ইরানের নতুন কৌশল হরমুজে জাহাজডুবি
হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক জাহাজডুবি ঘটতে থাকায় ইরানের সামরিক কৌশল পরিবর্তনের সন্দেহ বাড়ছে। গত কয়েক দিনে তেলবাহী ট্যাঙ্কার থেকে কন্টেইনার জাহাজ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরণের নৌযান অগ্নিকাণ্ড ও ডুবে যাওয়ার সম্মুখীন হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক শিপিং রুটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ উস্কে দিয়েছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করার সময় গত বৃহস্পতিবার ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন লেগে যায়। সামরিক বাহিনীর একটি বিবৃতি অনুযায়ী, ট্যাঙ্কারটি তার অবস্থান শনাক্তের ব্যবস্থা বন্ধ করে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল, ফলে দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে আগুনের মূল কারণ ও দায়ী পক্ষ এখনো স্পষ্ট হয়নি।ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গতকাল বলেছেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটি এখন সবচেয়ে তীব্র প্রতিকূলতার মুখে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জনগণকে বিক্ষোভের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যকে 'জনগণকে ক্ষুব্ধ করে সামাজিক বিক্ষোভ সৃষ্টি করা' বলে সমালোচনা করেন, যা তেহরানের দৃষ্টিতে মার্কিন নির্বাচনের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপে ফেলার কৌশল।হরমুজের নিকটে গত মঙ্গলবার একটি কন্টেইনার জাহাজ ও একটি ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার ডুবে যায়। রয়টার্সের সূত্রে জানা যায়, উভয় জাহাজে পৃথকভাবে প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছিল। সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘জিএফএস প্রাইড’ (ধারণক্ষমতা ২,৮২৪ টিইইউ) প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় আক্রমণের শিকার হয়ে আগুনে পুড়ে ডুবে যায়; এতে থাকা ২১ জন ক্রু নিরাপদে উদ্ধার হয়। একই সময়ে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ ডাও’ জাহাজেও প্রজেক্টাইল আঘাতের ফলে ডুবে যায়, যার মধ্যে এক ক্রু সদস্য নিহত হয়।ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO) জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের অবস্থা তৈরি হয়েছে। এই সময়ে হরমুজে ঘটিত জাহাজডুবির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গ্লোবাল তেল মূল্যের উর্ধ্বমুখী প্রবণতায় প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘটনায় কোনো মন্তব্য করেনি।বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, হরমুজের মতো কৌশলগত প্রণালিতে ধারাবাহিক আক্রমণ আন্তর্জাতিক শিপিং রুটের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলবে এবং বাণিজ্যিক নৌচলাচলকে ব্যাহত করতে পারে। এদিকে, ইরান এই কৌশলকে তেল মূল্যের বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।