দৈনিক আদ্যোপান্ত
ঝিনাইদহে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে টায়ারে আগুন, আটক ১

ঝিনাইদহে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে টায়ারে আগুন, আটক ১

ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের নগরবাথান বাজারের কুঠিপাড়া এলাকায় ৪ নভেম্বর সকাল ৫টায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান সহ টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পটকা‑জাতীয় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেল চালকসহ প্রায় ১৪‑১৫ জন ব্যক্তি স্লোগান চিৎকারের সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুতস্থান ত্যাগ করে, তবে পুলিশ দ্রুতই শোভু (২৫), ইজাহার মিয়ার পুত্র এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীকে গ্রেফতার করে।স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান জানান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা‑কর্মীরা মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করে কুঠিপাড়া এলাকায় পটকা‑জাতীয় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।শোভুকে ঘটনাস্থল থেকে তৎক্ষণাত্‌ই পুলিশ গ্রেপ্তার করে, এবং অন্যান্য জড়িতদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার দাবি জানানো হয়েছে।ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, বিস্ফোরণ থেকে সংগ্রহ করা আলামত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এটি ককটেল বিস্ফোরণ নয়, বরং পটকা বা আতশবাজি‑জাতীয় বিস্ফোরণ। শোভু বাদে অন্যদের গ্রেপ্তারেও পুলিশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

পিরোজপুরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৫

পিরোজপুরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় ছাত্রদলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্যের জন্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ফলে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত এবং একজনকে আটক করেছে পুলিশ।সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে এক দল দেশীয় অস্ত্রসহ অপর দলকে আক্রমণ করে। পুলিশ জানায়, আঘাতপ্রাপ্তদের মধ্যে জিহাদ মাতুব্বর (মিজান মাতুব্বরের ছেলে) গুরুতর আঘাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে; অন্যান্য চারজন আহত হলেন নাইম (মাহিদুলের ছেলে), শান (মাছিমপুরের বাসিন্দা), তাশফি (মিঠুর ছেলে) এবং নিরব (আউয়ালের ছেলে)।ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দল দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাফিস (২৫) কে গ্রেফতার করে।পিরোজপুর জেলা ছাত্রদল সভাপতি সালাউদ্দিন কুমার, যিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন, জানিয়ে দেন যে এই ধরনের হিংসা তার দলের নীতি বিরোধী এবং জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলামও ঘটনাটি স্বীকার করে বলেন, মারামারির ফলে পাঁচজন আহত এবং একজন গ্রেফতার হয়েছে; আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

পিরোজপুরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৫

স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী আটক

ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামী মো. পারভেজ ইসলামকে বন্ধুর সহায়তায় স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তাকে ঠাকুরগাঁওয়ের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে জেলখানায় পাঠায়।মামলাটি সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী তার স্বামীকে বাদী হিসেবে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় দায়ের করেন। অভিযোগে পারভেজের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২ এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর প্রাসঙ্গিক ধারা অনুসারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপর আসামি হাফিজউদ্দীন বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন; এজাহারে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর পারভেজ ইসলামের সঙ্গে বিবাহিত হওয়ার পর দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। প্রায় নয় মাস আগে স্ত্রীর অজান্তে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করে সংরক্ষণ করা হয়। পরে পারভেজ তার স্ত্রীর ওপর তালাকের চাপ বাড়াতে এসব মিডিয়া ব্যবহার করে হুমকি দেন।হুমকি পূরণ না হলে, পারভেজ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হাফিজউদ্দীনের কাছে ওই ছবি ও ভিডিও পাঠায়। দুজনের যৌথ পরিকল্পনায় একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি তৈরি করে সেগুলি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। এজাহারে উল্লেখ আছে, হাফিজউদ্দীনকে পারভেজের সঙ্গে বিবাহের জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল।ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি শাহজাহান আলী জানান, প্রধান আসামি পারভেজ ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। 

স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী আটক

যশোরের অভয়নগর থানার ওসি নুরুজ্জামান ক্লোজড

যশোর জেলার অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের এক নির্দেশে তাকে এ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওসি নুরুজ্জামানকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন।তবে কী কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সম্পূর্ণ প্রশাসনিক কারণে ইন্সপেক্টর নুরুজ্জামানকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

