দৈনিক আদ্যোপান্ত
Topic Ads 1
‘পরকীয়া সম্পর্ক’ প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে কেশবপুরে জোড়া খুন!

‘পরকীয়া সম্পর্ক’ প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে কেশবপুরে জোড়া খুন!

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ‘পরকীয়া সম্পর্ক’ প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে খুন করা হয় স্বামী ও স্ত্রীকে। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) ও মোস্তফা কামাল (৪৫) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঁচিও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার জেসমিন বেগম কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের সরদারপাড়ার নুর ইসলাম সরদারের স্ত্রী ও মোস্তফা কামাল একই এলাকার মৃত কেসমত সরদারের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের শিকার দুজন হলেন, কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের মাগুরখালী কমলাপুর গ্রামের আলেক সরদার (৪৬) ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৮)।মঙ্গলবার (৩নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের প্রেস ব্রিফিং এতথ্য জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম ও কেশবপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান।প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক জানান, গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানখেতে সেচ মেশিনের পানি পড়ার স্থানে অজ্ঞাতপরিচয় দুজনের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্ত করে। পরে নিহতদের মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।মামলার তদন্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গত সোমবার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য ও তদন্তে মোস্তফা কামালের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসে।পুলিশের কাছে দেওয়া জেসমিনের জবানবন্দির বরাত দিয়ে তিনি জানান, জেসমিন বেগম ও নিহত মাজেদা অভয়নগরের আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন। মোস্তফা কামালের সঙ্গে জেসমিনের প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে সম্পর্ক ছিল। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে ঘাস কাটতে মাঠে যান জেসমিন ও মাজেদা।মাঠে যাওয়ার পথে মোস্তফার সঙ্গে জেসমিনের দেখা হয়। এ সময় তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় মোস্তফা ও জেসমিন কলমিশাক তোলার কথা বলে মাজেদা ও তার স্বামী আলেককে নুর ইসলামকে ঘেরের পাশে নিয়ে যান। তালতলার ভেড়ির কাছে পৌঁছালে মোস্তফা হাতে থাকা পাসনি (নিড়ানি) দিয়ে আলেককে আঘাত করেন। পরে মাজেদার ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। আলেককে মারধর করে পুরোনো সেলো মেশিনের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। মাজেদা তখনো শ্বাস নিচ্ছিলেন। এ সময় কাঁচি দিয়ে তার তলপেট ও পা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তাকেও ওই গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ আরও জানায়, মামলার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে কেশবপুর থানা পুলিশের একটি দল। গত ২ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোস্তফা কামালকেও আটক করা হয়।পুলিশ দাবি করেছে, জেসমিন ও মোস্তফার ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি অন্যদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এ জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়

স্ত্রীর পাশেই দাফন ছেলের, কেঁদে কেঁদে বললেন ‌‘মাফ করে দিলাম’

যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধে মাকে হত্যা করা ৪৫ বছর বয়সী মামুনুর রশিদের মৃত্যু এবং তার পিতার আলতাফ হোসেনের ক্ষমা অনুরোধ শোকের পরিবেশে গুঞ্জর তুলেছে।মামুনুর রশিদ, ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক। ২৭ আগস্ট তার ৫৮ বছর বয়সী মা আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তীব্র তর্কে উত্তেজিত হয়ে ধারালো বঁটি দিয়ে তাকে কোপ দেন। চিৎকার শোনার পর প্রতিবেশীরা ত্বরাত্বর ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, মা মারা গেলেও মামুন পালিয়ে যায়। পরদিনই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়।কারাগারে বন্দি অবস্থায় ২৮ অক্টোবর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মামুন যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টায় তার মৃত্যু হয়।মৃত্যুর পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে, সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশের পাহারায় মামুনের মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়। জানাজার আগে পিতার আলতাফ হোসেন এবং বড় ভাই প্রভাষক মঞ্জুর হাসান গ্রামবাসীদের কাছে ছেলেটিকে ক্ষমা চেয়ে অনুরোধ করেন। জানাজা আঞ্জুমানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শত শত লোক উপস্থিত ছিলেন।মামুনের বাবা আলতাফ হোসেন জানান, তার দুইটি বিয়ে ছিল এবং দু'টি দাম্পত্য কলহের ফলে তিনি মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়েছিলেন। তিনি তার সন্তানকে মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন, তবে চিকিৎসা শেষ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসার পরই মায়ের সঙ্গে তর্কে গিয়ে হত্যার কাজটি করে ফেলেন।কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলতাফ হোসেন বলেন, “তুচ্ছ ঘটনার ফলে আমি স্ত্রী ও সন্তান দুজনই হারিয়েছি। যদিও প্রথমে ক্ষোভ ছিল, তবে সে আমার ছেলে, তাই আমি তাকে মাফ করেছি। সৃষ্টিকর্তার কাছে সবাইকে ক্ষমা করার অনুরোধ করছি।”স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানি মন্তব্য করেন, “মামুনের হাতে মা খুনের ঘটনা গ্রামকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তবে তার মৃত্যুর পর মানুষ তার মরদেহকে ঘিরে একত্রিত হয়ে ক্ষমার পরিবেশ তৈরি করেছে। মায়ের কবরের পাশে ছেলেকে দাফন করা পরিবারিক ইচ্ছা অনুযায়ী হয়েছে।”যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলা অধিকারী আবিদ আহমেদ জানান, “মামুনের মরদেহ সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কারাগারে তার সময়কাল জুড়ে তিনি শান্ত স্বভাবের ছিলেন।”

স্ত্রীর পাশেই দাফন ছেলের, কেঁদে কেঁদে বললেন ‌‘মাফ করে দিলাম’

যশোরে আ.লীগের কর্মকাণ্ড প্রতিহতের ঘোষণা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের

যশোরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনগুলোর নেতারা।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।বিক্ষোভ মিছিলটি যশোর শহরের চারখাম্বা মোড় থেকে শুরু হয়ে থানার মোড় প্রদক্ষিণ করে বকুলতলায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ, সদস্যসচিব আনসারুল হক রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল, সদস্যসচিব রাজেদুর রহমান সাগর, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি ও সদস্যসচিব শাহ নেওয়াজ ইমরানসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি।বক্তব্যে মোস্তফা আমির ফয়সাল অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোনো লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির আর দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে মোস্তফা আমির ফয়সাল বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরতে ২২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এবার ৪২ বছর অপেক্ষা করলেও তিনি দেশে ফিরতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান স্বেচ্ছাসেবক দলের এই নেতা।সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।এদিকে সম্প্রতি যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নামে ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি ১ নভেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে শহরের বকুলতলায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।সমাবেশে বক্তারা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান।সমাবেশে সমাপনী বক্তব্য দেন যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

যশোরে আ.লীগের কর্মকাণ্ড প্রতিহতের ঘোষণা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের