দৈনিক আদ্যোপান্ত
Topic Ads 1
প্রেমের বিয়ে পারিবারিক চাপে ডিভোর্স, দুজনের আত্মহত্যা

প্রেমের বিয়ে পারিবারিক চাপে ডিভোর্স, দুজনের আত্মহত্যা

নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলায় প্রেমের বিয়ের পর পারিবারিক চাপে ডিভোর্সের ফলে দুজনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, দুজনের মরদেহ মাত্র আট থেকে নয় ঘণ্টার ব্যবধানে উদ্ধার করা হয়েছে।মোহনগঞ্জের গাগলাজুর ইউনিয়নের আটবাড়ি গ্রামে ২৩ বছর বয়সী মো. সাকিব মিয়া এবং গাজীপুরের শ্রীপুরে ১৯ বছর বয়সী তার সাবেক স্ত্রী মুক্তা আক্তার, দুজনই এক সপ্তাহের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন। সাকিবের ঝুলন্ত মরদেহ মঙ্গলবার সকালে তার ঘরের বারান্দা থেকে উদ্ধার করা হয়, আর মুক্তা গলায় ফাঁস দিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় শ্রীপুরে মারা যান।সাকিব আটবাড়ি গ্রামের সুনো মিয়ার ছেলে, দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার এক সন্তান ও গর্ভবতী স্ত্রী আছে, যার গর্ভধারণের বয়স সাত মাস। প্রায় তিন মাস আগে তিনি মুক্তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে বিয়ে করেন, যা পরিবারে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি করে। পারিবারিক চাপে প্রায় ২০‑২৫ দিন আগে সাকিব মুক্তাকে তালাক দেন, এবং মুক্তা গাজীপুরের শ্রীপুরে তার বাবার বাড়িতে চলে যান।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তা শ্রীপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যান; তার বাবা বাবুল মিয়া পুলিশকে না জানিয়ে মৃতদেহ তেতুলিয়া ইউনিয়নের ফাগুয়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। দাফনের প্রস্তুতি চলাকালেই বিষয়টি উন্মোচিত হয়ে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে। একই সময়ে সাকিবের দেহও বারান্দা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়; পুলিশ অনুমান করে তিনি গত রাতেই আত্মহত্যা করেছেন।মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক রবিউল আওয়াল উল্লেখ করেন, দুজনের দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায় প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা ধরা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না এলে সঠিক কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। থানা কর্মকর্তারা দুজনের দেহকে দুটো অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছেন এবং আপাতত অপমৃত্যু মামলার রেজিস্ট্রেশন হয়েছে।