দৈনিক আদ্যোপান্ত
Topic Ads 1
সন্ত্রাসী গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার দখলে খুলনা শহর

সন্ত্রাসী গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার দখলে খুলনা শহর

খুলনা মহানগরী এবং পুরো জেলায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের শৃঙ্খলাবদ্ধ হিংসা নাগরিকদের জীবনকে আতঙ্কে ডুব দিয়েছে। বাবা, মা, স্বামী, ভাই‑বোন—প্রতিটি পরিবারের শোকের কারণ এখন শহরের গলিতে গুলি, গণপিটুনি এবং ভয়াবহ অপরাধ।তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে খুলনা মহানগরীসহ জেলায় মোট ৭৫টি গুলি ও গণপিটুনি সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে ৩৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে। কেএমপি (খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ) জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে একজন, ফেব্রুয়ারি মাসে চারজন, মার্চে চারজন, এপ্রিলের দুইজন, মে‑জুনে প্রত্যেকে তিনজন, জুলাই‑আগস্টে মোট আটজন, সেপ্টেম্বর‑অক্টোবর‑নভেম্বর মাসে মোট বারোজনের মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে চারটি হত্যাকাণ্ড ঘটছে। একই সময়ে ১৫৯ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পুলিশের তালিকায় বর্তমানে ২২টি সন্ত্রাসী সংগঠন ও কিশোর গ্যাং রয়েছে। প্রধান গ্যাংগুলো হল ‘বি’ কোম্পানি (রনি চৌধুরী/বাবু চৌধুরী/গ্রেনেড বাবু নেতৃত্বে), আশিক বাহিনী, নূর আজিম গ্রুপ, গোল্ডেন বয়েজ, টিপসি বয়েজ, কিং অব রূপসা, পলাশ গ্রুপ, হুমা বাহিনী, ডেঞ্জার বয়েজ, টেঙ্কি শাওন গ্রুপ, আরমিন গ্রুপ, শাকিল গ্রুপ, নাসিম গ্রুপ, সেভেন স্টার, নাইন্টিন বয়েজ, ব্লাড বয়েজ, ব্ল্যাক ঈগল, ডার্ক নাইটস, সিন্ডিকেট, চিংড়ি পলাশ গ্রুপ এবং রকি গ্রুপ। এই গ্যাংগুলো মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের জন্য একে অপরকে হত্যা করে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে দমবন্ধ হয়ে পড়েছে।কেএমপি সূত্রে বর্তমানে ১৫ জন শীর্ষ সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত, যাদের মধ্যে কিছু কারাগার থেকে বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে। ‘বি’ কোম্পানির শীর্ষ নেতা রনি চৌধুরী (বাবু চৌধুরী, গ্রেনেড বাবু) ভারতের বোম্বে বা মালয়েশিয়া থেকে নির্দেশনা পাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়। গ্রেনেড বাবুর মাদক বিক্রির আয় দিনে অর্ধ কোটি টাকারও বেশি, যা তাকে অপরাধের শীর্ষে রাখে। কয়েক মাস আগে শামসুর রহমান রোডে গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার বাবা মিন্টু চৌধুরীসহ দুই‑তিনজন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রায় ৪০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়।হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি চাঁদাবাজি শহরে ছড়িয়ে রয়েছে। ‘বি’ কোম্পানি স্বনামধন্য চিকিৎসক, ক্লিনিক ও সরকারি কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর কোটি টাকার চাঁদা দাবি করে। উদাহরণস্বরূপ, সরকারি আয়ম খান কমার্স কলেজের পাশে একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা চাঁদা নেওয়া হয়, আর সাব‑রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে ৩৫ লাখ টাকা দিয়ে চাঁদা মুক্তি পেতে হয়। একই গ্যাং একটি ক্লিনিকের ওপর ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে, না দিলে ভাঙচুর করে।অ্যাক্সটর্সনও সীমাবদ্ধ নয়। ২৬ অক্টোবর পাইকগাছা উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আহসানারা বিনতে আহমেদকে ফোনে চাঁদা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। একদিন আগে একই উপজেলায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও হুমকি জানানো হয়।অবস্থা নিয়ে নাগরিক নেতা ও মানবাধিকার কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলদার বলেন, খুলনার আইনশৃঙ্খলা নাজুক হয়ে দাঁড়িয়েছে; সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য শহরের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে আছে। মানবাধিকার সংস্থার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, প্রকৃত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত না করলে শান্তি ফিরিয়ে আনা কঠিন।পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া জানান, মাদককেন্দ্রিক অপরাধই মূল সমস্যা; কিশোর‑তরুণদের মাধ্যমে সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে। জেলা পুলিশ সুপারভাইজর ওমর ফারুক জানান, সন্ত্রাস দমন করতে ব্লক রেইড, স্পট রেড ও তালিকা অনুসারে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে; মাদক স্পটগুলোতে হানা দেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে।

