দৈনিক আদ্যোপান্ত
Topic Ads 1
মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে আহত শ্রমিক তৌফিকের মৃত্যু

মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে আহত শ্রমিক তৌফিকের মৃত্যু

গাজীপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে আঘাতপ্রাপ্ত ২২‑বছরের গার্মেন্টস কর্মী তৌফিক শেখ শিন শিন জাপান হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যু শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকার সংক্রান্ত প্রশ্ন তীব্রতর করেছে।তৌফিক শেখ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা । তিনি তবিবর রহমান তবির পুত্র এবং গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় বসবাস করতেন। তৌফিক লায়লা গার্মেন্টসে চাকরি করতেন এবং একই সঙ্গে ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ২০২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি এক বন্ধুর মাধ্যমে গার্মেন্টস শিল্পে কর্মসংস্থান পেয়েছিলেন।সোমবার থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানায় মজুরি বৃদ্ধি দাবিতে কর্মীরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছিল। তৌফিকের বড় ভাই হারুন মিয়া জানান, তৌফিক আন্দোলনের দৃশ্য মোবাইল ফোনে রেকর্ড করার চেষ্টা করছিলেন; তখনই কিছু অপরিচিত ব্যক্তি তার ওপর আক্রমণ করে চড়া ও বেধড়ক মারপিট করে। আঘাতের পর শ্রমিক সহকর্মীরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে শিন শিন জাপান হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে তার মৃত্যু ঘটে।গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মো. মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, তৌফিকের দেহ রাত ১০টার দিকে গ্রাম বাড়িতে পৌঁছেছে এবং বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ছয়ঘরিয়া গ্রামে জানাজা হবে, পরে কবরস্থানে দাফন করা হবে। কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন উল্লেখ করেন, এক কারখানা বন্ধ করার জন্য বহিরাগত লোকজনের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে তৌফিকের মতো কর্মী গুরুতর আঘাত পেয়েছেন; ঘটনার সময় সেখানে কোনো পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।

ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার সার্ভেয়ার আসাদুল কারাগারে

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মঙ্গলবার লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. আসাদুল ইসলামকে এক লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর দুদক আদালতে আবেদন করে, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদের আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসাদুল ইসলাম নির্ধারিত কক্ষে এক ব্যক্তি থেকে ঘুষের টাকা গ্রহণের পর তা ডান পাশের সাইড টেবিলের দ্বিতীয় তাকের খাকি রঙের খামে লুকিয়ে রাখেন। টাকার নম্বর ও অভিযোগকারীর দেওয়া টাকার নম্বরের সম্পূর্ণ মিল পাওয়া যায়, ফলে ঘুষের স্বীকারোক্তি ও টাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। দুদক দণ্ডবিধি ধারা ১৬১ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭‑এর ধারা ৫(২) অনুসারে মামলাটি দায়ের করে।ঘুষের পেছনে মূল অভিযোগটি ছিল অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মো. মনিরুল ইসলামকে জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য নকশা তৈরির কাজে সহায়তা করা। মনিরুল ২৮২ শতাংশ জমির জন্য নিবন্ধিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়েছিলেন এবং সীমানা নির্ধারণের কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় লালবাগ রাজস্ব সার্কেলে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। এক পর্যায়ে তাকে সার্ভেয়ার আসাদুলের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়, যার ফলে আসাদুল ৮০ লাখ টাকার ঘুষ দাবি করেন। মনিরুলের জানার পর দুদক বিষয়টি যাচাই করে ফাঁদ অভিযান চালায়।অভিযানের শেষ পর্যায়ে, ঘুষ গ্রহণের মুহূর্তে দুদকের দল হাতেনাতে আসাদুলকে আটক করে এবং এক লাখ টাকা উদ্ধার করে। এরপর আদালতে হাজির হয়ে কারাবাসের আবেদন দাখিলের পর, বিচারিক আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এই ঘটনা সরকারের দুর্নীতি বিরোধী প্রচেষ্টার নতুন উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার সার্ভেয়ার আসাদুল কারাগারে

