স্ত্রীর পাশেই দাফন ছেলের, কেঁদে কেঁদে বললেন ‘মাফ করে দিলাম’
যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধে মাকে হত্যা করা ৪৫ বছর বয়সী মামুনুর রশিদের মৃত্যু এবং তার পিতার আলতাফ হোসেনের ক্ষমা অনুরোধ শোকের পরিবেশে গুঞ্জর তুলেছে।মামুনুর রশিদ, ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক। ২৭ আগস্ট তার ৫৮ বছর বয়সী মা আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তীব্র তর্কে উত্তেজিত হয়ে ধারালো বঁটি দিয়ে তাকে কোপ দেন। চিৎকার শোনার পর প্রতিবেশীরা ত্বরাত্বর ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, মা মারা গেলেও মামুন পালিয়ে যায়। পরদিনই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়।কারাগারে বন্দি অবস্থায় ২৮ অক্টোবর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মামুন যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টায় তার মৃত্যু হয়।মৃত্যুর পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে, সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশের পাহারায় মামুনের মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়। জানাজার আগে পিতার আলতাফ হোসেন এবং বড় ভাই প্রভাষক মঞ্জুর হাসান গ্রামবাসীদের কাছে ছেলেটিকে ক্ষমা চেয়ে অনুরোধ করেন। জানাজা আঞ্জুমানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শত শত লোক উপস্থিত ছিলেন।মামুনের বাবা আলতাফ হোসেন জানান, তার দুইটি বিয়ে ছিল এবং দু'টি দাম্পত্য কলহের ফলে তিনি মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়েছিলেন। তিনি তার সন্তানকে মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন, তবে চিকিৎসা শেষ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসার পরই মায়ের সঙ্গে তর্কে গিয়ে হত্যার কাজটি করে ফেলেন।কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলতাফ হোসেন বলেন, “তুচ্ছ ঘটনার ফলে আমি স্ত্রী ও সন্তান দুজনই হারিয়েছি। যদিও প্রথমে ক্ষোভ ছিল, তবে সে আমার ছেলে, তাই আমি তাকে মাফ করেছি। সৃষ্টিকর্তার কাছে সবাইকে ক্ষমা করার অনুরোধ করছি।”স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানি মন্তব্য করেন, “মামুনের হাতে মা খুনের ঘটনা গ্রামকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তবে তার মৃত্যুর পর মানুষ তার মরদেহকে ঘিরে একত্রিত হয়ে ক্ষমার পরিবেশ তৈরি করেছে। মায়ের কবরের পাশে ছেলেকে দাফন করা পরিবারিক ইচ্ছা অনুযায়ী হয়েছে।”যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলা অধিকারী আবিদ আহমেদ জানান, “মামুনের মরদেহ সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কারাগারে তার সময়কাল জুড়ে তিনি শান্ত স্বভাবের ছিলেন।”