দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মঙ্গলবার লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. আসাদুল ইসলামকে এক লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর দুদক আদালতে আবেদন করে, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদের আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসাদুল ইসলাম নির্ধারিত কক্ষে এক ব্যক্তি থেকে ঘুষের টাকা গ্রহণের পর তা ডান পাশের সাইড টেবিলের দ্বিতীয় তাকের খাকি রঙের খামে লুকিয়ে রাখেন।
টাকার নম্বর ও অভিযোগকারীর দেওয়া টাকার নম্বরের সম্পূর্ণ মিল পাওয়া যায়, ফলে ঘুষের স্বীকারোক্তি ও টাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। দুদক দণ্ডবিধি ধারা ১৬১ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭‑এর ধারা ৫(২) অনুসারে মামলাটি দায়ের করে।
ঘুষের পেছনে মূল অভিযোগটি ছিল অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মো. মনিরুল ইসলামকে জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য নকশা তৈরির কাজে সহায়তা করা। মনিরুল ২৮২ শতাংশ জমির জন্য নিবন্ধিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়েছিলেন এবং সীমানা নির্ধারণের কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় লালবাগ রাজস্ব সার্কেলে একাধিকবার যোগাযোগ করেন।
এক পর্যায়ে তাকে সার্ভেয়ার আসাদুলের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়, যার ফলে আসাদুল ৮০ লাখ টাকার ঘুষ দাবি করেন। মনিরুলের জানার পর দুদক বিষয়টি যাচাই করে ফাঁদ অভিযান চালায়।
অভিযানের শেষ পর্যায়ে, ঘুষ গ্রহণের মুহূর্তে দুদকের দল হাতেনাতে আসাদুলকে আটক করে এবং এক লাখ টাকা উদ্ধার করে। এরপর আদালতে হাজির হয়ে কারাবাসের আবেদন দাখিলের পর, বিচারিক আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এই ঘটনা সরকারের দুর্নীতি বিরোধী প্রচেষ্টার নতুন উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
মতামত