইউরোপের আধুনিক রেল ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে; ২০১৩ সালের পর স্পেনে এটাই সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনা।
রেনফের পরিচালিত একটি ট্রেনে ৩৯৭ যাত্রী ও ইরিও পরিচালিত থেমে থাকা ট্রেনে ১৪৭ যাত্রী ছিল; একটি থেমে থাকা ট্রেনের পেছনে দ্রুতগতির ট্রেনের তীব্র ধাক্কা ঘটায় বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ।
পুয়েন্তে, যিনি এক বছরেরও কম সময়ে দেশের রেল নিরাপত্তা নিয়ে দুইটি মারাত্মক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন, পার্লামেন্টে দীর্ঘ অধিবেশনের শেষে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "স্পেনের মতো দেশের পরিবহনমন্ত্রী এক বছরেরও কম সময়ে এ ধরনের দু'টি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর দায়িত্বে থাকতে পারেন না," এবং জানুয়ারিতে একই রেলপথে ৪৬ জনের মৃত্যু ঘটার কথা স্মরণ করে বলেন, তার দায়িত্বের সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে।
অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তীব্র হয়েছিল; রক্ষণশীল পিপি ও ডানপন্থী ভক্সসহ প্রধান বিরোধী দলগুলোই পুয়েন্তের পদত্যাগ দাবি করছিল, এমনকি সরকারী জোটের কয়েকটি মিত্র দলও একই দাবি জানায়।
রেল নিরাপত্তা নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে সন্দেহ বাড়ায়, এবং সমাজতন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ স্বীকার করেন রেল ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা "ভেঙে পড়েছে"।
পুয়েন্তে পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে আগাম সাধারণ নির্বাচন (২৯ নভেম্বর) এর জন্য প্রার্থী তালিকা থেকেও নিজের নাম প্রত্যাহার করেন। তিনি বলেন, "আমি শুধু পরিবহনমন্ত্রীর পদই ছেড়ে দিচ্ছি না, প্রার্থী তালিকা থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছি," এবং এই সিদ্ধান্তকে "রাজনৈতিক মর্যাদাবোধ" হিসেবে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী সানচেজ পুয়েন্তের কাজের প্রশংসা করে বলেন, "পুয়েন্তে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, জবাব ও সমাধান দিয়েছেন এবং এরপর মর্যাদার খাতিরে সরে দাঁড়িয়েছেন," এবং শিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার পদত্যাগকে স্বীকৃতি দেন।
মতামত