যশোরের অভয়নগর থানার ওসি নুরুজ্জামান ক্লোজড

যশোরের পাঁচফোড়ন রেস্টুরেন্টে লাখ টাকা জরিমানা

যশোর শহরে সুপরিচিত খাবারের প্রতিষ্ঠান পাঁচফোড়ন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নানা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। রান্নাঘরে মশা-মাছির উপদ্রব, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং একই ফ্রিজে রান্না করা খাবার ও কাঁচা মাংস সংরক্ষণের মতো অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।মঙ্গলবার দুপুরে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক সুমনা পালের নেতৃত্বে একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। প্রথমে অভিযানকারী দলটি যশোর শহরের এমকে রোডে অবস্থিত পাঁচফোড়ন রেস্টুরেন্টে যায়। পরে বিমান অফিস রোডে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির রান্নাঘরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় রান্নাঘরের পরিবেশ দেখে নানা অসংগতি ধরা পড়ে। রান্নাঘরে মশা-মাছির উপদ্রবের পাশাপাশি যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। রান্নাঘরের বিভিন্ন অংশ ছিল স্যাঁতসেঁতে ও অপরিচ্ছন্ন। এ ছাড়া রান্নার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষাব্যবস্থাও ছিল না। অভিযানকালে একই ফ্রিজে রান্না করা খাবার ও কাঁচা মাংস সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। পাশাপাশি একটি ফ্রিজে দীর্ঘদিনের পুরোনো মাংস পাওয়া যায়। পরে অভিযানকারী দলটি আবারও রেস্টুরেন্টে ফিরে এসে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। এ সময় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য সনদ, স্যানিটারি সনদ ও ফায়ার সার্ভিসের সনদ দেখাতে ব্যর্থ হয়। এসব অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।এরপর অভিযানকারী দলটি যশোর শহরের দড়াটানায় অবস্থিত নিউ ভৈরব হোটেল ও জনি হোটেলে অভিযান চালায়। সেখানে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের পরিবেশ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। তবে গুরুতর কোনো অনিয়মের প্রমাণ না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হয়।অভিযানে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুর রহমান, সদর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মহিবুর রহমানসহ পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।

যশোরের পাঁচফোড়ন রেস্টুরেন্টে লাখ টাকা জরিমানা

যশোরে আ.লীগের কর্মকাণ্ড প্রতিহতের ঘোষণা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের

যশোরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনগুলোর নেতারা।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।বিক্ষোভ মিছিলটি যশোর শহরের চারখাম্বা মোড় থেকে শুরু হয়ে থানার মোড় প্রদক্ষিণ করে বকুলতলায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ, সদস্যসচিব আনসারুল হক রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল, সদস্যসচিব রাজেদুর রহমান সাগর, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি ও সদস্যসচিব শাহ নেওয়াজ ইমরানসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি।বক্তব্যে মোস্তফা আমির ফয়সাল অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোনো লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির আর দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে মোস্তফা আমির ফয়সাল বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরতে ২২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এবার ৪২ বছর অপেক্ষা করলেও তিনি দেশে ফিরতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান স্বেচ্ছাসেবক দলের এই নেতা।সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।এদিকে সম্প্রতি যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নামে ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি ১ নভেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে শহরের বকুলতলায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।সমাবেশে বক্তারা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান।সমাবেশে সমাপনী বক্তব্য দেন যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

যশোরে আ.লীগের কর্মকাণ্ড প্রতিহতের ঘোষণা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাবুলের বাড়িতে যুবদল নেতা রানা

যশোরের সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের যুবদল নেতা বাবুল হোসেনের বসতবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে যশোর জেলা যুবদল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বাবুল হোসেনের বাড়িতে যান যশোর জেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনসারুল হক রানা। এ সময় তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি পরিদর্শন করেন এবং বাবুল হোসেনের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।পরিদর্শনকালে আনসারুল হক রানা আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘর, আসবাবপত্র ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল ঘুরে দেখেন। তিনি বাবুল হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। জানা গেছে, সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর দেয়াড়া ইউনিয়নের যুবদল নেতা বাবুল হোসেনের বসতবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসতঘরের বিভিন্ন অংশে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় মালামালের অধিকাংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেও আগুন লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এ ঘটনায় পরিবারের কেউ হতাহত না হলেও দীর্ঘদিনের কষ্টে গড়ে তোলা সংসারের প্রায় সবকিছু হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বাবুল হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন জেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনসারুল হক রানা।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাবুলের বাড়িতে যুবদল নেতা রানা