স্ত্রীর পাশেই দাফন ছেলের, কেঁদে কেঁদে বললেন ‌‘মাফ করে দিলাম’

যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধে মাকে হত্যা করা ৪৫ বছর বয়সী মামুনুর রশিদের মৃত্যু এবং তার পিতার আলতাফ হোসেনের ক্ষমা অনুরোধ শোকের পরিবেশে গুঞ্জর তুলেছে।মামুনুর রশিদ, ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক। ২৭ আগস্ট তার ৫৮ বছর বয়সী মা আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তীব্র তর্কে উত্তেজিত হয়ে ধারালো বঁটি দিয়ে তাকে কোপ দেন। চিৎকার শোনার পর প্রতিবেশীরা ত্বরাত্বর ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, মা মারা গেলেও মামুন পালিয়ে যায়। পরদিনই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়।কারাগারে বন্দি অবস্থায় ২৮ অক্টোবর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মামুন যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টায় তার মৃত্যু হয়।মৃত্যুর পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে, সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশের পাহারায় মামুনের মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়। জানাজার আগে পিতার আলতাফ হোসেন এবং বড় ভাই প্রভাষক মঞ্জুর হাসান গ্রামবাসীদের কাছে ছেলেটিকে ক্ষমা চেয়ে অনুরোধ করেন। জানাজা আঞ্জুমানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শত শত লোক উপস্থিত ছিলেন।মামুনের বাবা আলতাফ হোসেন জানান, তার দুইটি বিয়ে ছিল এবং দু'টি দাম্পত্য কলহের ফলে তিনি মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়েছিলেন। তিনি তার সন্তানকে মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন, তবে চিকিৎসা শেষ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসার পরই মায়ের সঙ্গে তর্কে গিয়ে হত্যার কাজটি করে ফেলেন।কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলতাফ হোসেন বলেন, “তুচ্ছ ঘটনার ফলে আমি স্ত্রী ও সন্তান দুজনই হারিয়েছি। যদিও প্রথমে ক্ষোভ ছিল, তবে সে আমার ছেলে, তাই আমি তাকে মাফ করেছি। সৃষ্টিকর্তার কাছে সবাইকে ক্ষমা করার অনুরোধ করছি।”স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানি মন্তব্য করেন, “মামুনের হাতে মা খুনের ঘটনা গ্রামকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তবে তার মৃত্যুর পর মানুষ তার মরদেহকে ঘিরে একত্রিত হয়ে ক্ষমার পরিবেশ তৈরি করেছে। মায়ের কবরের পাশে ছেলেকে দাফন করা পরিবারিক ইচ্ছা অনুযায়ী হয়েছে।”যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলা অধিকারী আবিদ আহমেদ জানান, “মামুনের মরদেহ সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কারাগারে তার সময়কাল জুড়ে তিনি শান্ত স্বভাবের ছিলেন।”

স্ত্রীর পাশেই দাফন ছেলের, কেঁদে কেঁদে বললেন ‌‘মাফ করে দিলাম’

