দৈনিক আদ্যোপান্ত
Topic Ads 1
এবার পল্লবীর কুরিয়ার অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ

এবার পল্লবীর কুরিয়ার অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় মঙ্গলবার রাত ৮:৩০ টার কাছাকাছি এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসের শাখার সামনে দু’টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের ফলে ২১ বছর বয়সী মো. রমজান নামের এক কর্মী গুরুতরভাবে আহত হন এবং তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) আফসার উদ্দিন সুজন প্রথম আলোকে জানান, মুখোশ পরা এক অপরাধী ৮:৩৫‑৪০ মিনিটের মধ্যে দুইটি ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, আহত কর্মীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।পল্লবী থানার ওয়ান সি (ওসি) জালাল উদ্দিন প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলে জানান, এজেআর কুরিয়ার শাখার ওপর পূর্বে একই ধরণের ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমান ঘটনার সঙ্গে তা সংযুক্ত হতে পারে। পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সূত্র যাচাই করছে।এটি এজেআর কুরিয়ার সেবা কেন্দ্রের ওপর ধারাবাহিক সন্ত্রাসী আক্রমণের ধারাবাহিকতা। ২০ অক্টোবর রাজধানীর হাজারীবাগে সিকদার মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন শাখায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে, যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ও সংরক্ষণ যন্ত্র চুরি হয় এবং ৩১ লাখ টাকার পণ্য লুটের অভিযোগ করা হয়। ২৫ অক্টোবর গুদামে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা এবং কর্মীকে মারধর করে মুঠোফোন ও মানিব্যাগ চুরি করার ঘটনা ঘটেছে। ৩১ অক্টোবর রাজধানীর তিনটি এলাকায় এজেআর কুরিয়ার গাড়িতে একই রকম হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যার ফলে এক চালক মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন।পুলিশ এখন পর্যন্ত ১১ জন সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার করেছে এবং মামলাটি কঠোরভাবে অনুসন্ধান করছে। এজেআর কুরিয়ার কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত সিকিউরিটি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে, যখন কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে সতর্ক করে অজানা ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো সন্দেহজনক বস্তু গ্রহণ না করতে আহ্বান জানিয়েছে।

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশের সংঘর্ষ, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ

মিরপুরে ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০ টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের প্রতিবাদে পুলিশের সঙ্গে ধারাবাহিক ধাওয়াপাল্টা ঘটনা ঘটেছে; নিরাপত্তা রক্ষার জন্য মিরপুর-১১ নং মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।বুধবার (৩ নভেম্বর) সকালবেলা মিরপুর-১১ নং এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানায়, তবে দ্রুতই পুলিশ সঙ্গে টানাপোড়েনের পরিণতি ঘটে। উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও শারীরিক সংঘর্ষের সূত্রপাতের পর, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বিবেচনা করে স্টেশনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম নিশ্চিত করেছে যে, স্টেশনটি বর্তমানে কোনো ট্রেন থামাচ্ছে না এবং যাত্রীদের ওঠা-নামা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। অন্য মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়ে গেছে। কন্ট্রোল রুমের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিরপুর-১১ নং স্টেশন দ্রুতই পুনরায় চালু করা হবে।এই ঘটনার পটভূমিতে দেশের শ্রমিক অধিকার ও ন্যূনতম মজুরি সংক্রান্ত চলমান আলোচনা রয়েছে, যেখানে শ্রমিক সংগঠনগুলো উচ্চতর মজুরি ও কাজের শর্ত উন্নত করার দাবি তুলে ধরছে। একই সঙ্গে, শহরের জনপরিবহন নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশের হস্তক্ষেপও অপরিহার্য বলে সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়।অধিকাংশ বিশ্লেষক মত দেন, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা উভয়েরই সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজা জরুরি, যাতে জনসাধারণের চলাচল ও শহরের অবকাঠামোতে প্রভাব না পড়ে। পরিস্থিতি শিথিল হলে মিরপুর-১১ নং স্টেশন পুনরায় চালু হবে, এবং কর্মী ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতার পথ খোঁজা হবে।

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশের সংঘর্ষ, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ

পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, ৪ মামলায় আসামি পনেরো হাজার

রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০,০০০ টাকা করার দাবিতে টানা দুদিনের প্রতিবাদে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর আক্রমণ এবং ট্রাফিক বক্স ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই বিশৃঙ্খলার পরিণতিতে চারটি অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে মোট পনেরো হাজার (১৫,০০০) ব্যক্তিকে অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।রবিবার সকালে (১ নভেম্বর) মিরপুর‑১০ নম্বর মোড়ে শুরু হয় আন্দোলন। পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং ১১ টার দিকে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হয়। পুলিশ লাঠিপেটা, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানেগ্যাস ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে চেষ্টা করে এবং অপর দিকে শ্রমিকরা ইট‑পাটকেল নিক্ষেপ করে। দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে এবং মিরপুর‑১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ফলে মিরপুর‑১০, ১১ ও পল্লবী মেট্রো স্টেশন ১১ঃ৩৮ টা থেকে ১ঃ৫৮ টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়।মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান জানান, ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর আক্রমণের জন্য একটি মামলা দায়ের হয়েছে; এতে ৩,০০০ জনকে অজ্ঞাত হিসেবে অপরাধী করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ছয়জন গ্রেফতার করা হয়েছে। পল্লবী থানা ওসি জালাল উদ্দিন তিনটি অতিরিক্ত মামলার কথা জানান, যেখানে অগ্নিসংযোগ, সরকারি কাজে বাধা এবং ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে; প্রতিটি মামলায় ২,০০০‑২,৫০০ জনকে অপরাধী তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং মোট ১৬ জন গ্রেফতার হয়েছে।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিবি) বলেছে, শ্রমিকদের বৈধ দাবিকে কাজে লাগিয়ে মিরপুরে সহিংসতা সৃষ্টির পরিকল্পনা কিছু কার্যকরী না হওয়া আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা করেছে। তারা অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে আন্দোলনের আড়ালে বৃহৎ নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল।গ্রেফতার হওয়া ১১ জনের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী অন্তর্ভুক্ত; এরা মূলত স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নয়, বরং বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে সমবেত হয়েছিল।সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১১ টার দিকে সেনপাড়া পর্বতা এলাকার গলি ও মিরপুর‑২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশের প্রশিকা মোড়ে শ্রমিকরা আবার সড়কে নামার চেষ্টা করে। পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে, তীব্র ধাক্কা ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।মিরপুর‑১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় সকালবেলা থেকে দাঙ্গা দমনকারী গাড়ি, জলকামানসহ বিভিন্ন রাইফল প্রস্তুত রাখা হয়। তবে সকাল ১০:৩০ টার দিকে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং কোনো বড় বিঘ্ন দেখা যায়নি।সচিবালয়ের পোশাকশিল্প বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, শিল্পমালিক ও কিছু শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে থাকা ব্যক্তিরা অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত। তাদের ভিডিও, অডিও ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রকৃত শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠনের নেতা তাদের কর্মসংস্থান হারাতে চান না; তাই বর্তমান অস্থিরতায় প্রকৃত শ্রমিকদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।মিরপুরে দুই দিনের হিংসাত্মক প্রতিবাদের পর পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান বজায় রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ২২ জন গ্রেফতার হয়েছে, তবে অজ্ঞাত হিসেবে তালিকাভুক্ত সাড়ে দশ হাজারের মধ্যে আরও গ্রেফতার ও তদন্ত চলমান। সরকার শ্রমিক আন্দোলনের নামে কোনো হিংসা ঘটলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, ৪ মামলায় আসামি পনেরো হাজার