যশোরে পুলিশের এএসআই এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায় এবং থানার সামনে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগে ঝিকরগাছা থানার এএসআই আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৪-৫জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার মামলাটি করেছেন উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকার মৃত মোজাফ্ফরের ছেলে আসাদুজ্জামান।অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদীর ভাইকে গ্রেপ্তারের পর ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা দাবি করা হয়। পরে টাকা নেওয়ার পরও আরও অর্থ দাবি এবং মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারক মামলাটি তদন্ত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম এন্স অপস) কে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, গত ২৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৩টার দিকে এএসআই আশরাফুল আলম অন্যদের সঙ্গে নিয়ে বাদীর বাড়িতে যান। এ সময় বাদীর সেজো ভাই মো. রেজাউল করিমকে খুঁজতে থাকেন। তাঁকে বাড়িতে না পেয়ে বাদীর কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। আসামিরা তাকে বলেন, সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ১০ হাজার টাকা ব্যবস্থা করে দিতে হবে। টাকা না দেয়ায় পরদিন ২৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টায় ভাই রেজাউল করিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে আসাদুজ্জামানের কাছে কল আসে। তিনি জানতে পারেন, তার ভাইকে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পরে ভাইয়ের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিতে তিনি থানায় যান। সেখানে ডিউটি অফিসারের কক্ষের সামনে থেকে তাকে হাজতখানার সামনে নিয়ে যান এএসআই আশরাফুল আলম। এ সময় তার বাম পকেট থেকে নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয় এবং আরও ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য বলা হয় তাকে। ভাইয়ের মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন আটকে রাখা হয়। মানিব্যাগ দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। পরে থানা থেকে বের হওয়ার সময় মানিব্যাগটি নিচে পড়ে গেলে সেটি তুলতে যাওয়ার মুহূর্তে তাকে সজোরে থাপ্পড় মারেন এএসআই আশরাফুল আলম এবং ভয়ভীতি দেখান। পুরো ঘটনা থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করেছেন।

যশোরে পুলিশের এএসআই এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

ছোট ভাইয়ের মারধরে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

চাঁদপুরের সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের গাছতলা পাটওয়ারী বাড়িতে সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সম্পত্তি বিরোধে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ৬০ বছর বয়সী শাহজাহান পাটওয়ারী মারধরে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।শাহজাহান পাটওয়ারী এবং তার ছোট ভাই শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে তীব্র বিরোধে লিপ্ত ছিলেন। উভয়ের মধ্যে জমি, বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ বহু বছর ধরে বাড়তে থাকায় সম্পর্কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিল।সোমবার বিকেলে, ছোট ভাই শাহ আলম তার স্ত্রীসহ গৃহে প্রবেশ করে শাহজাহানকে বেদম মারধর করেন। মারধরের পর শিকারের শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু ঘটে।চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মৃতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছোট ভাইয়ের মারধরে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভের পঞ্চম দিন মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেল; যদিও ঢাকা‑টাঙ্গাইল মহাসড়কের কিছু অংশে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সড়ক অবরোধ বা বড় বিশৃঙ্খলার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।মঙ্গলবার সকাল থেকে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশও উপস্থিত ছিল। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের প্রতিহত করতে বিএনপি নেতাকর্মীরা মহাসড়কে অবস্থান করে মহড়া দিয়েও দেখা গিয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাইন জানান, স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিজিবি টহল চালু রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।গাজীপুরের শিল্প পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইনও জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনো বড় বিশৃঙ্খলা ঘটেনি এবং বেশিরভাগ কারখানায় শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি ও পুলিশের সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে গাজীপুরের শিল্পবন্দে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার হয়েছে।

