দৈনিক আদ্যোপান্ত

ক্রিকেট

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ম্যাক্সওয়েলের বিদায়

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ম্যাক্সওয়েলের বিদায়

২০২৩ বিশ্বকাপের এক স্মরণীয় মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ২০১ রান অপরাজিতভাবে গড়ে দলকে ৪৬.৫ ওভারে জয়ী করিয়ে দেন। তবে এই দিনই ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষের সূচনা। ৩৮ বছর বয়সে, ২ নভেম্বর রাতের দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড পডকাস্টে ম্যাক্সওয়েল নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন, যা প্রায় ১৪ বছর, ৭টি টেস্ট, ১৪৯টি ওয়ানডে এবং ১৩০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সমাপ্তি চিহ্নিত করে।ম্যাক্সওয়েল তার ক্যারিয়ারে মোট ৭,২২৬ রান এবং ১৩৬টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন। ওয়ানডেতে ৩,৯৯০ রান, টি-টোয়েন্টিতে ২,৮৯৭ রান এবং পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছেন, যা তাকে রোহিত শর্মার সঙ্গে শীর্ষে রাখে। তার ব্যাটিং শৈলী ছিল অনন্য; রিভার্স সুইপ, সুইচ হিট এবং অপ্রচলিত শটের মাধ্যমে তিনি শটের বৈচিত্র্য দেখিয়েছেন, যা তাকে 'দ্য বিগ শো' নামে জনপ্রিয় করে তুলেছে।বিশ্বকাপের সেই স্মরণীয় ইনিংসের আগে, ম্যাক্সওয়েল ২০১৫ ও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিজয়ী দলে অংশ নেন। তার অলরাউন্ড ক্ষমতা টেস্টে সীমিত হলেও, সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে তিনি আক্রমণাত্মক শক্তি হিসেবে স্বীকৃত।ম্যাক্সওয়েলের অবসরের কারণ সরাসরি বয়স নয়; তিনি শারীরিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে হাঁটু ও পিঠের পুনর্বাসনে সময় দিতে চান। তার শেষ ওয়ানডে ম্যাচ ছিল ২০২৫ সালের জুনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে, যেখানে তিনি শেষবারের মতো আন্তর্জাতিক শার্ট পরিধান করেন। এরপরও তিনি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলতে থাকবেন, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওমানের বিপক্ষে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবেন।অবসর সত্ত্বেও, ম্যাক্সওয়েল অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে খেলতে থাকবেন এবং ২০২৭-২৮ মৌসুম পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ রয়েছেন। 

বাংলাদেশের ফাইনাল স্বপ্ন শেষ

ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তান দল ৭ উইকেটে বাংলাদেশকে পরাজিত করে শীর্ষে উঠে, ফলে বাংলাদেশের ফাইনাল স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেওয়া বাংলাদেশ ১৬০ রানে অলআউট হয়ে ৪১.২ ওভারে শেষ করে, যার পর আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতে হতো, কিন্তু তারা তা করতে ব্যর্থ হয়।বাংলাদেশের ব্যাটিং শুরুতে দ্রুত শীর্ষে গিয়ে ২৮ রানেই চারটি উইকেট হারায়। পারভেজ হোসেন (৭০ রান, ৯৬ বল) ও সাইফ হাসান (৮২ রান, ৪১ বল) একত্রে ১৫০ রানের কাছাকাছি জুটি গড়ে তোলেন, তবে বাকি অংশে নাজমুল হোসেন, সৌম্য সরকার, হৃদয় এবং মোস্তাফিজুর রহমানের মতো খেলোয়াড়রা এক অঙ্কে আউট হয়ে দলকে ১৬০ রানে সীমাবদ্ধ রাখে।আফগানিস্তানের শিকড়ে রাহমত শাহের ৬৭ রান ছিল প্রধান চালিকাশক্তি। তারা ২০ ওভারে ৯৫/৩ এবং ১৮ ওভারে ৮০/২ স্কোর করে শীঘ্রই লক্ষ্য অর্জন করে। শেষ পর্যন্ত ৩৫.৩ ওভারে ১১৯ রানের বেশি স্কোর করে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটের পার্থক্যে হারায়। তাসকিন আহমেদের চমৎকার ডেলিভারিতে সেদিকউল্লাহ আতাল (১৩ বলে ৪ রান) ও তাসকিনের নিজস্ব ৪ ওভারে ২৪ রানে দুইটি উইকেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।এই জয়ে আফগানিস্তান পরশু শারজায় জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ফাইনালে মুখোমুখি হবে, আর বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ পর্যায়ে আর কোনো সুযোগ পাবে না। দলটি পরবর্তী ম্যাচে পুনর্গঠন ও শট-ইন-দ্য-গ্যাপের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে, বিশেষ করে শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিকতা ও বোলারদের উইকেট গ্রহণের ক্ষমতা উন্নত করতে হবে।

বাংলাদেশের ফাইনাল স্বপ্ন শেষ

এবার ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন শেবাগের ছেলে

ভারতের কিংবদন্তি ওপেনার বীরেন্দ্র শেবাগের ছেলে আর্যবীর শেবাগ ভিনু মানকড় ট্রফিতে ১৭৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন।চণ্ডীগড় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মুখোমুখি দিল্লি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে আর্যবীরের সূচনা ১৪৩ বলের সঙ্গে ১৭৩ রান, যার মধ্যে ১৯টি চার এবং আটটি ছক্কা অন্তর্ভুক্ত। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি দলকে গ্রুপ ই-তে তলানিতে থাকা সত্ত্বেও আলাদা করে তুলেছেন।সম্প্রতি আর্যবীরের ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে তিন ম্যাচের যুব ওয়ানডে সিরিজে অভিষেকের সময়ও ১০৯ রান সংগ্রহের ইতিবাচক ছাপ দেখা গিয়েছে, সর্বোচ্চ স্কোর ৪৭। এই ধারাবাহিকতা তাকে ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম তারকা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।বীরেন্দ্র শেবাগও নিজের ছেলের ওপর বাড়তি নজর থাকার স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছিলেন, "চাপ তো থাকবেই, কিন্তু মাঠে গিয়ে মুক্ত মনে খেলো। নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলো, বড় রান করার চিন্তা করো না। তুমি যদি নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারো, তবে বড় রান এমনিতেই আসবে।" 

এবার ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন শেবাগের ছেলে