যশোরে পুলিশের এএসআই এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায় এবং থানার সামনে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগে ঝিকরগাছা থানার এএসআই আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৪-৫জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার মামলাটি করেছেন উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকার মৃত মোজাফ্ফরের ছেলে আসাদুজ্জামান।অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদীর ভাইকে গ্রেপ্তারের পর ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা দাবি করা হয়। পরে টাকা নেওয়ার পরও আরও অর্থ দাবি এবং মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারক মামলাটি তদন্ত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম এন্স অপস) কে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, গত ২৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৩টার দিকে এএসআই আশরাফুল আলম অন্যদের সঙ্গে নিয়ে বাদীর বাড়িতে যান। এ সময় বাদীর সেজো ভাই মো. রেজাউল করিমকে খুঁজতে থাকেন। তাঁকে বাড়িতে না পেয়ে বাদীর কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। আসামিরা তাকে বলেন, সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ১০ হাজার টাকা ব্যবস্থা করে দিতে হবে। টাকা না দেয়ায় পরদিন ২৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টায় ভাই রেজাউল করিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে আসাদুজ্জামানের কাছে কল আসে। তিনি জানতে পারেন, তার ভাইকে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পরে ভাইয়ের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিতে তিনি থানায় যান। সেখানে ডিউটি অফিসারের কক্ষের সামনে থেকে তাকে হাজতখানার সামনে নিয়ে যান এএসআই আশরাফুল আলম। এ সময় তার বাম পকেট থেকে নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয় এবং আরও ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য বলা হয় তাকে। ভাইয়ের মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন আটকে রাখা হয়। মানিব্যাগ দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। পরে থানা থেকে বের হওয়ার সময় মানিব্যাগটি নিচে পড়ে গেলে সেটি তুলতে যাওয়ার মুহূর্তে তাকে সজোরে থাপ্পড় মারেন এএসআই আশরাফুল আলম এবং ভয়ভীতি দেখান। পুরো ঘটনা থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করেছেন।

যশোরে পুলিশের এএসআই এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

মহেশপুর সীমান্তে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার চাপাতলা সীমান্ত এলাকার ধান খেত থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তবে তার নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।তার বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। ধানখেতের আইলে পড়ে থাকা ওই নারীর পরনে বোরকা ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, মহেশপুরের সীমান্তবর্তী চাপাতলা এলাকার বিলের মাঠে ধানখেতে দুপুর দেড়টার দিকে এক নারীর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।তিনি আরও জানান, মরদেহের গায়ে এখন পর্যন্ত আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলেই জানা যাবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।ঝিনাইদহ বিজিবি ৫৮ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।

মহেশপুর সীমান্তে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

বেনাপোলে ট্রাকের ধাক্কায় শিক্ষার্থী আহত, চালক আটক

যশোর জেলার বেনাপোলে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের ধাক্কায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রাকচালককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে কাগজপুকুর বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে যশোরের বেনাপোলের কাগজপুকুর বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিশুর নাম ইনামুল হাসান বিন নূর। সে স্থানীয় ইনামুল হাসান বিন নূর প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড মাদরাসার প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা থেকে বেনাপোলগামী একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক শিশুটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সে আহত হয়।দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ট্রাকচালক বাবুল মিদ্দাকে আটক করেন। পরে তাকে বেনাপোল পোর্ট থানার সামনে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ তিতুমীর জানান, আটক চালকের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

