দৈনিক আদ্যোপান্ত

দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে



দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় একটি আবাসিক মাদরাসায় তৃতীয় শ্রেণির দুই কন্যা শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা পরিচালক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে।

পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে নিজ বাড়িতে এই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি আব্দুর রহমান। বর্তমানে এখানে মোট ৬৫ জন ছাত্রী রয়েছে, যার মধ্যে ৫৫ জন আবাসিক। শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন।

জানা যায়, বিকেলের দিকে বিভিন্ন সময় তাদের আলাদাভাবে পরিচালকের কক্ষে ডেকে নেওয়া হতো। সেখানে শরীর ও হাত-পা টিপে দেওয়ার কথা বলে জামা ও পায়জামার ভেতরে হাত দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ করা হতো। এসব কথা কাউকে না বলার জন্য মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। এক ছাত্রীকে জোর করে বিছানায় শুয়ানোর চেষ্টা করা হলে সে কৌশলে পালিয়ে আসে বলেও পরিবার জানিয়েছে।

শিশুদের মা জানান, মাদরাসা থেকে বাড়ি ফিরলে মেয়েরা আর সেখানে যেতে চাইতো না। এর আগে কোচিং না করার অভিযোগে তাদের মারধর করা হলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তখন তিনি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি। পরে ১৯ অক্টোবর এক শিশুর পায়ে পেরেক ফুটলে মেয়েরা বাড়িতে এসে সব ঘটনা জানায়।

শিশুদের পিতা সানোয়ার জানান, গত বছর মাদরাসায় ভর্তি করানোর তিন-চার মাস পর থেকেই এই নিপীড়ন চলে আসছে বলে মেয়েরা তাকে জানিয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাত্রীরা দুষ্টু প্রকৃতির হওয়ায় তাদের মাদরাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরিবারকে দ্রুত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দৈনিক আদ্যোপান্ত

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় একটি আবাসিক মাদরাসায় তৃতীয় শ্রেণির দুই কন্যা শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা পরিচালক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে।

পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে নিজ বাড়িতে এই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি আব্দুর রহমান। বর্তমানে এখানে মোট ৬৫ জন ছাত্রী রয়েছে, যার মধ্যে ৫৫ জন আবাসিক। শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন।

জানা যায়, বিকেলের দিকে বিভিন্ন সময় তাদের আলাদাভাবে পরিচালকের কক্ষে ডেকে নেওয়া হতো। সেখানে শরীর ও হাত-পা টিপে দেওয়ার কথা বলে জামা ও পায়জামার ভেতরে হাত দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ করা হতো। এসব কথা কাউকে না বলার জন্য মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। এক ছাত্রীকে জোর করে বিছানায় শুয়ানোর চেষ্টা করা হলে সে কৌশলে পালিয়ে আসে বলেও পরিবার জানিয়েছে।

শিশুদের মা জানান, মাদরাসা থেকে বাড়ি ফিরলে মেয়েরা আর সেখানে যেতে চাইতো না। এর আগে কোচিং না করার অভিযোগে তাদের মারধর করা হলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তখন তিনি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি। পরে ১৯ অক্টোবর এক শিশুর পায়ে পেরেক ফুটলে মেয়েরা বাড়িতে এসে সব ঘটনা জানায়।

শিশুদের পিতা সানোয়ার জানান, গত বছর মাদরাসায় ভর্তি করানোর তিন-চার মাস পর থেকেই এই নিপীড়ন চলে আসছে বলে মেয়েরা তাকে জানিয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাত্রীরা দুষ্টু প্রকৃতির হওয়ায় তাদের মাদরাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরিবারকে দ্রুত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



দৈনিক আদ্যোপান্ত



কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত
দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে
0:00 0:00
1.0x