দৈনিক আদ্যোপান্ত
Topic Ads 1
কুমিল্লা স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর নতুন মোড়: রাজুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

কুমিল্লা স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর নতুন মোড়: রাজুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

কুমিল্লা শহরের এক স্কুলছাত্রীর হঠাৎ মৃত্যুর তদন্তের মাঝখানে, তার কথিত প্রেমিক হোটেলকর্মী রিয়াজ উদ্দিন রাজু বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। কক্সবাজারে ঘটিত এই যৌন অপরাধের অভিযোগ আদালত ও পুলিশ দ্রুত নথিভুক্ত করেছে।শুক্রবার কক্সবাজার জেলা পুলিশের এএসপি অহিদুর রহমান নিশ্চিত করেন যে, রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে কক্সবাজারে নিয়ে গিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাতেই কক্সবাজার সদর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।কক্সবাজার সদর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইরফানুল হক চৌধুরীর সমক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ রাশেদ রাজুর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে অভিযোগ উপস্থাপন করেন। আইনজীবীর মতে রাজু মিথ্যা পরিচয় ও ভালোবাসার অভিনয় করে স্কুলছাত্রীকে কক্সবাজারে নিয়ে গিয়ে সেখানে ধর্ষণ করেন; যদি রাজু তাকে না নিয়ে যেত, তবে কুমিল্লা পথে কোনো অপরাধ ঘটত না।আদালত রাশেদের আবেদনকে মামলায় রূপান্তর করার নির্দেশ দেয় এবং ভুক্তভোগীর বয়সের বিষয়টিও বিশেষভাবে নজরে আনে। একই সময়ে, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি ধানক্ষেতে ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্কুলছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, যা দেশজুড়ে বিশাল চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।পূর্বে কক্সবাজারের লুলুয়া রিসোর্টের সামনে থেকে রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে কুমিল্লায় হস্তান্তর করার পরিকল্পনা করা হয়। তবে হস্তান্তরের সময় আইনি জটিলতা দেখা দেয়; ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ অনুসারে তাকে আদালতে পাঠানো হয় এবং বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।পুলিশের মতে, রাজু হোটেল মালিকের ছেলে পরিচয় দিয়ে স্কুলছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং তাকে প্রলুব্ধ করে কক্সবাজারে নিয়ে যান। বর্তমানে, ধর্ষণ মামলার পাশাপাশি, স্কুলছাত্রীর হত্যাকাণ্ডের জন্য সিএনজির পরিচালক সুমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।এই ঘটনায় আইনগত ও পুলিশি পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা দেখায় যে, শিশু নির্যাতন ও যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা হবে, এবং তদন্তের অগ্রগতি দ্রুত প্রকাশিত হবে।

প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে তরুণীর অনশন

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে অনশন করছেন এক তরুণী। বিয়ের দাবিতে উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে অনশন করছেন ওই তরুণী। তবে ওই তরুণীকে পাত্তা দিচ্ছে না প্রেমিকের পরিবার। এতে অনেকটা মানবতার জীবনযাপন করছেন ওই তরুণী। বৃহস্পতিবার উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গিয়ে ওই তরুণীকে অনশনে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই ওই বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। ওই তরুণীর দাবি, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিম শিদলাই গ্রামের ওহাব আলী খনকার বাড়ির মো. আবু কালামের ছেলে আবু সাইদ ওরফে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় নিয়মিত দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। তার দাবি, প্রায় ১২ দিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আবু সাইদ তাকে দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর তিনি বিয়ের বিষয়টি তুললে আবু সাইদ তাকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। পরে প্রেমিকের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে ব্রাহ্মণপাড়ার পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গেলে আবু সাইদ তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। পরে চেয়ারম্যান উভয়পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালেই আবু সাইদ সেখান থেকে চলে যান। এরপর থেকেই ওই তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন। ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, সে আমার জীবনের অনেক ক্ষতি করেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন সে আমাকে বিয়ে করবে, না হলে আমি এই বাড়ি থেকে ফিরব না। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত ১২ দিন ধরে তরুণীটি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবক আত্মগোপনে চলে যান। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও যুবকের পরিবার সহযোগিতা করেনি। পরে পরিবারের সদস্যরাও বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে দাবি করেন তারা। শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আকবর আলাউল বলেন, উভয়পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছি; কিন্তু ছেলেটি বৈঠক থেকে চলে যায় এবং তার পরিবারও বিয়েতে রাজি নয়। পরে ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছি। তবে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত আবু সাইদ ও তার পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে তরুণীর অনশন