বেনাপোলে ট্রাকের ধাক্কায় শিক্ষার্থী আহত, চালক আটক

যশোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা হয়েছে।মামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী, সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।সোমবার (২ নভেম্বর) থানায় দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বাঘারপাড়া থানায় মামলাটি গ্রহন করা হয়। মামলার বাদী বাঘারপাড়ার দোহাকুলা গ্রামের বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম (৪৬)।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বাঘারপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বায়েজীদ হোসেন, সহসভাপতি কুতুব হোসেন, আদিল হোসেন ও পিকুল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল কবির বিপুল ফরাজী, বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান লিটন, দপ্তর সম্পাদক তরুণ হোসেন ও সদস্য এনায়েত হোসেন লিটন।এ ছাড়া ৮ নম্বর বাসুয়াড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর সরদার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইদ সরদার, ৬ নম্বর দোহাকুলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওহিদুর রহমান, নারিকেলবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু কুমার সাহাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারাও আসামির তালিকায় রয়েছেন।এজাহারে আরও উল্লেখ রয়েছে, আসামিদের কয়েকজনকে পলাতক দেখানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এর ৬, ৭, ১০, ১১ ও ১২ ধারায় মামলা করা হয়েছে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঘারপাড়া থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। এ মামলায় ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

যশোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা

যশোর জেনারেল হাসপাতালে ছিনতাইয়ের অভিযোগে নারী আটক

যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে হাতেনাতে আটক করেছে সাধারণ জনগণ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের করোনারি ভবনের ১৪ নম্বর বহির্বিভাগের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।আটক নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানার গড় মণ্ডল গ্রামের তবারকের স্ত্রী খাইরুন্নেসা। অন্যদিকে ভুক্তভোগী হাসিনা বেগম (৪০) যশোর সদর উপজেলার রাজনগর সাড়াতলা গ্রামের মজিবরের স্ত্রী।হাসপাতাল সূত্রে জানাযায়, মঙ্গলবার সকালে হাসিনা বেগম চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনারি ভবনের ১৪ নম্বর বহির্বিভাগের কক্ষে যান। সেখানে অবস্থানকালে তাঁর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন টান দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে খাইরুন্নেসার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।এ সময় অভিযুক্ত নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাঁর কাছ থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ও নগদ এক হাজার ৮৫০ টাকা পাওয়া যায়।

যশোর জেনারেল হাসপাতালে ছিনতাইয়ের অভিযোগে নারী আটক

ছোট ভাইয়ের মারধরে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

চাঁদপুরের সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের গাছতলা পাটওয়ারী বাড়িতে সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সম্পত্তি বিরোধে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ৬০ বছর বয়সী শাহজাহান পাটওয়ারী মারধরে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।শাহজাহান পাটওয়ারী এবং তার ছোট ভাই শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে তীব্র বিরোধে লিপ্ত ছিলেন। উভয়ের মধ্যে জমি, বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ বহু বছর ধরে বাড়তে থাকায় সম্পর্কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিল।সোমবার বিকেলে, ছোট ভাই শাহ আলম তার স্ত্রীসহ গৃহে প্রবেশ করে শাহজাহানকে বেদম মারধর করেন। মারধরের পর শিকারের শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু ঘটে।চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মৃতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছোট ভাইয়ের মারধরে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

সার বিতরণে অনিয়ম পেলে ডিলারশিপ বাতিল: কৃষিমন্ত্রী

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ রবি মৌসুমের সার সরবরাহে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন।সোমবার মন্ত্রী সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি জানিয়েছেন, সার ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা কৃষক হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সভায় দেশের সব জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকগণ অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। মন্ত্রী জোর দিয়ে বললেন, নতুন ডিলারদের লাইসেন্স প্রদান ও ডিলারশিপ এলাকা নির্ধারণে জমির পরিমাণ, কৃষকের সংখ্যা ও ফসলের নিবিড়তা বিবেচনা করা হবে। নিয়ম লঙ্ঘনকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি বাধ্যতামূলক করা, প্রতিটি ডিলারের দোকানে মূল্যতালিকা ও মজুতের তথ্য প্রকাশ, কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত দাম আদায়, মজুতদারি ও সীমান্তে অবৈধ পাচার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিয়মিত অভিযান চালানোও মন্ত্রীর নির্দেশে অন্তর্ভুক্ত।কৃষক কার্ড ও কৃষকের তালিকা ব্যবহার করে প্রকৃত কৃষকের কাছে ন্যায্যভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি, রবি মৌসুমের জন্য সারের বরাদ্দ ও সরবরাহ বৃদ্ধি করা হবে। সীমান্তবর্তী জেলায় সার পাচার রোধে কঠোর নজরদারি রাখা, প্রতিবেশী দেশের নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা ও দামের পার্থক্যের কারণে সম্ভাব্য পাচার রোধে সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।মন্ত্রীর মতে, সরকার সারের ওপর বিশাল ভর্তুকি প্রদান করে, তবে তা প্রকৃত কৃষকেরই পৌঁছাতে হবে। কোনো জেলায় অনিয়ম দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের জবাবদিহি করা হবে। এছাড়া ইউরিয়া সার শিল্পকারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বস্ত্র ও ডাইং কারখানার তথ্য সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে, প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা পর্যায়ের সার মনিটরিং কমিটিকে নিয়মিত সভা করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

