গাজীপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে আঘাতপ্রাপ্ত ২২‑বছরের গার্মেন্টস কর্মী তৌফিক শেখ শিন শিন জাপান হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
তার মৃত্যু শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকার সংক্রান্ত প্রশ্ন তীব্রতর করেছে।
তৌফিক শেখ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ।
তিনি তবিবর রহমান তবির পুত্র এবং গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় বসবাস করতেন। তৌফিক লায়লা গার্মেন্টসে চাকরি করতেন এবং একই সঙ্গে ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ২০২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
বাবার মৃত্যুর পর জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি এক বন্ধুর মাধ্যমে গার্মেন্টস শিল্পে কর্মসংস্থান পেয়েছিলেন।
সোমবার থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানায় মজুরি বৃদ্ধি দাবিতে কর্মীরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছিল। তৌফিকের বড় ভাই হারুন মিয়া জানান, তৌফিক আন্দোলনের দৃশ্য মোবাইল ফোনে রেকর্ড করার চেষ্টা করছিলেন; তখনই কিছু অপরিচিত ব্যক্তি তার ওপর আক্রমণ করে চড়া ও বেধড়ক মারপিট করে। আঘাতের পর শ্রমিক সহকর্মীরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে শিন শিন জাপান হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে তার মৃত্যু ঘটে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মো. মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, তৌফিকের দেহ রাত ১০টার দিকে গ্রাম বাড়িতে পৌঁছেছে এবং বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ছয়ঘরিয়া গ্রামে জানাজা হবে, পরে কবরস্থানে দাফন করা হবে। কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন উল্লেখ করেন, এক কারখানা বন্ধ করার জন্য বহিরাগত লোকজনের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে তৌফিকের মতো কর্মী গুরুতর আঘাত পেয়েছেন; ঘটনার সময় সেখানে কোনো পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
মতামত