যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায় এবং থানার সামনে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগে ঝিকরগাছা থানার এএসআই আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
মামলায় অজ্ঞাত আরও ৪-৫জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার মামলাটি করেছেন উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকার মৃত মোজাফ্ফরের ছেলে আসাদুজ্জামান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদীর ভাইকে গ্রেপ্তারের পর ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা দাবি করা হয়। পরে টাকা নেওয়ার পরও আরও অর্থ দাবি এবং মারধরের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারক মামলাটি তদন্ত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম এন্স অপস) কে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, গত ২৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৩টার দিকে এএসআই আশরাফুল আলম অন্যদের সঙ্গে নিয়ে বাদীর বাড়িতে যান। এ সময় বাদীর সেজো ভাই মো. রেজাউল করিমকে খুঁজতে থাকেন।
তাঁকে বাড়িতে না পেয়ে বাদীর কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। আসামিরা তাকে বলেন, সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ১০ হাজার টাকা ব্যবস্থা করে দিতে হবে। টাকা না দেয়ায় পরদিন ২৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টায় ভাই রেজাউল করিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে আসাদুজ্জামানের কাছে কল আসে।
তিনি জানতে পারেন, তার ভাইকে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পরে ভাইয়ের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিতে তিনি থানায় যান।
সেখানে ডিউটি অফিসারের কক্ষের সামনে থেকে তাকে হাজতখানার সামনে নিয়ে যান এএসআই আশরাফুল আলম। এ সময় তার বাম পকেট থেকে নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয় এবং আরও ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য বলা হয় তাকে। ভাইয়ের মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন আটকে রাখা হয়।
মানিব্যাগ দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। পরে থানা থেকে বের হওয়ার সময় মানিব্যাগটি নিচে পড়ে গেলে সেটি তুলতে যাওয়ার মুহূর্তে তাকে সজোরে থাপ্পড় মারেন এএসআই আশরাফুল আলম এবং ভয়ভীতি দেখান।
পুরো ঘটনা থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করেছেন।
মতামত