সরকারি এলপিজির দাম বাড়লো দ্বিগুণের বেশি

সরকারি এলপি গ্যাসের সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১,৮৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর আজ রাত ৮টার পর থেকে কার্যকর হয়েছে, যা পূর্বের দামের দ্বিগুণের বেশি।বিইআরসি গত ২৯ অক্টোবর এলপিজি দামের বৈষম্য নিয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বেসরকারি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১,৮৩৭ টাকা, আর সরকারি সিলিন্ডারের দাম মাত্র ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা হওয়ায় বাজারে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ শোনা যায়। টেকনিক্যাল কমিটি ও ভোক্তাদের পক্ষ থেকে দুই ধরনের এলপিজির দাম সমান করার প্রস্তাব দেওয়া হয়, তবে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি এলপি গ্যাস লিমিটেড কিছুটা কম দাম রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে।প্রথমবারের মতো ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল ক্যাবের করা রিটের পর বিইআরসি এলপিজি দাম নির্ধারণ শুরু করে। বেসরকারি এলপিজি প্রায় ৯৯% আমদানিনির্ভর এবং সৌদি আরামকোর চুক্তিমূল্য বা সিপিকে ভিত্তি করে মাসিক দামের সমন্বয় করা হয়। অন্যদিকে, সরকারি এলপিজি ‘না লোকসান, না মুনাফা’ ফর্মুলা অনুসরণ করে, যেখানে দেশীয় গ্যাসের তুলনামূলক কম দামে ক্রয় করা হয়। ২০২৫ সালে সিলিন্ডারের দাম ৯২৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদনও করা হয়েছিল।এলপি গ্যাস লিমিটেডের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ১২,৭২৩ মেট্রিক টন এলপিজি বিক্রি করেছে, যার মধ্যে সেনাবাহিনীর জন্য ৭২২ টন বাল্ক আকারে সরবরাহ করা হয়েছে। করপূর্ব মুনাফা ১০ কোটি ২ লাখ টাকা, ডব্লিউপিপিএফ ও আয়কর পরিশোধের পর নিট মুনাফা ৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।বিইআরসির নতুন প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী, বাড়তি দামের অংশ থেকে এলপিজি উন্নয়ন তহবিল গঠন করা হবে। প্রতি সিলিন্ডার থেকে ১,৪ টাকা ৭ পয়সা আলাদা করে তহবিলে জমা হবে এবং এই তহবিলের জন্য পৃথক হিসাব খোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি এলপিজি সামান্য বেশি দাম পাবে, তবে তহবিলের মাধ্যমে সেক্টরের অবকাঠামো ও সেবা উন্নয়নে সহায়তা আশা করা হচ্ছে।দাম বৃদ্ধির ফলে ভোক্তাদের আর্থিক চাপ বাড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশিত হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এলপিজি শিল্পের স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য এই পদক্ষেপকে সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

সরকারি এলপিজির দাম বাড়লো দ্বিগুণের বেশি

পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, ৪ মামলায় আসামি পনেরো হাজার

রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০,০০০ টাকা করার দাবিতে টানা দুদিনের প্রতিবাদে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর আক্রমণ এবং ট্রাফিক বক্স ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই বিশৃঙ্খলার পরিণতিতে চারটি অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে মোট পনেরো হাজার (১৫,০০০) ব্যক্তিকে অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।রবিবার সকালে (১ নভেম্বর) মিরপুর‑১০ নম্বর মোড়ে শুরু হয় আন্দোলন। পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং ১১ টার দিকে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হয়। পুলিশ লাঠিপেটা, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানেগ্যাস ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে চেষ্টা করে এবং অপর দিকে শ্রমিকরা ইট‑পাটকেল নিক্ষেপ করে। দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে এবং মিরপুর‑১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ফলে মিরপুর‑১০, ১১ ও পল্লবী মেট্রো স্টেশন ১১ঃ৩৮ টা থেকে ১ঃ৫৮ টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়।মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান জানান, ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর আক্রমণের জন্য একটি মামলা দায়ের হয়েছে; এতে ৩,০০০ জনকে অজ্ঞাত হিসেবে অপরাধী করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ছয়জন গ্রেফতার করা হয়েছে। পল্লবী থানা ওসি জালাল উদ্দিন তিনটি অতিরিক্ত মামলার কথা জানান, যেখানে অগ্নিসংযোগ, সরকারি কাজে বাধা এবং ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে; প্রতিটি মামলায় ২,০০০‑২,৫০০ জনকে অপরাধী তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং মোট ১৬ জন গ্রেফতার হয়েছে।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিবি) বলেছে, শ্রমিকদের বৈধ দাবিকে কাজে লাগিয়ে মিরপুরে সহিংসতা সৃষ্টির পরিকল্পনা কিছু কার্যকরী না হওয়া আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা করেছে। তারা অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে আন্দোলনের আড়ালে বৃহৎ নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল।গ্রেফতার হওয়া ১১ জনের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী অন্তর্ভুক্ত; এরা মূলত স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নয়, বরং বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে সমবেত হয়েছিল।সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১১ টার দিকে সেনপাড়া পর্বতা এলাকার গলি ও মিরপুর‑২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশের প্রশিকা মোড়ে শ্রমিকরা আবার সড়কে নামার চেষ্টা করে। পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে, তীব্র ধাক্কা ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।মিরপুর‑১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় সকালবেলা থেকে দাঙ্গা দমনকারী গাড়ি, জলকামানসহ বিভিন্ন রাইফল প্রস্তুত রাখা হয়। তবে সকাল ১০:৩০ টার দিকে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং কোনো বড় বিঘ্ন দেখা যায়নি।সচিবালয়ের পোশাকশিল্প বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, শিল্পমালিক ও কিছু শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে থাকা ব্যক্তিরা অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত। তাদের ভিডিও, অডিও ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রকৃত শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠনের নেতা তাদের কর্মসংস্থান হারাতে চান না; তাই বর্তমান অস্থিরতায় প্রকৃত শ্রমিকদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।মিরপুরে দুই দিনের হিংসাত্মক প্রতিবাদের পর পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান বজায় রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ২২ জন গ্রেফতার হয়েছে, তবে অজ্ঞাত হিসেবে তালিকাভুক্ত সাড়ে দশ হাজারের মধ্যে আরও গ্রেফতার ও তদন্ত চলমান। সরকার শ্রমিক আন্দোলনের নামে কোনো হিংসা ঘটলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, ৪ মামলায় আসামি পনেরো হাজার

হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হামের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে মোট মৃতের সংখ্যা ১,২১৪-তে পৌঁছেছে।একই সময়ে হামের উপসর্গে আক্রান্ত নতুন শিশুর সংখ্যা ১,১৩৫-এ বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত করা হয়েছে ২৫ শিশুরে, আর হামের উপসর্গে চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে ১,১১০ শিশুকে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ১,১০৩ শিশু, আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগে মারা গেছে অতিরিক্ত ১০৪ শিশু। ফলে মোট হামের উপসর্গে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা ১,২০৭, আর হাম রোগে নিশ্চিতভাবে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা ১,১০৪।দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ২,১৮,৭০৮ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগী ২৩,২৭৩ জন। মোট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১,৯৪,৬৩৩, যার মধ্যে ১,৮৬,৭৯৮ রোগী চিকিৎসা শেষ করে বাড়ি ফিরে গেছেন।

হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

আকিজ গ্রুপে চাকরি, থাকছে যেসব সুবিধা

আকিজ গ্রুপের আইটি সাপোর্ট বিভাগে ২২ অক্টোবর থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার পদে নতুন জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদন গ্রহণ ৩০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে এবং ইচ্ছুক প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।প্রতিষ্ঠানটি কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএসসি) ডিগ্রিধারী, ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সের এবং কমপক্ষে এক থেকে দুই বছরের প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন উভয় লিঙ্গের প্রার্থীদের আবেদন স্বাগত জানাচ্ছে। নির্বাচিত প্রার্থীরা পূর্ণকালীন (ফুলটাইম) অফিসে কাজ করবেন এবং হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম, নেটওয়ার্ক, সিসিটিভি, বায়োমেট্রিক ডিভাইস ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি নির্ণয় ও সমাধানে কাজ করবেন।বেতন আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে, তবে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, দুপুরের খাবার সুবিধা, বছরে দুইটি উৎসব বোনাস, প্রিভিলেজ লিভ এবং হাসপাতালে ভর্তি সহায়তা ইত্যাদি বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করা হবে।আবেদন প্রক্রিয়া এবং পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি দেখতে আগ্রহী প্রার্থীরা আকিজ গ্রুপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। এই নিয়োগটি ঢাকার কর্মস্থলে ভিত্তিক এবং উভয় লিঙ্গের জন্য উন্মুক্ত, যা তরুণ আইটি পেশাজীবীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার সুযোগ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।আকিজ গ্রুপের এই পদে যোগদান করলে প্রাথমিক বেতন ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তা এবং কর্মজীবনের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা প্যাকেজ পাওয়া যাবে, যা চাকরি সন্ধানকারীদের দৃষ্টিতে এটিকে একটি মূল্যবান বিকল্প করে তুলেছে।

আকিজ গ্রুপে চাকরি, থাকছে যেসব সুবিধা