দৈনিক আদ্যোপান্ত
Topic Ads 1
পদত্যাগের দাবি ‘অসত্য’ ও ‘ভিত্তিহীন’ : ইশরাক

পদত্যাগের দাবি ‘অসত্য’ ও ‘ভিত্তিহীন’ : ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তার যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তার পদত্যাগের কোনো খবর সম্পূর্ণভাবে অসত্য ও ভিত্তিহীন। তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চপর্যায়ের কোনো সরকারি নির্দেশনা তাকে পদত্যাগের জন্য দেওয়া হয়নি এবং তিনি সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়া গুজবগুলো একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা। তিনি এ ধরনের মিথ্যা তথ্যকে “বানোয়াট” বলে বর্ণনা করে, সংশ্লিষ্ট মিডিয়াগুলিকে সঠিক তথ্য প্রকাশের জন্য অবিলম্বে সংশোধন করার আহ্বান জানান।গত শনিবার সংসদীয় আসনে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির সময় আত্মরক্ষার জন্য আইনসঙ্গতভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ে তিনি পূর্বেই তার অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সেই ঘটনার ভিত্তিতে তার পদত্যাগের দাবি করা তাকে বেআইনি এবং সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী বলে তিনি জোর দেন।ইশরাক হোসেন উল্লেখ করেন, যদি কোনো গণমাধ্যম এই গুজবগুলো প্রকাশ করে থাকে, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করতে হবে, নতুবা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি শেষ পর্যন্ত দেশের গণমাধ্যম ও নাগরিকদেরকে এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে সতর্ক করেন।

ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ

ঢাকা—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ইশরাক হোসেনকে ডেকে সরাসরি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। ইশরাক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় অস্ত্র হাতে উপস্থিত ছিলেন; ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা উস্কে দেয়।ভিডিওতে ইশরাক হোসেন চিৎকার করে ‘এই ধর ধর ধর…’ বলে ডাকার সঙ্গে হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। তিনি একই দিন বিকাল ৫টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার করে ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’ শিরোনাম দেন, তবে পরে তা মুছে ফেলেন। প্রকাশ্যভাবে ভিডিওটি দেখা মাত্রই নেটওয়ার্কে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়, বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তার অস্ত্রধারী উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।ইশরাকের প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো বিবৃতিতে তিনি ব্যাখ্যা করেন, গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক বিক্রয় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি এই সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি আরও জানান, গত জুনে মাদক সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বহু সমন্বয় সভা করেন এবং মাদক আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধা-সরকারি পত্র (ডি.ও. লেটার) প্রদান করা হয়।অভিযানের সময় ইশরাকের নিরাপত্তা দল এবং তিনি নিজে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র উঁচু করে ধরেন, কারণ ৩০‑৩৫ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন বলে জানানো হয়। তিনি দাবি করেন, প্রদর্শিত আগ্নেয়াস্ত্রটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়; পরে পুলিশের সহযোগিতায় সন্দেহভাজন মাদক আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয়।তবে ইশরাকের পদত্যাগের আদেশের পর থেকে সরকারী কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি; শুধুমাত্র উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলোই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনা সরকারের ভিতরে ও জনমতের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যেখানে কিছু বিশ্লেষক সরকারী কর্মকর্তার অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রধারী উপস্থিতি এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন।প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব এখনও অনিশ্চিত, তবে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধের পদ্ধতি ও সরকারি কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে আলোচনার তীব্রতা বাড়তে পারে।

ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