যশোরে আ.লীগের কর্মকাণ্ড প্রতিহতের ঘোষণা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের
যশোরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনগুলোর নেতারা।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।বিক্ষোভ মিছিলটি যশোর শহরের চারখাম্বা মোড় থেকে শুরু হয়ে থানার মোড় প্রদক্ষিণ করে বকুলতলায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ, সদস্যসচিব আনসারুল হক রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল, সদস্যসচিব রাজেদুর রহমান সাগর, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি ও সদস্যসচিব শাহ নেওয়াজ ইমরানসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি।বক্তব্যে মোস্তফা আমির ফয়সাল অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোনো লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির আর দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে মোস্তফা আমির ফয়সাল বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরতে ২২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এবার ৪২ বছর অপেক্ষা করলেও তিনি দেশে ফিরতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান স্বেচ্ছাসেবক দলের এই নেতা।সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।এদিকে সম্প্রতি যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নামে ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি ১ নভেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে শহরের বকুলতলায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।সমাবেশে বক্তারা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান।সমাবেশে সমাপনী বক্তব্য দেন যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।