সার বিতরণে অনিয়ম পেলে ডিলারশিপ বাতিল: কৃষিমন্ত্রী

মাকে হত্যা করা শিক্ষকের কারাগারে মৃত্যু

যশোরে বটি দিয়ে মায়ের গলা কেটে হত্যা মামলার আসামি সাবেক শিক্ষক মামুনুর রশিদ মামুন (৪৫) যশোর কারাগার হেফাজতে মারা গেছেন। খুলনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।গত রোববার (১ নভেম্বর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ।খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ হাসান আলী হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর আবিদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামুনুর রশিদ মামুন হত্যা মামলার আসামি হিসেবে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি ছিলেন। গত রোববার হৃদরোগে আক্রান্ত হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনার সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কারারক্ষীরা তার পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন।খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ হাসান আলী জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামুনের মরদেহ যশোরে পাঠানো হয়েছে।মামুন যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে।তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন। তার মা আনোয়ারা বেগমের (৫৮) হত্যাকাণ্ডটি ঘটে গত ২৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে।স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মামুনের দুটি বিয়ে হয়েছিল। প্রায় আট-নয় বছর আগে সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের মিথিলা নামে এক তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি। পরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ঝিকরগাছার অমৃতবাজার গ্রামের রিনা নামে আরেক নারীকে বিয়ে করেন মামুন। প্রায় ছয় বছর আগে এই সংসারও ভেঙে যায়।দুই স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ ও বিচ্ছেদের জন্য মামুন তার মাকে দায়ী করতেন। এ নিয়ে এর আগেও মায়ের সঙ্গে তার বিরোধ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল বলে জানান এলাকাবাসী।তাদের দাবি, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসা নেন তিনি।স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকা মামুন প্রায় পাঁচ বছর পর গত ২৭ আগস্ট বাড়িতে ফেরেন। সেদিন বিকেলে মায়ের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে মামুন ধারালো বটি দিয়ে মায়ের গলায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই আনোয়ারা বেগমের মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে মামুন বটি ফেলে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার মামুনকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছিল।

মাকে হত্যা করা শিক্ষকের কারাগারে মৃত্যু

মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় নারীসহ আটক ৫

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারত প্রবেশের সময় নারীসহ ৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে ৫৮ বিজিবি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কুসুমপুর বিওপির সদস্যরা তাদের আটক করেন। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কুসুমপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের মেইন পিলার ৬১/১৮-আর থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পিপুলবাড়ীয়া গ্রামের কালুর বাড়ির পাশ থেকে তাদের আটক করা হয়। কুসুমপুর বিওপির নায়েব সুবেদার মো. ভূঁইয়া ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ একটি টহল দল অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে তাদের আটক করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি দালাল চক্র তাদের ভারতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের বনানী বিশ্বাস (৪২) ও তার ছেলে কৌশিক বিশ্বাস (২০), ফরিদপুরের দক্ষিণ আলীপুর এলাকার কৃষ্ণ হীরা (৫৫), গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাঘাদিয়া গ্রামের সুখদেব বাইন (৩১) এবং বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বড়দুলালী গ্রামের তাহনা আক্তার স্বর্ণা (১৫)। এ ঘটনায় আটক পাঁচজনকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় নারীসহ আটক ৫