দৈনিক আদ্যোপান্ত
Topic Ads 1
মেসির চার মিনিটে জোড়া গোল

মেসির চার মিনিটে জোড়া গোল

ইতিহাস গড়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন লিওনেল মেসি। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকালে প্রতিপক্ষের মাঠে দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এতে এমএলএসে তার গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৫, যা চলতি মৌসুমে লিগের সর্বোচ্চ। প্রথমার্ধের ৪৫তম মিনিটে মেক্সিকান স্ট্রাইকার জার্মান বেরতেরামের গোলে এগিয়ে যায় মায়ামি। বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে তুলে নেন মেসি। ৫৬তম মিনিটে ডান দিক থেকে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে বেরতেরামের সঙ্গে বল দেয়া-নেয়ার পর প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে জালে বল পাঠান তিনি। চার মিনিট পর লুইস সুয়ারেজের পাস ধরে পাল্টা আক্রমণে আবারও নিজের দক্ষতার ঝলক দেখান মেসি। এবারও এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী তারকা। শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করেন মায়ামির সাবেক ফরোয়ার্ড ফাফা পিকো। এই জোড়া গোলে এমএলএসের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা খেলোয়াড়ের চেয়ে ছয় গোলে এগিয়ে গেলেন মেসি। পাশাপাশি তার অ্যাসিস্টসংখ্যা ১৫, যা লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির সন হিউং-মিনের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিন মৌসুমে ১৫টি করে অ্যাসিস্টের কীর্তিও গড়েছেন মেসি। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে টানা ১৩ ম্যাচে গোল কিংবা অ্যাসিস্টে অবদান রেখে নিজের দ্বিতীয় দীর্ঘতম ধারারও সমান হয়েছেন তিনি। নতুন কোচ ক্রিস্তিয়ান ‘কিলি’ গনসালেসের অধীনে টানা তৃতীয় জয় পেয়েছে ইন্টার মায়ামি। চলতি সপ্তাহেই প্লে-অফ নিশ্চিত করা দলটি এখন ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শীর্ষে আছে ন্যাশভিল।

মেসির বারবার পেনাল্টি মিসের পেছনে যে কারণ

২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির পেনাল্টি যেন হয়ে গেছে অরণ্যে রোদন, সব যেন নিষ্ফল চেষ্টা। ২ বার পেনাল্টি নিয়ে দুই বারই পেনাল্টি মিস করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অথচ আগের আসরেই মেসি পেনাল্টি থেকে করেছিলেন ৪ গোল, শ্যুট আউট যোগ করলে পেনাল্টিতে স্কোর করেছিলেন ৬ বার। সেবার মেসি খুবই বুদ্ধিদীপ্ত এক কৌশল ব্যবহার করতেন। তিনি গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতেন, সঠিক সময়ে শট নিতেন এবং মানসিকভাবে থাকতেন শান্ত।  মূলত তিনি দুই ধরনের শট নিতেন। একটি ছিল চতুর সাইড ফুট শট, যেখানে তিনি গোলরক্ষককে ভালোভাবে লক্ষ্য করে বিপরীত দিকে শট নিতেন। আরেকটি ছিল শক্তিশালী ইনস্টেপ শট, যেখানে গতিই ছিল আসল অস্ত্র। দৌড় শুরুর সময় মেসি ছোট ছোট পা ফেলতেন। এতে তিনি নিজের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতেন। পাশাপাশি গোলরক্ষকের নড়াচড়াও ভালোভাবে বুঝতে পারতেন। বল না দেখে তিনি চোখ রাখতেন গোলরক্ষকের দিকে। গোলরক্ষক কোন দিকে ঝুঁকছেন, সেটাই বোঝার চেষ্টা করতেন তিনি। গোলরক্ষক একবার দিক ঠিক করে ফেললে, মেসি আলতো করে বল পাঠিয়ে দিতেন উল্টো দিকের ফাঁকা কোণে। এই ধরনের শটের গতি সাধারণত থাকত ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে। এখানে শক্তির চেয়ে নিখুঁত নিশানাই ছিল আসল ব্যাপার। সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সের বিপক্ষে এই কৌশলে গোল করেছেন তিনি। তবে গোলরক্ষক যদি স্থির দাঁড়িয়ে থাকতেন বা তার এই কৌশল ধরে ফেলতেন, তখন মেসি ভিন্ন পথে হাঁটতেন। সেই সময় তিনি সোজা পথে দৌড় শুরু করতেন। গোলরক্ষকের দিকে না তাকিয়ে তিনি চোখ রাখতেন বলের দিকে। এতে বলে ঠিকভাবে পা লাগানো সম্ভব হতো। এরপর তিনি জোরালো শট নিতেন। সেই শটের গতি অনেক সময় ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারও ছাড়িয়ে যেত এবং তা গিয়ে লাগত গোলবারের ওপরের কোণে। এত দ্রুতগতির শট হওয়ায় গোলরক্ষক সঠিক দিকে ঝাঁপ দিলেও কিছুই করার থাকত না তার। এই পদ্ধতির শটে অবশ্য সফলতার হার ৫০ শতাংশ ছিল, তিনি পোল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যর্থ হলেও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সফল হয়েছিলেন।  ২০২২ বিশ্বকাপের ২ কৌশলের প্রথমটির ব্যবহার এবারের বিশ্বকাপে করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অস্ট্রিয়া ও মিশর দুই দলের বিপক্ষেই পেনাল্টি নিয়েছেন বেশ জোরের ওপর, প্রথমটি বারের ওপর দিয়ে গেছে, দ্বিতীয়টি হয়েছে সেভ। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে ওই প্রথম কৌশল ব্যবহার না করার ফলেই পেনাল্টি থেকে এভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন মেসি।

মেসির বারবার পেনাল্টি মিসের পেছনে যে কারণ