দৈনিক আদ্যোপান্ত
Topic Ads 1
আন্দোলনে কি আসলেই ষড়যন্ত্র? কী বলছেন শ্রমিকরা

আন্দোলনে কি আসলেই ষড়যন্ত্র? কী বলছেন শ্রমিকরা

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০ টাকা করার দাবি নিয়ে মিরপুর ও গাজিপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পুলিশের সঙ্গে দফা‑দফা সংঘর্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। শ্রমিকেরা বলছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কারণে বর্তমান বেতনে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে; মজুরি বৃদ্ধির স্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তারা রাস্তায় নেমে থাকবে।পুলিশ ও কিছু শ্রমিকনেতা দাবি করছেন, আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক উসকানি ও তৃতীয় পক্ষের স্বার্থ রয়েছে। মিরপুরে এক শ্রমিকের মতে, "কে উসকানি দিল, সেটা আমাদের কাজ নয়; পেটের দায়েই আমরা প্রতিবাদ করছি।" অন্যদিকে, কিছু কর্মকর্তা বলছেন, আন্দোলনকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে কোনো বাহ্যিক গোষ্ঠী ব্যবহার করা হচ্ছে, এমনকি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠে।মিরপুরে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে অবস্থান নিতে চাইলেন; পুলিশ লাঠি, গ্যাস শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের সরাতে চাইল। এতে শ্রমিকরা ইট-পাটকেল ছুঁড়ে পাল্টা আক্রমণ করে, ফলে বহু দফায় সংঘর্ষে রক্তপাত হয়। গাজিপুরে একই সময়ে ঢাকা‑টাঙ্গাইল ও ঢাকা‑ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের অবরোধের ফলে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।অভিযুক্তদের মধ্যে ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে; তবে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতদের কেউই পোশাক শ্রমিক নয়, বরং কিছু বাহ্যিক দুষ্কৃতকারী যারা আন্দোলনকে নষ্ট করার চেষ্টা করছিল। ঢাকার জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনও উল্লেখ করেছেন, বোরকা পরিহিত ও হেলমেটধারী একটি গোষ্ঠী শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছিল, তাদের অর্থের উৎস সম্পর্কে তথ্য রয়েছে।শ্রমিকনেতা নাজমা আক্তার ও তাসলিমা আক্তার উভয়েই বলছেন, সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং বেতন বৃদ্ধির আলোচনা চলবে, তবে আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কিছু তৃতীয় পক্ষ ফায়দা লুটতে চায়। তারা শ্রমিকদের শান্ত থেকে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।পোশাক শ্রমিকদের প্রতিবাদে সৃষ্ট অবরোধের ফলে ঢাকা‑টাঙ্গাইল ও ঢাকা‑ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাক ও বাস দীর্ঘ সময় আটকে থাকে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরণের দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে।শ্রমিকরা জোর দিয়ে বলছে, কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা বহিরাগত উসকানি ছাড়াই, ন্যূনতম বেতন ৩০,০০০ টাকা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাস্তায় থাকবে এবং তাদের দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।