দৈনিক আদ্যোপান্ত
Topic Ads 1
শ্রমিক আন্দোলনে আজও উত্তপ্ত গাজীপুর, টিয়ার শেল ছুড়লো পুলিশ

শ্রমিক আন্দোলনে আজও উত্তপ্ত গাজীপুর, টিয়ার শেল ছুড়লো পুলিশ

গাজীপুরের গাছা থানার সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা‑ময়মনসিংহ মহাসড়কে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে।বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নিলেন, ফলে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শ্রমিকদের ইট‑পাটকেল নিক্ষেপের মুখে গুলি চালালেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।গাজীপুর শিল্প পুলিশের এসপি মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানিয়েছেন, সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল, তবে সাড়ে ৯টার দিকে গাছা থানার সাইনবোর্ড এলাকায় ২ থেকে ৪ হাজার শ্রমিক সড়কে সমাবেশ করেন। এ মুহূর্তে শ্রমিক‑পুলিশের ধাওয়া‑পাল্টাধাওয়া ঘটেছিল এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপের মাধ্যমে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ।তিনি আরও জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় জয়দেবপুর এলাকায়ও শ্রমিকের সমাবেশ ছিল, যা থেকে তাদেরও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সালনা, রাজেন্দ্রপুর, শফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক, তবে কাশিমপুরে কিছুটা উত্তেজনা রয়ে গেছে, ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

গাজীপুরে মহাসড়কে আগুন দিয়ে শ্রমিকদের অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

গাজীপুরের ঢাকা‑টাঙ্গাইল মহাসড়কে আজ সকাল ৯:৩০ টার দিকে নাওজোড় এলাকায় শ্রমিকরা আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে তারা বর্জ্য সংগ্রহ করে তা মহাসড়কে ছড়িয়ে দিয়ে অগ্নিকুণ্ডে রূপান্তরিত করে, ফলে জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোড় মোড় পর্যন্ত সব ধরনের গাড়ি, অটো রিকশা ও মোটরসাইকেলসহ, চলতে পারে না।অবরোধের সময় কিছু শ্রমিককে মহাসড়কে ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়, যা প্রতিবাদের অস্বাভাবিক দৃশ্য হিসেবে নজরে আসে। প্রতিবাদে উপস্থিত সাংবাদিকরা তথ্য, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের চেষ্টা করলেও শ্রমিকরা তাদের প্রবেশে বাধা দেয়।গাজীপুর শিল্প পুলিশ সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, গতকাল সকাল আটটার আগে কালিকাইরের মৌচাক এলাকায় কিছু শ্রমিক একই রকম অবরোধের চেষ্টা করেছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে কোনো সংঘাত ছাড়াই তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

গাজীপুরে মহাসড়কে আগুন দিয়ে শ্রমিকদের অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, ৪ মামলায় আসামি পনেরো হাজার

রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০,০০০ টাকা করার দাবিতে টানা দুদিনের প্রতিবাদে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর আক্রমণ এবং ট্রাফিক বক্স ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই বিশৃঙ্খলার পরিণতিতে চারটি অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে মোট পনেরো হাজার (১৫,০০০) ব্যক্তিকে অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।রবিবার সকালে (১ নভেম্বর) মিরপুর‑১০ নম্বর মোড়ে শুরু হয় আন্দোলন। পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং ১১ টার দিকে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হয়। পুলিশ লাঠিপেটা, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানেগ্যাস ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে চেষ্টা করে এবং অপর দিকে শ্রমিকরা ইট‑পাটকেল নিক্ষেপ করে। দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে এবং মিরপুর‑১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ফলে মিরপুর‑১০, ১১ ও পল্লবী মেট্রো স্টেশন ১১ঃ৩৮ টা থেকে ১ঃ৫৮ টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়।মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান জানান, ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর আক্রমণের জন্য একটি মামলা দায়ের হয়েছে; এতে ৩,০০০ জনকে অজ্ঞাত হিসেবে অপরাধী করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ছয়জন গ্রেফতার করা হয়েছে। পল্লবী থানা ওসি জালাল উদ্দিন তিনটি অতিরিক্ত মামলার কথা জানান, যেখানে অগ্নিসংযোগ, সরকারি কাজে বাধা এবং ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে; প্রতিটি মামলায় ২,০০০‑২,৫০০ জনকে অপরাধী তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং মোট ১৬ জন গ্রেফতার হয়েছে।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিবি) বলেছে, শ্রমিকদের বৈধ দাবিকে কাজে লাগিয়ে মিরপুরে সহিংসতা সৃষ্টির পরিকল্পনা কিছু কার্যকরী না হওয়া আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা করেছে। তারা অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে আন্দোলনের আড়ালে বৃহৎ নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল।গ্রেফতার হওয়া ১১ জনের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী অন্তর্ভুক্ত; এরা মূলত স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নয়, বরং বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে সমবেত হয়েছিল।সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১১ টার দিকে সেনপাড়া পর্বতা এলাকার গলি ও মিরপুর‑২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশের প্রশিকা মোড়ে শ্রমিকরা আবার সড়কে নামার চেষ্টা করে। পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে, তীব্র ধাক্কা ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।মিরপুর‑১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় সকালবেলা থেকে দাঙ্গা দমনকারী গাড়ি, জলকামানসহ বিভিন্ন রাইফল প্রস্তুত রাখা হয়। তবে সকাল ১০:৩০ টার দিকে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং কোনো বড় বিঘ্ন দেখা যায়নি।সচিবালয়ের পোশাকশিল্প বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, শিল্পমালিক ও কিছু শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে থাকা ব্যক্তিরা অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত। তাদের ভিডিও, অডিও ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রকৃত শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠনের নেতা তাদের কর্মসংস্থান হারাতে চান না; তাই বর্তমান অস্থিরতায় প্রকৃত শ্রমিকদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।মিরপুরে দুই দিনের হিংসাত্মক প্রতিবাদের পর পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান বজায় রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ২২ জন গ্রেফতার হয়েছে, তবে অজ্ঞাত হিসেবে তালিকাভুক্ত সাড়ে দশ হাজারের মধ্যে আরও গ্রেফতার ও তদন্ত চলমান। সরকার শ্রমিক আন্দোলনের নামে কোনো হিংসা ঘটলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, ৪ মামলায় আসামি পনেরো হাজার