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

যুদ্ধবিরতি ভেঙে দিয়ে রাশিয়ার আক্রমণ: ইউক্রেনে ২৬ জনের মৃত্যু

রাশিয়ার বিমান হামলা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন ও জাপোরিজিয়া প্রান্তের একটি গ্রামে মানবিক সহায়তা বিতরণের জন্য ব্যবহৃত স্কুলকে আঘাত করে, ফলে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন। নিহতদের মধ্যে দুজন উদ্ধারকর্মী এবং চারজন পুলিশ সদস্য অন্তর্ভুক্ত।হামলাটি গত রোববার স্থানীয়ভাবে কার্যকর হওয়া দীর্ঘতম যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পর ঘটেছে। দুই দেশের মধ্যে ২০২২ সালের আগ্রাসনের পর সর্বোচ্চ সময় ধরে চলা এই বিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়া পুনরায় আক্রমণ চালিয়ে যায়, যা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির মতে "শান্তির পথে অগ্রগতির ক্ষীণ আশা" ভেঙে দিয়েছে।যুদ্ধবিরতি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ওলেশকি শহরে মানবিক অভিযান চালানোর জন্য রোববার পর্যন্ত কার্যকর। তবে বিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর রাশিয়া জাপোরিজিয়া অঞ্চলের একটি গ্রামে একাধিক বিমান থেকে বোমা ফেলে, ফলে স্কুলটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। জরুরি সেবা বিভাগের ভিডিওতে ধোঁয়া ওঠা ধ্বংসাবশেষ এবং উদ্ধারকর্মীদের কাজের দৃশ্য দেখা যায়।জেলেনস্কি দৈনিক ভাষণে জানিয়েছেন, প্রতি সোমবার ওই স্কুলে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হতো, কিন্তু রাশিয়া প্রথম দফায় কয়েকটি বিমান থেকে বোমা ফেলে, পরে দ্বিতীয় দফায় আশ্রয়কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে আবারও বোমা হামলা চালায়। তিনি রাশিয়ার এই আক্রমণকে "সম্পূর্ণ বিপরীত বার্তা" বলে নিন্দা করেন এবং জবাবদিহিতা দাবি করেন।মিখাইলো সেমিকিন, ওয়ালভিনের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর, টেলিগ্রামে জানান যে নিহতদের মধ্যে দুজন উদ্ধারকর্মী (ডেনিস কোনোভালেঙ্কো, ৪৪) ও ওলেক্সি সুশচেভস্কি এবং চারজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। জরুরি সেবা বিভাগ প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, এই কর্মীরা নিয়মিত বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে অন্যদের জীবন রক্ষা করতে নিজেদের ঝুঁকিতে ফেলতেন।রাশিয়ার মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ২ নভেম্বর সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় রাশিয়া নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য ব্যবহার করেছে এবং এই ধরনের আক্রমণ "সম্পূর্ণ স্বাভাবিক চর্চা"। তিনি ওলেশকির মানবিক অভিযানের সফলতা ও সব পক্ষের সহযোগিতার প্রশংসা করেন, যদিও ক্রেমলিন ভবিষ্যতে এমন আরেকটি অভিযান পরিকল্পনা না করার কথা জানিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও ২ নভেম্বর জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আলোচনার পরবর্তী রাউন্ড আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় কিয়েভ ও ইউরোপের মিত্র দেশগুলো ট্রাম্পের মস্কোর প্রতি ঝুঁকে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

যুদ্ধবিরতি ভেঙে দিয়ে রাশিয়ার আক্রমণ: ইউক্রেনে ২৬ জনের মৃত্যু

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশের সংঘর্ষ, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ

মিরপুরে ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০ টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের প্রতিবাদে পুলিশের সঙ্গে ধারাবাহিক ধাওয়াপাল্টা ঘটনা ঘটেছে; নিরাপত্তা রক্ষার জন্য মিরপুর-১১ নং মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।বুধবার (৩ নভেম্বর) সকালবেলা মিরপুর-১১ নং এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানায়, তবে দ্রুতই পুলিশ সঙ্গে টানাপোড়েনের পরিণতি ঘটে। উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও শারীরিক সংঘর্ষের সূত্রপাতের পর, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বিবেচনা করে স্টেশনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম নিশ্চিত করেছে যে, স্টেশনটি বর্তমানে কোনো ট্রেন থামাচ্ছে না এবং যাত্রীদের ওঠা-নামা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। অন্য মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়ে গেছে। কন্ট্রোল রুমের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিরপুর-১১ নং স্টেশন দ্রুতই পুনরায় চালু করা হবে।এই ঘটনার পটভূমিতে দেশের শ্রমিক অধিকার ও ন্যূনতম মজুরি সংক্রান্ত চলমান আলোচনা রয়েছে, যেখানে শ্রমিক সংগঠনগুলো উচ্চতর মজুরি ও কাজের শর্ত উন্নত করার দাবি তুলে ধরছে। একই সঙ্গে, শহরের জনপরিবহন নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশের হস্তক্ষেপও অপরিহার্য বলে সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়।অধিকাংশ বিশ্লেষক মত দেন, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা উভয়েরই সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজা জরুরি, যাতে জনসাধারণের চলাচল ও শহরের অবকাঠামোতে প্রভাব না পড়ে। পরিস্থিতি শিথিল হলে মিরপুর-১১ নং স্টেশন পুনরায় চালু হবে, এবং কর্মী ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতার পথ খোঁজা হবে।

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশের সংঘর্ষ, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ

ভাতা-মজুরির দাবিতে উত্তাল রাজধানীর আশুলিয়া

সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি ও ভাতা বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে উত্তাল হয়ে উঠেছে আশুলিয়া এছাড়াও অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় অসন্তোষের ঢেউ বয়ে গিয়ে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদে রূপ নেয়।প্রতিবাদকারীরা টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। নরসিংহপুর, জামগড়া এবং আশুলিয়া সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফা-দফা সংঘর্ষ দেখা যায়।অভিযুক্তদের মধ্যে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে, আর অজানা কয়েকশ ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান জানান, নাশকতার সঙ্গে জড়িতরা সাধারণ শ্রমিক নয় এবং তাদের সম্পর্কে পুলিশ ইতিমধ্যে তথ্য সংগ্রহ করেছে।বিপদের তীব্রতা বিবেচনা করে সাভার ও আশুলিয়া থানায় পৃথক মামলা দায়েরের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে এবং নাশকতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।বৈধ দাবি মেটাতে শ্রমিকদের চাপ কমাতে, অধিকাংশ পোশাক কারখানা কর্মীদের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। মোট ২৬৪টি কারখানায় কাজ বন্ধের আদেশ জারি করা হয়, যা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্প উৎপাদনে সাময়িক প্রভাব ফেলবে। পরিস্থিতি শীতল করতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভাতা-মজুরির দাবিতে উত্তাল রাজধানীর আশুলিয়া

ঝোপের গর্ত থেকে নবজাতক শিশু উদ্ধার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি মহাসড়কের পাশে ঝোপের গর্ত থেকে এক দিনের নবজাতক কন্যাশিশু উদ্ধার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় পাইন্দং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতল স্থানে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ তৈয়ব জানান, রাস্তায় কান্নার শব্দ শোনার পর গাছের গর্তের মধ্যে পাতা দিয়ে ঢাকা শিশুটিকে দেখেন।দ্রুত লোকজনের সমবেত হওয়ার পর পুলিশকে জানানো হয়। ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান জানান, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল শিশুটিকে গর্ত থেকে বের করে হেফাজতে নিয়ে এসেছে।শিশুটির বয়স এক দিনও পূর্ণ হয়নি বলে অনুমান করা হচ্ছে এবং বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে নিরাপদে রয়েছে। ওসি আরও জানিয়েছেন, শিশুটিকে কে বা কারা ফেলে দিয়েছে তা তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝোপের গর্ত থেকে নবজাতক শিশু উদ্ধার