দৈনিক আদ্যোপান্ত
Topic Ads 1
জামায়াত নেতা’র মেয়ের সঙ্গে প্রেমের কারণে গাছে বেঁধে রাতভর নির্যাতন

জামায়াত নেতা’র মেয়ের সঙ্গে প্রেমের কারণে গাছে বেঁধে রাতভর নির্যাতন

রংপুরের পীরগঞ্জ টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি গ্রামে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে রাতভর নির্যাতন করার অভিযোগে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী নেতার মেয়ে ও তার সহকর্মীরা অভিযুক্ত। ঘটনাটি গত শনিবার রাত ১০টার দিকে ঘটেছে এবং সামাজিক মাধ্যমের ভিডিওতে ভাইরাল হয়ে পুরো উপজেলায় ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের মতে, টুকুরিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত সহসভাপতি আতাউর মাস্টার তার মেয়ের (একজন দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী) এবং একই বিদ্যালয়ের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাজিদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। সন্দেহের ভিত্তিতে রাত ৯টায় আতাউর মাস্টার ও তার দল সাজিদকে গ্রেফতার করে গাছে রশি দিয়ে বাঁধে এবং লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে। কিশোরটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে জামায়াত নেতার স্বজন ও কয়েকজন নারী সদস্য তাকে মারধর করে।সাজিদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আতাউর মাস্টার ও তার সহযোগীরা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাদের তাড়িয়ে দেয়। পরের দিন ভোরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ডেকে এসে কিশোরকে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। শিকারের মুখে কাঁদতে কাঁদতে জানায়, মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে সারা রাত গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে।অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আতাউর মাস্টার বলেন, "ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি সহ আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি" এবং মারধরের বিষয়ে যোগ করেন, "একটু শাসন করা হয়েছে"। অন্যদিকে টুকুরিয়া ইউনিয়নের জামায়াত সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন জানান, "আমি বিষয়টি জানতে পেরে রাতে সেখানে গিয়েছিলাম, পরে অসুস্থ বোধ করে চলে আসি"।নির্যাতিত কিশোরের স্বজনরা উল্লেখ করেন, জামায়াত নেতা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তারা হুমকির মুখে রয়েছে এবং কেউ প্রকাশ্যে নাম প্রকাশ করতে চাননি। পীরগঞ্জ থানা ওসি নজমুল হক জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্র তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রংপুরে মাদ্রাসা শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় বেসরকারি মাদ্রাসা শিক্ষক ফকরুল আলম রতন (৫০) কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি সোমবার বিকেলে বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিচরণ লস্কর গ্রামে ঘটে। তিনি রতন গ্রামের মতিয়ার রহমান তৌসিলদারের ছেলে।স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রতনের ওপর পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হামলা চালায়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুতই কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, যেখানে উপস্থিত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পুলিশের মতে, রতন ও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির মধ্যে আধিপত্য, জমি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরই এমন দিকে ধাবিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।কাউনিয়া থানার ওসি বাদল চন্দ্র মণ্ডল উল্লেখ করেন, "প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জেরই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।" লাশটি উদ্ধার করে রমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করার প্রচেষ্টা চলছে।

রংপুরে মাদ্রাসা শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা